যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দশ বছরের শিশু নাবিলাকে গত দুদিন যাবৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি পাড়ার জ্যোতিষী জানতে পেরে বললেন, মেয়েটিকে ভূতে নিয়েছে এবং তার আশ্রয়েই আছে। কিন্তু নাবিলার বড় বোন বিজলী একথা বিশ্বাস না করে তাদের বাড়ির অদূরে বড় পুকুর পাড়ের ঝোপের কাছে নাবিলার ব্যবহৃত একটি খেলনা পেয়ে পুকুরে ডুবুরিদের দ্বারা নাবিলার খোঁজ করায়। নাবিলাকে পুকুরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
- ক)(1)
বাস্তব কারণ কী?
- খ)(2)
সংকট উত্তরক দৃষ্টান্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জ্যোতিষীর বক্তব্য প্রকল্পের কোন শর্তকে ভঙ্গ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বিজলী নাবিলাকে খোঁজার জন্য যে ধাপগুলো অনুসরণ করেছে প্রকল্পের আলোকে তা বিশ্লেষণ করে দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে কারণটি বাস্তবে বিদ্যমান এবং যার সত্যতা নিরীক্ষণ বা পরীক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব, তাকে বাস্তব কারণ (Vera Causa) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরস্পরবিরোধী একাধিক প্রকল্পের মধ্যে কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভুল তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করার জন্য সংকট উত্তরক দৃষ্টান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত যা একটি প্রকল্পকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ বা সমর্থন করে এবং অন্য সব বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকল্পকে সরাসরি বাতিল বা অপ্রমাণিত করে। ফলে অনুমানের অনিশ্চয়তা দূর হয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জ্যোতিষীর বক্তব্যটি প্রকল্পের 'বাস্তব কারণভিত্তিক হওয়া' এবং 'যাচাইযোগ্য হওয়া'-এর শর্তকে লঙ্ঘন করেছে।
একটি বৈধ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো প্রকল্পটিকে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট, স্পষ্ট, বাস্তব কারণভিত্তিক এবং অভিজ্ঞতা বা প্রমাণের দ্বারা যাচাইযোগ্য হতে হবে। কোনো অবাস্তব, কাল্পনিক বা অতিপ্রাকৃতিক ধারণাকে প্রকল্পের কারণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
উদ্দীপকে জ্যোতিষী দাবি করেন, নাবিলার নিখোঁজ হওয়ার কারণ হলো 'মেয়েটিকে ভূতে নিয়েছে এবং তার আশ্রয়েই আছে'। ভূত একটি কাল্পনিক, অলীক এবং অতিপ্রাকৃতিক সত্তা, যার বাস্তব অস্তিত্ব বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং যা পরীক্ষণ বা নিরীক্ষণের মাধ্যমে যাচাই করা অসম্ভব। সুতরাং, জ্যোতিষীর এই অনুমানটি প্রকল্পের অপরিহার্য শর্ত বাস্তব কারণ ও যাচাইযোগ্যতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিজলী তার বোন নাবিলাকে খোঁজার জন্য বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের আবশ্যকীয় ধাপগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে। প্রকল্পের চারটি মূল স্তরের আলোকে বিজলীর পদক্ষেপগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ঘটনা নিরীক্ষণ (Observation of the phenomenon): বিজলী প্রথমে ঘটনাটি বাস্তবিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সে দেখতে পায় যে নাবিলা দুই দিন ধরে নিখোঁজ এবং তাদের বাড়ির অদূরে পুকুর পাড়ের ঝোপের কাছে নাবিলার ব্যবহৃত একটি খেলনা পড়ে রয়েছে।
২. প্রাথমিক বা সাময়িক আনুমানিক ধারণা গঠন (Formulation of hypothesis): পুকুর পাড়ে খেলনা দেখে বিজলীর মনে প্রাথমিক ধারণা বা প্রকল্পের উদয় হয় যে, নাবিলা হয়তো পুকুরে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে বা ডুবে গেছে।
৩. অবরোহমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Deductive deduction): বিজলী যুক্তিসঙ্গতভাবে অনুমান করে যে, যদি নাবিলা পুকুরেই পড়ে থাকে, তবে ডুবুরি দিয়ে অনুসন্ধান করালে তাকে পুকুরেই পাওয়া যাবে।
৪. যাচাইকরণ বা পরীক্ষণ (Verification): বিজলী ডুবুরিদের মাধ্যমে পুকুরে তল্লাশি চালায়। অনুসন্ধানের ফলে নাবিলাকে পুকুরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, যা তার গৃহীত প্রকল্পটির সত্যতা বাস্তবে প্রমাণ ও যাচাই করে।
অতএব, বিজলীর অনুসৃত প্রক্রিয়াটি যুক্তিবিদ্যার একটি কার্যকর ও সফল প্রকল্পের সকল ধাপ পরিপূর্ণভাবে প্রদর্শন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও