পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
রাস্তার মোড়ে পাড়ার কয়েকটি ছেলে আড্ডা দেয়।শ্রাবণী কলেজে যাওয়া - আসার সময় ছেলেগুলো বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে। একটি ছেলের শ্রাবণীকে প্রেম নিবেদন করে। শ্রাবণী তার প্রস্তাবে ইতিবাচক সেরা না দিলে ছেলেটি ক্ষিপ্ত হয়। শ্রাবণী ঘটনাটি পুলিশকে জানাই। পুলিশ ছেলেটিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ছেলেটিকে নির্দিষ্ট মেয়াদের শাস্তি দেয়। শাস্তি ভোগ করে ছেলেটি ভালো হয়ে যায়।
- ক)(1)
এইডস কী?
- খ)(2)
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে আমাদের ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ছেলেগুলো যে ধরনের কাজে লিপ্ত তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ছেলেটির ভালো হওয়ার পিছনে শ্রাবণীর ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এইডস (AIDS) হলো এইচআইভি (HIV) নামক ভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট একটি মরণঘাতী রোগ, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে আমাদের ব্যবহার হওয়া উচিত সহানুভূতিশীল, সহমর্মিতাপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক।
তাঁদেরকে কোনোভাবেই সমাজে অবহেলা বা করুণার পাত্র মনে না করে একজন সমান নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দেওয়া উচিত। তাঁদের বিশেষ সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে চলাফেরায় সাহায্য করা, উৎসাহ প্রদান করা এবং শিক্ষাঙ্গন বা কর্মক্ষেত্রে সম-অধিকার নিশ্চিত করার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করা উচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ছেলেগুলো যে ধরনের কাজে লিপ্ত, তা হলো 'ইভটিজিং' বা নারী উত্ত্যক্তকরণ।
পাবলিক স্পেস বা রাস্তায় নারীদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা, অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন, অশালীন আচরণ, অযাচিত প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া এবং এতে রাজি না হলে ক্ষিপ্ত বা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা ইভটিজিংয়ের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। উদ্দীপকে রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেওয়া কয়েকটি ছেলে কলেজে যাওয়া-আসার সময় শ্রাবণীর উদ্দেশে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করত এবং তাদের একজন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়। এই আচরণগুলো সামাজিক নিরাপত্তার পরিপন্থী এবং প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং তাদের কাজগুলো স্পষ্টতই ইভটিজিং বা যৌন হয়রানিমূলক অপকর্ম।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ছেলেটির সুপথে ফিরে আসা এবং সংশোধনের পেছনে অন্যায়ের প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শ্রাবণীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সাহসী, বলিষ্ঠ ও ইতিবাচক।
সাধারণত আমাদের সমাজে ইভটিজিংয়ের শিকার হলে অনেক ভুক্তভোগী লজ্জায়, ভয়ে বা লোকলজ্জার ভয়ে তা গোপন রাখে অথবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, যার ফলে অপরাধীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শ্রাবণী অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করেনি। সে বখাটে ছেলের হুমকিতে নতি স্বীকার না করে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিকের মতো দ্রুত আইনের আশ্রয় নিয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছে।
শ্রাবণীর এই পদক্ষেপের ফলে:
১. পুলিশ দ্রুত অপরাধীকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করতে পেরেছে।
২. আদালতের যথাযথ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধী ছেলেটি সাজা ভোগ করেছে।
৩. শাস্তির মুখোমুখি হয়ে অপরাধের পরিণাম বুঝতে পেরে ছেলেটির মধ্যে আত্মোপলব্ধি সৃষ্টি হয়েছে এবং সে সংশোধিত হয়ে ভালো পথে ফিরে এসেছে।যদি শ্রাবণী নীরব থাকত, তবে ছেলেটির অপরাধ প্রবণতা দিন দিন আরও বেড়ে যেত এবং সে ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতো। অতএব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়ে ছেলেটিকে সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়ায় শ্রাবণীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও