যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    গুণবাচক পদের একটি উদাহরণ দাও।

    (1)
  2. খ)

    'লন্ডন' শব্দটি কেন অজাত্যর্থক পদ?

    (2)
  3. গ)

    চিত্র ১ এ পদের কোন নিয়মের প্রতিফলন ঘটেছে ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-১ এবং চিত্র-২ সর্বত্র প্রযোজ্য নয় কেন? মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গুণবাচক পদের একটি উদাহরণ হলো 'সততা' (বা 'শুভ্রতা', 'ধার্মিকতা')।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব পদের কেবল ব্যক্ত্যর্থ বা কেবল জাত্যর্থ থাকে কিন্তু উভয়টি একসাথে থাকে না, সেগুলোকে অজাত্যর্থক পদ বলে।
    'লন্ডন' একটি বিশিষ্ট নামবাচক পদ (Proper Name)। এটি একটি নির্দিষ্ট শহর বা বস্তুকে নির্দেশ করে অর্থাৎ এর শুধুমাত্র পরিমাণের দিক বা ব্যক্ত্যর্থ রয়েছে। কিন্তু এই পদের কোনো সাধারণ এবং আবশ্যিক গুণের উল্লেখ অর্থাৎ জাত্যর্থ নেই। তাই 'লন্ডন' শব্দটি একটি অজাত্যর্থক পদ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্র-১ এ পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী বা ব্যস্তানুপাতিক হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মের প্রতিফলন ঘটেছে। বিশেষ করে ব্যক্ত্যর্থের পরিবর্তনের ফলে জাত্যর্থের পরিবর্তনের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে।

    যুক্তিবিদ্যায় পদের ব্যক্ত্যর্থ হলো পদের সংখ্যার বা পরিমাণের দিক এবং জাত্যর্থ হলো পদের আবশ্যিক ও সাধারণ গুণের দিক। চিত্র-১ এ লক্ষ্য করা যায়:
    ১. ব্যক্ত্যর্থ (সংখ্যা) বাড়লে (A→) জাত্যর্থ (গুণ) কমে (←B)।
    ২. ব্যক্ত্যর্থ (সংখ্যা) কমলে (A←) জাত্যর্থ (গুণ) বাড়ে (→B)।

    উদাহরণস্বরূপ: 'মানুষ' পদটির সাথে যখন অন্য সব প্রাণীকে যুক্ত করে 'জীব' পদ গঠন করা হয়, তখন এর সংখ্যা বা ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায় কিন্তু এর গুণ বা জাত্যর্থ থেকে 'বুদ্ধিবৃত্তি' বাদ পড়ে শুধু 'জীববৃত্তি' থাকে, অর্থাৎ গুণ হ্রাস পায়। আবার 'জীব' থেকে যখন কেবল 'মানুষ' পদে আসা হয়, তখন ব্যক্ত্যর্থ কমে কিন্তু জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকের চিত্র-১ এ এই ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্কটিকেই সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্র-১ এবং চিত্র-২ পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যকার ব্যস্তানুপাতিক হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মের চিত্ররূপ। তবে যুক্তিবিজ্ঞানে এই নিয়মটি সর্বত্র সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য নয়। এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. শ্রেণিবাচক পদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা: এই নিয়মটি কেবল শ্রেণিবাচক বা জাতিবাচক (General/Class terms) পদের ক্ষেত্রে কার্যকর। একক বা বিশিষ্ট নামবাচক পদ (যেমন: রহিম, ঢাকা, লন্ডন ইত্যাদি)-এর কোনো জাত্যর্থ থাকে না, ফলে তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি প্রযোজ্য হয় না।

    ২. কেবলমাত্র বিশিষ্ট গুণবাচক পদ: সততা, শুভ্রতা ইত্যাদি একক গুণবাচক পদের কোনো ব্যক্ত্যর্থ বা সংখ্যার দিক নেই, কেবল জাত্যর্থ বা গুণ রয়েছে। ফলে সেখানেও এই হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়ম কার্যকর নয়।

    ৩. আরোপিত বা কৃত্রিম পরিবর্তন নয়: বস্তুর বাস্তবিক সংখ্যার পরিবর্তন হলেই জাত্যর্থের পরিবর্তন হয় না। যেমন—মহামারী বা যুদ্ধের কারণে পৃথিবীতে মানুষের বাস্তব সংখ্যা হ্রাস পেলেও 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ (জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি) কিন্তু অপরিবর্তিত থাকে। অর্থাৎ এই নিয়মটি কেবল যৌক্তিক বা শ্রেণিকরণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই খাটে, বাস্তব জগতের তাৎক্ষণিক হ্রাস-বৃদ্ধিতে নয়।

    ৪. উভয়টির অস্তিত্ব আবশ্যিক: নিয়মটি কার্যকর হতে হলে পদটিকে অবশ্যই এমন হতে হবে যার ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ উভয়ই বিদ্যমান।

    সুতরাং, উপযুক্ত যুক্তিসমূহের প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধির এই সম্পর্কটি কিছু নির্দিষ্ট যৌক্তিক শর্ত ও শ্রেণিবাচক পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় এটি সব ধরণের পদের ক্ষেত্রে বা সর্বত্র প্রযোজ্য নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন