বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: জাহিদ নগর পরিকল্পনায় লেখাপড়া করে। সে জানতে পারে আরব সাগরের তীরে একটি প্রাচীন জনবসতি ছিল। তাদের সমাজ ব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক। তারা যে স্থানগুলোতে বসবাস করত সেগুলো ছিল সুবিন্যস্ত।
দৃশ্যকল্প-২: শিহাব গবেষণার কাজে রসুলপুর গ্রামে গিয়ে জানতে পারে যে গ্রামের মানুষ পারস্পরিক বন্ধুত্ব বজায় রাখতে কতগুলো নিয়ম মেনে চলে। এই গ্রামে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার ছিল। জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় থেকে কেউ বঞ্চিত হতো না। আর নিয়মগুলো ছিল সবার জন্য সমান।
- ক)(1)
হেলেনিক সংস্কৃতি কী?
- খ)(2)
মিশরকে নীল নদের দান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ যে সভ্যতাকে নির্দেশ করে তার সামাজিক অবস্থা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর নির্দেশিত বিষয়ের জন্য রোমানরা চিরস্মরণীয়— মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হেলেনিক সংস্কৃতি হলো গ্রিক উপদ্বীপের প্রধান শহর এথেন্সকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গ্রিক সংস্কৃতি।
- খ)
মিশরকে নীল নদের দান বলা হয়, কারণ নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রতি বছর নীল নদে বন্যা হতো এবং বন্যার পর দুই তীরে পলিমাটি জমে জমি উর্বর হতো। ফলে সেখানে নানা ফসল জন্মাত। তাই ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস বলেছেন, ‘মিশর নীল নদের দান’।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১ প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতাকে নির্দেশ করে, কারণ এ সভ্যতা আরব সাগরের কাছে সিন্ধু অববাহিকায় গড়ে ওঠে এবং এর শহরগুলো ছিল সুবিন্যস্ত। উদ্দীপকে বলা মাতৃতান্ত্রিক সমাজও এর সামাজিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরা হয়।
সামাজিক অবস্থা:
১. সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিক; পরিবারে নারীর মর্যাদা ছিল বেশি।
২. সমাজে শাসক ও পুরোহিত, ব্যবসায়ী, কারিগর, কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণি ছিল।
৩. মানুষ গম, যব, ফলমূল, মাছ ও মাংস খেত এবং সুতি ও পশমি কাপড় পরত।
৪. নারী-পুরুষ উভয়েই অলংকার ব্যবহার করত।
৫. নাচ-গান, শিকার ও পাশা খেলা ছিল বিনোদনের মাধ্যম।এসব বৈশিষ্ট্য সিন্ধু সভ্যতার সামাজিক জীবনের পরিচয় বহন করে।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-২ এ নিয়মের সাম্য, সবার সমান অধিকার ও কাউকে অধিকার থেকে বঞ্চিত না করার কথা আছে, যা আইনের শাসনকে নির্দেশ করে। এ বিষয়ে রোমানরা চিরস্মরণীয়—মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ—
১. লিখিত আইন: ৪৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানরা ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে আইন খোদাই করে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখে। ফলে সবাই আইন জানতে পারত।
২. সমানাধিকার: রোমান আইনের দৃষ্টিতে সব মানুষ সমান ছিল।
৩. আইনের শাখা: বেসামরিক আইন, জনগণের আইন ও প্রাকৃতিক আইন—এই তিন শাখায় নাগরিকের ব্যক্তিগত ও মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা ছিল।
৪. সংকলন: সম্রাট জাস্টিনিয়ান ষষ্ঠ শতকে রোমান আইন সংকলন করেন। আধুনিক বিশ্বের আইনব্যবস্থা এর ওপর নির্ভরশীল।সুতরাং, আইন প্রণয়নে অবদানের জন্য রোমানরা চিরস্মরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও