বিজ্ঞান • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

বিজ্ঞান প্রশ্ন

এমন একটি দুর্যোগ রয়েছে যা নদী নালা ভরাট হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়। অপর একটি দুর্যোগ নাইট্রোজেন অক্সাইড, বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে। অন্য আর একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ রয়েছে যেখানে মাটির পানির পরিমাণ কমতে কমতে এমন হয় যে, সেখানে কোনো শস্য জন্মাতে পারে না।

  1. ক)

    কার্বন দূষণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    আবাদি জমি লবণাক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত তৃতীয় দূর্যোগটির প্রভাবে কী কী সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় দুর্যোগের মধ্যে কোনটির জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়— উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে কার্বন দূষণ বলে।

  2. খ)

    জলবায়ুর পরিবর্তনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়লে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। তখন সমুদ্রের লবণাক্ত পানি মূল ভূখণ্ডে ঢুকে নদ-নদী, ভূগর্ভস্থ পানি ও আবাদি জমিকে লবণাক্ত করে ফেলে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এভাবে অনেক কৃষিজমি লবণাক্ত হয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের তৃতীয় দুর্যোগটি খরা, যেখানে মাটির পানি কমতে কমতে শস্য জন্মানো বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে সৃষ্ট সমস্যাগুলো হলো:

    ১. ফসল উৎপাদন কমে যায় এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।

    ২. গবাদি পশুর খাদ্যসংকট দেখা দেয়।

    ৩. কৃষিনির্ভর শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং কর্মসংস্থান কমে।

    ৪. মাটির উর্বরতা কমে যায়।

    ৫. দীর্ঘস্থায়ী খরায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

    বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া প্রভৃতি জেলা খরার ঝুঁকিতে আছে। ১৯৭৮-৭৯ সালের খরার ক্ষতি ১৯৭৪ সালের বন্যার চেয়েও বেশি ছিল।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রথম দুর্যোগ বন্যা (নদী-নালা ভরাট হওয়ার কারণে) এবং দ্বিতীয় দুর্যোগ এসিড বৃষ্টি (নাইট্রোজেন অক্সাইড, অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির বিক্রিয়ায়)। এর মধ্যে বন্যার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

    ১. বন্যার পূর্বাভাস: বন্যার আগাম পূর্বাভাস ও সতর্কবাণী প্রচার করে ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। প্রতিবেশী দেশের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে উজানের পানির তথ্য আগেই পাওয়া যায়।

    ২. আগাম ব্যবস্থা: নদী খনন করে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো, বাঁধ ও নদী শাসন এবং আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা যায়। আগে থেকে খাদ্য, পানি ও ওষুধ মজুত রাখা এবং নৌকা ও স্পিডবোটের ব্যবস্থা রাখা যায়।

    ৩. এসিড বৃষ্টির ক্ষেত্রে: এটি আগ্নেয়গিরি, দাবানলের মতো প্রাকৃতিক কারণে এবং কারখানা, যানবাহন ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস নির্গমনে হয়। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ে এর পূর্বাভাস দিয়ে ক্ষতি এড়ানো কঠিন। এর প্রতিকার মূলত দীর্ঘমেয়াদি, যেমন কয়লা পরিশোধন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ।

    সুতরাং, বন্যার পূর্বাভাস ও আশ্রয়সহ আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব বলে বন্যার ক্ষেত্রেই আগাম প্রস্তুতি বেশি কার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন