জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
কলয়েড প্রকৃতির একটি উপাদান যা জীবদেহের গাঠনিক উপাদান হিসাবে কাজ করে। অন্য একটি জৈব পদার্থ যা উদ্ভিদদেহের কোষপ্রাচীরের মূল গাঠনিক উপাদান হিসাবে ভূমিকা রাখে।
- ক)(1)
কো-এনজাইম কী?
- খ)(2)
কলেরা আক্রান্ত রোগীর ডিহাইড্রেশন দেখা দেয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় উপাদানটির গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
জীবদেহে প্রথম উপাদানটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এনজাইমের অ-প্রোটিন অংশটি যখন জৈব রাসায়নিক উপাদান (যেমন- বিভিন্ন ভিটামিন ডেরিভেটিভ) হয় এবং প্রোটিন অংশের সাথে ঢিলেঢালাভাবে যুক্ত থাকে, তখন তাকে কো-এনজাইম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কলেরা রোগের জীবাণু ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) মানব অন্ত্রে প্রবেশ করে এন্টেরোটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ ক্ষরণ করে। এই টক্সিনের প্রভাবে অন্ত্রের এপিথেলিয়াল কোষ থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটস (যেমন- সোডিয়াম, ক্লোরাইড) অন্ত্রের গহ্বরে নির্গত হতে থাকে। এর ফলে রোগীর পাতলা পায়খানা ও বমি হয়, যার কারণে শরীর থেকে দ্রুত অত্যধিক পানি ও লবণ বেরিয়ে যায় এবং রোগীর দেহে মারাত্মক ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় উপাদানটি হলো উদ্ভিদদেহের কোষপ্রাচীরের মূল গাঠনিক উপাদান অর্থাৎ সেলুলোজ (Cellulose)।
সেলুলোজের গঠন নিম্নরূপ:
১. সেলুলোজ একটি জটিল পলিস্যাকারাইড, যা বহুসংখ্যক β-D-গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত। এর রাসায়নিক সংকেত (C6H10O5)n।
২. সেলুলোজ শিকলে একটি β-D-গ্লুকোজের ১ নম্বর কার্বনের সাথে অপর একটি β-D-গ্লুকোজের ৪ নম্বর কার্বন β-১,৪-গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে। এভাবে প্রায় ৩০০ থেকে ৩০০০ বা তারও বেশি β-D-গ্লুকোজ অণু সরল ও শাখাহীন দীর্ঘ শিকল তৈরি করে।
৩. প্রায় ১০০টি সেলুলোজ চেইন সমান্তরালভাবে হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি ক্রিস্টালাইন মাইসেলি (Micelle) গঠন করে। মাইসেলিকে কোষপ্রাচীরের ক্ষুদ্রতম গাঠনিক একক ধরা হয়।
৪. প্রায় ২০টি মাইসেলি মিলিত হয়ে একটি মাইক্রোফাইব্রিল এবং প্রায় ২৫০টি মাইক্রোফাইব্রিল একত্রিত হয়ে একটি ম্যাক্রোফাইব্রিল তৈরি করে। অনেকগুলো ম্যাক্রোফাইব্রিল একত্রিত হয়ে উদ্ভিদদেহের কোষপ্রাচীর গঠন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কয়েলয়েড প্রকৃতির প্রথম উপাদানটি হলো প্রোটিন (Protein), যা জীবদেহের অন্যতম প্রধান গাঠনিক উপাদান।
জীবদেহে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম:
১. গাঠনিক ভূমিকা: জীবদেহের কোষের প্রোটোপ্লাজম, সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু (যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি) এবং কোষঝিল্লির প্রধান উপাদান প্রোটিন। তাছাড়া চুল, নখ, শিং, পালক (কেরাটিন) এবং অস্থি ও পেশিতন্তুর (কোলাজেন, অ্যাকটিন, মায়োসিন) গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
২. জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ: জীবদেহের প্রায় সব এনজাইমই প্রোটিন। এনজাইম ছাড়া দেহের কোনো বিপাকীয় বা শারীরবৃত্তীয় কাজ (যেমন- শ্বসন, সালোকসংশ্লেষণ, পরিপাক) সম্পন্ন হতে পারে না।
৩. রোগ প্রতিরোধ: ক্ষতিকর জীবাণু ও বহিরাগত বস্তুর হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করার জন্য গঠিত অ্যান্টিবডি মূলত ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামক প্রোটিন।
৪. সংবহন ও পরিবহন: রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য হিমোগ্লোবিন এবং অন্যান্য পদার্থ পরিবহনে বিভিন্ন প্লাজমা প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. শারীরবৃত্তীয় নিয়ন্ত্রণ: বিভিন্ন হরমোন (যেমন- ইনসুলিন) প্রোটিন প্রকৃতির, যা দেহের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. শক্তির উৎস: কার্বোহাইড্রেট ও লিপিডের ঘাটতি দেখা দিলে প্রোটিন জারিত হয়ে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
সুতরাং, গঠনগত এবং শারীরবৃত্তীয় সার্বিক দিক থেকে জীবদেহে প্রোটিনের গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও