‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী কে শোষিত, বঞ্চিত করার জন্য শাসক গোষ্ঠী চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি ধ্বংস করার লক্ষ্যে পায়তাঁরা শুরু করে। শাসকগোষ্ঠীর এ ধ্বংসাত্মক কাজের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী আন্দোলন শুরু করে। মূলত এই আন্দোলনই পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামের পথ সৃষ্টি করে। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন আন্দোলন তথা সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

    (1)
  2. খ)

    আগরতলা মামলা দায়ের করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলন তোমার পাঠ্য বইয়ের যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে তার ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আন্দোলন "স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে"- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করতে এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালি নেতৃবৃন্দকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইয়ুব খানের পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের শুরুতে আগরতলা মামলা (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) দায়ের করে। মূলত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র উপায়ে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনটি আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক 'ভাষা আন্দোলন'-কে ইঙ্গিত করে।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা রুখে দাঁড়ায়। তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় মাতৃভাষার মর্যাদা।

    উদ্দীপকে সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি ধ্বংসের পাঁয়তারা এবং তার বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠদের যে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত ৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলনকেই তুলে ধরে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলন অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মূল প্রেরণা ও ভিত্তিপ্রস্তর—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালিরা উপলব্ধি করতে পারে যে পাকিস্তান রাষ্ট্রে তাদের মুক্তি নেই। এই আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম স্ফুরণ ঘটে, যা পরবর্তী সব রাজনৈতিক ও স্বাধিকার আন্দোলনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

    ভাষা আন্দোলনের সফলতার পথ ধরেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন সংঘটিত হয়। ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাঙালি জাতিকে নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে শিখিয়েছিল এবং সাহসিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি এক রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।

    অতএব, স্পষ্টতই প্রমাণিত হয় যে ভাষা আন্দোলনই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রধানতম প্রেরণা ও বীজ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন