পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

‘ক' অঞ্চলে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষদের মারা হয়। এর ফলে উক্ত অঞ্চলে যুবকরা প্রতিবেশী দেশে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। যুবকরা নিজ এলাকায় ফিরে এসে শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। অবশেষে তারা তাদের অন্যলকে শত্রুমুক্ত করে। বিশ্বের মানচিত্রে 'A' অঞ্চলটি একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

  1. ক)

    এ. কে. ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    'ক' অঞ্চলে যে আন্দোলনকে নির্দেশ করে তার সংগঠন ও পরিচালনা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের আন্দোলনটি ছিল স্বতন্ত্র জাতিসত্তার চেতনা- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৯৫৪ সালে এ. কে. ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

  2. খ)

    দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি—এই ধারণা। ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জীবনধারার পার্থক্যের কারণে এই দুই সম্প্রদায় এক জাতি নয় বলে এ তত্ত্বে বলা হয়। এ তত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র দাবি করা হয়, যার ফলে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের আন্দোলনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১) নির্দেশ করে। এর সংগঠন ও পরিচালনা নিম্নরূপ:

    ১. সরকার গঠন: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ নেয়। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) ও তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

    ২. সামরিক সংগঠন: এম. এ. জি. ওসমানী সর্বাধিনায়ক হন। যুদ্ধের সুবিধার জন্য দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং প্রতি সেক্টরে একজন কমান্ডার ছিলেন।

    ৩. প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ: ভারতে খোলা প্রশিক্ষণ শিবিরে যুবকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিয়মিত বাহিনী ও গেরিলা বাহিনী হিসেবে যুদ্ধ করে।

    এভাবে সংগঠিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি বিজয় অর্জন করে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের আন্দোলন স্বতন্ত্র জাতিসত্তার চেতনার প্রকাশ, বক্তব্যটি যথার্থ।

    ১. ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাঙালি নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় সচেতন হয়। এই চেতনা পরবর্তী সব আন্দোলনের ভিত্তি।

    ২. বৈষম্য ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি: পাকিস্তানি শাসনে অর্থনীতি, প্রশাসন ও রাজনীতিতে বৈষম্যের শিকার হয়ে ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালি স্বায়ত্তশাসন চায়।

    ৩. নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: ২৫ মার্চের কালরাতে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের পর যুবকরা প্রতিবেশী দেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে এসে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

    সুতরাং, 'ক' অঞ্চলের আন্দোলন ছিল পৃথক জাতিসত্তা ও আত্মপরিচয়ের চেতনা থেকে উৎসারিত এবং এর পরিণতিতে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি অর্জিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন