জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সাইন্যাপসিস কী?

    (1)
  2. খ)

    জেনেটিক কোডকে ট্রিপলেট কোড বলা হয় কেন ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত ‘B’ এর গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের D প্রক্রিয়ার জৈবিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মায়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ পর্যায়ের জাইগোটিন উপ-পর্যায়ে দুটি হোমোলোগাস (সমসংস্থ) ক্রোমোজোমের মধ্যে যে জোড় সৃষ্টি হয়, তাকে সাইন্যাপসিস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জেনেটিক কোড হলো নিউক্লিক অ্যাসিডে অবস্থিত নাইট্রোজেনাস ক্ষারকের এমন এক ধরনের বিন্যাস, যা নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকেত বহন করে। mRNA অণুতে পরপর তিনটি নাইট্রোজেনাস বেস বা নিউক্লিওটাইড একত্রে মিলে একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকেত প্রকাশ করে। তিনটি ক্ষারকের সমন্বয়ে একটি কার্যকরী কোড গঠিত হয় বলেই জেনেটিক কোডকে ট্রিপলেট (Triplet) কোড বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, AUG একটি ট্রিপলেট কোড যা মিথিওনিন অ্যামিনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'B' চিত্রটি হলো tRNA (ট্রান্সফার আরএনএ)-এর ক্লোভার-লিফ মডেল। রবার্ট হলি (Robert Holley) ১৯৬৪ সালে এর গঠন প্রস্তাব করেন।

    tRNA-এর গঠন বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
    ১. বাহু ও ফাঁশ (Arms and Loops): tRNA একটি একক সূত্রক RNA হলেও এটি ভাঁজ হয়ে ক্লোভার পাতার ন্যায় আকার ধারণ করে। এতে প্রধানত পাঁচটি অংশ বা বাহু বিদ্যমান:
    ক. অ্যামিনো অ্যাসিড গ্রাহক বাহু (Amino Acid Acceptor Stem): এর ৩' প্রান্তে সর্বদাই -CCA বেস ক্রম থাকে, যেখানে নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড যুক্ত হয় এবং ৫' প্রান্তে গুয়ানিন (G) থাকে।
    খ. ডিহাইড্রোইউরিডিন লুপ বা D-লুপ (D-arm/loop): এটি অ্যামিনোঅ্যাসাইল-tRNA সিন্থেটেজ এনজাইম চিনতে সাহায্য করে।
    গ. অ্যান্টিকোডন বাহু ও লুপ (Anticodon arm/loop): এই লুপের শীর্ষে তিনটি নির্দিষ্ট নাইট্রোজেনাস বেসের একটি সিকোয়েন্স থাকে, যা mRNA-এর সম্পূরক কোডনের সাথে ক্ষারক জোড় গঠন করে।
    ঘ. অতিরিক্ত বাহু (Variable arm): এটি T-লুপ এবং অ্যান্টিকোডন লুপের মাঝে অবস্থিত একটি পরিবর্তনশীল ক্ষুদ্র বাহু।
    ঙ. টি-সাই-সি লুপ (TΨC loop): এতে সিউডোইউরিডিন থাকে এবং এটি রাইবোজোমের সাথে tRNA-কে যুক্ত করতে ভূমিকা রাখে।
    ২. নিউক্লিওটাইড সংখ্যা: একটি tRNA অণুতে সাধারণত ৭৩ থেকে ৯৩টি রাইবোনিউক্লিওটাইড থাকে। এটি প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় উপযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডকে রাইবোজোমে স্থানান্তর করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'D' প্রক্রিয়াটি হলো DNA অনুলিপন বা প্রতিলিপন (DNA Replication)। জীবদেহে DNA রেপ্লিকেশনের জৈবিক গুরুত্ব অপরিসীম:

    ১. বংশগতির ধারাবাহিকতা রক্ষা: DNA হলো সকল সজীব কোষের প্রধান বংশগতীয় উপাদান। রেপ্লিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাতৃকোষের DNA-এর হুবহু প্রতিলিপি অপত্য কোষে সঞ্চালিত হয়, যার ফলে প্রজাতির নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশপরম্পরায় অক্ষুণ্ণ থাকে।
    ২. কোষ বিভাজন ও দৈহিক বৃদ্ধি: মাইটোসিস কোষ বিভাজনের পূর্বে ইন্টারফেজ দশার 'S' উপ-পর্যায়ে DNA অনুলিপন ঘটে। অনুলিপন না ঘটলে কোষ বিভাজন সম্পন্ন হতে পারত না এবং জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ও বিকাশ থেমে যেত।
    ৩. প্রজনন ও জননকোষ সৃষ্টি: মায়োসিস কোষ বিভাজনের পূর্বেও DNA অনুলিপন সম্পন্ন হয়, যা গ্যামেট বা জননকোষ সৃষ্টি এবং যৌন প্রজননের মাধ্যমে প্রজাতির অস্তিত্ব বজায় রাখতে অপরিহার্য।
    ৪. জিনগত তথ্যের নির্ভুল স্থায়িত্ব: অর্ধ-সংরক্ষণশীল (Semi-conservative) পদ্ধতিতে নতুন DNA গঠিত হওয়ার কারণে এতে মূল মাতৃসূত্রকের তথ্য অপরিবর্তিত থাকে এবং প্রুফ-রিডিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুল সংশোধিত হয়।
    ৫. মিউটেশন ও বিবর্তন: রেপ্লিকেশনের সময় কদাচিৎ অনাকাঙ্ক্ষিত স্থায়ী পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটে, যা জীবজগতে জিনগত প্রকরণ এবং জৈব বিবর্তনের কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে।

    সুতরাং, জীবের অস্তিত্ব রক্ষা, বংশগতির তথ্য আদান-প্রদান এবং স্বাভাবিক জীবনক্রিয়া বজায় রাখতে DNA রেপ্লিকেশন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন