হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

ডা. আদিত্য বাবু এমন একজন মহান চিকিৎসকের আদর্শ অনুসরণ করেন যিনি ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত। তিনি তাঁর গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি এবং শতাধিক অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডা. অর্ণব বাবুও একজন মহান চিকিৎসকের আদর্শ অনুসরণ করেন যাঁকে ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক বলা হয়। তিনি রোগীর চিকিৎসার পূর্বে রোগ নির্ণয়ের বিষয়টি ভাবতে বলেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ আমাদের বিশেষ মঙ্গল সাধন করছে।

  1. ক)

    পূর্ণাবতার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে কেন আবির্ভূত হয়েছিলেন?

    (2)
  3. গ)

    ডা. আদিত্য বাবু কোন মহান চিকিৎসকের আদর্শ অনুসরণ করেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ডা. অর্ণবের অনুসরণীয় চিকিৎসকের অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে পূর্ণাবতার বলা হয়।

  2. খ)

    জগতে যখন ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের উত্থান ঘটে, তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। গীতায় তিনি নিজেই বলেছেন—সজ্জনদের রক্ষার জন্য, দুর্জনদের বিনাশের জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য তিনি যুগে যুগে আবির্ভূত হন (৪/৭-৮)। তাঁর আবির্ভাবের সময় কংস, জরাসন্ধ, শিশুপাল ও দুর্যোধন অত্যন্ত অত্যাচারী হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের অত্যাচারে মানুষের কষ্ট হচ্ছিল। শ্রীকৃষ্ণ এদের বিনাশ করে শান্তি স্থাপন করেন।

  3. গ)

    ডা. আদিত্য বাবু মহান চিকিৎসক সুশ্রুতের আদর্শ অনুসরণ করেন।

    পরিচয়: সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক। তাঁর পিতা বিশ্বামিত্র মুনি। তিনি দেববৈদ্য ধন্বন্তরীর অবতার কাশীরাজপুত্র দিবোদাসের নিকট আয়ুর্বেদ শিখে চিকিৎসা-সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা সুশ্রুতসংহিতা নামে পরিচিত। গবেষকদের মতে তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে বর্তমান ছিলেন এবং বারাণসীতে গঙ্গার তীরে বাস করতেন।

    অবদান: তিনি প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন। এজন্য তাঁকে 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক' বলা হয়। তাঁর গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি এবং ১২০টি চিকিৎসাযন্ত্রের বর্ণনা আছে। এ যন্ত্রগুলোর আধুনিকায়ন পাশ্চাত্যে ঘটেছে।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: আদিত্য বাবুর অনুসৃত চিকিৎসক ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক এবং তাঁর গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি ও শতাধিক অস্ত্রের বর্ণনা আছে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো সুশ্রুতের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়।

    অতএব, ডা. আদিত্য বাবু সুশ্রুতের আদর্শ অনুসরণ করেন।

  4. ঘ)

    ডা. অর্ণবের অনুসরণীয় চিকিৎসক হলেন চরক। তাঁকে 'ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক' বলা হয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে তাঁর অবদান অসামান্য।

    পরিচয়: চরক প্রাচীন ভারতের মহান চিকিৎসক। গবেষকদের মতে তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে আবির্ভূত হন। তিনি পূর্ববর্তী চিকিৎসক আত্রেয়, অগ্নিবেশ প্রমুখের গ্রন্থের সংস্কার ও সারাংশ নিয়ে 'চরকসংহিতা' রচনা করেন।

    ১. চরকসংহিতা: গ্রন্থটি আটটি ভাগে বিভক্ত—সূত্রস্থান, নিদানস্থান, বিমানস্থান, শারীরস্থান, ইন্দ্রিয়স্থান, চিকিৎসাস্থান, কল্পস্থান ও সিদ্ধিস্থান। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে এটি একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তাঁর রচিত গ্রন্থ আমাদের বিশেষ মঙ্গল সাধন করছে।
    ২. শারীরবৃত্তীয় ধারণা: চরকই প্রথম মানবদেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন। তিনি শরীরের কার্যকারিতার জন্য বাত, পিত্ত ও কফ—এই তিনটি 'দোষ'-এর কথা বলেছেন। এগুলোর সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়, ফিরে এলে সুস্থ হয়।
    ৩. রোগ প্রতিরোধ ও নির্ণয়ের গুরুত্ব: তিনি বলেছেন, রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ বেশি জরুরি। রোগীর চিকিৎসার পূর্বে রোগের কারণসমূহ ও পরিবেশ সম্পর্কে যথার্থরূপে ভাবতে বলেছেন। উদ্দীপকের অর্ণব বাবুর অনুসৃত চিকিৎসকও রোগ নির্ণয়ের কথা ভাবতে বলেছেন।
    ৪. দেহতত্ত্ব ও বিশ্বে প্রভাব: তিনি মানবদেহে দাঁতসহ ৩৬০টি অস্থির কথা বলেছেন এবং হৃদপিণ্ডকে দেহের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলেছেন। তাঁর গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়ে ইউরোপে প্রচারিত হয় এবং আজও আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় এর গুরুত্ব অনেক।

    সুতরাং, চরকসংহিতা রচনা করে চরক সমগ্র মানবজাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেছেন। তাঁর অবদান চিকিৎসাবিজ্ঞানে চিরস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন