অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কানিজ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা, মা শিক্ষিত এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। কানিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা। শেষে দুই বছর বিভিন্ন চাকরির চেষ্টা করে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়ায় বাড়িতে চলে আসে। সে তার বাবাকে বোঝায় যে গ্রামের। কর্মহীন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে, ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে একটি বুটিক কারখানা স্থাপন করতে চায়। সে তখন গ্রামের বেকার যুব সমাজকে প্রশিক্ষিত করে তুলবে। ফলে বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান হবে, কারো চাকরি পাওয়ার ঝামেলা হবে না। সে নিজেও আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। তাছাড়া মেয়েদের উদ্যোগ গ্রহণে সরকার সহায়তা করে। এভাবে সে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। তার বাবা মা বিষয়টি উপলব্ধি করে উৎসাহের সাথে অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা করতে রাজি হন।
- ক)(1)
মাঝারি শিল্প কী?
- খ)(2)
অর্থনৈতিক উন্নয়নে পিপিপি এর ভূমিকা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে অতিক্ষুদ্র শিল্পের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
জাতীয় উন্নয়নে অতিক্ষুদ্র শিল্পের ভূমিকা বৃদ্ধির জন্য করণীয় বিষয়ে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনশীল খাতে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ২০ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ৫০ কোটি টাকার মধ্যে এবং যেগুলোতে ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে মাঝারি শিল্প বলে (সেবামূলক খাতে স্থায়ী সম্পদ আড়াই কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা বা ৫০ থেকে ১২০ জন শ্রমিক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিপিপি (Public-Private Partnership বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন যেমন—রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বন্দর নির্মাণে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, যা এককভাবে সরকারের পক্ষে জোগান দেওয়া প্রায়শই কঠিন। পিপিপি-এর মাধ্যমে বেসরকারি খাতের মূলধন, উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা সরকারি উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয়। ফলে প্রকল্পগুলো দ্রুত ও দক্ষতার সাথে বাস্তবায়িত হয়, সরকারি বাজেটের ওপর চাপ কমে এবং দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কানিজ যে বুটিক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে, তা মূলত একটি অতিক্ষুদ্র শিল্প (Micro Enterprise)।
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী অতিক্ষুদ্র শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উদ্দীপকের আলোকে আলোচনা করা হলো:
১. মূলধনের পরিমাণ: অতিক্ষুদ্র উৎপাদনশীল শিল্পে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য সাধারণত ১৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকে। উদ্দীপকে কানিজ ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে চায়, যা এই আর্থিক সীমার সাথে সংগতিপূর্ণ।
২. শ্রমিকের সংখ্যা: এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে কম জনবল নিয়োজিত থাকে। অতিক্ষুদ্র উৎপাদনমুখী শিল্পে শ্রমিক সংখ্যা সাধারণত ১৬ থেকে ৩০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। উদ্দীপকে কানিজ ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে কারখানাটি শুরু করতে চায়।
৩. স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার ও সহজ ব্যবস্থাপনা: এ ধরনের শিল্পে স্থানীয় কাঁচামাল ও স্বল্পপুঁজি ব্যবহার করে সহজ ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন পরিচালনা করা যায়।
৪. সীমিত আয়তন ও পারিবারিক/ব্যক্তিগত উদ্যোগ: অতিক্ষুদ্র শিল্প সাধারণত ব্যক্তিগত বা পারিবারিক উদ্যোগে নিজ এলাকায় অল্প পরিসরে গড়ে ওঠে, যা কানিজের উদ্যোগের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং বেকারত্ব দূরীকরণে অতিক্ষুদ্র শিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ শিল্পের ভূমিকা আরও বৃদ্ধির জন্য উদ্দীপক ও সামগ্রিক বাস্তবতার আলোকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা জরুরি বলে আমি মনে করি:
১. সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে অর্থায়ন: কানিজের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত জামানতের অভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পান না। অতিক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারে জামানতবিহীন ও সহজ শর্তে বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনামূলক ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
২. কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ: উদ্দীপকে কানিজ বেকার যুবকদের প্রশিক্ষিত করার কথা উল্লেখ করেছে। সরকারি উদ্যোগে আধুনিক প্রযুক্তি, পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনার ওপর উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. বাজারজাতকরণ সুবিধা সৃষ্টি: অতিক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদিত পণ্য সহজে বিক্রির জন্য বাজারজাতকরণ সহায়তা, মেলা আয়োজন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
৪. কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও অবকাঠামোগত সুবিধা: উদ্যোক্তাদের জন্য ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত কাঁচামাল প্রাপ্তি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. সরকারি নীতি ও প্রণোদনা: কর অবকাশ সুবিধা এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের এই খাতে আকৃষ্ট করা সম্ভব।পরিশেষে বলা যায়, উপযুক্ত আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করলে অতিক্ষুদ্র শিল্প দেশের বিপুল বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দারিদ্র্য বিমোচন ও জাতীয় অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও