বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পায়নি বলে সুইটি নাওয়াখাওয়া সব বাদ দিয়েছে; যোগাযোগ বন্ধ করেছে বন্ধুবান্ধবের সাথেও। তার সেই এককথা 'আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না'- সে আর পড়াশোনাও করতে চায় না। মেয়ের কথা শুনে বাবা হাসেন- বলেন, 'মানবজীবনই হলো সংগ্রামের, মেডিকেলে পড়াই জীবনের সব নয়, তুমি তোমার মেধা যেকোনো কাজে লাগিয়ে সফল হতে পারো। কোনো সাধারণ বিষয়ে পড়শোনা করেও তুমি 'অসাধারণ' হয়ে উঠতে পারো। প্রতিটি দায়িত্বশীল ও সময়ানুবর্তী মানুষ পৃথিবীতে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাবার কথা মেনে সুইটি আজ একজন সফল বিসিএস কর্মকর্তা। অনেকের আদর্শ-অনুকরণীয়।
- ক)(1)
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার আয়ুকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
- খ)(2)
'সংসারে সংসারী সাজ'- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
সুইটির মেডিকেলে পড়ার সুযোগ না পাওয়ার মনোবেদনা 'জীবন- সঙ্গীত' কবিতার সাথে যে দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'সাধনা ও পরম ধৈর্য মানুষকে পৌঁছে দিতে পারে সফলতার উচ্চ শিখরে।'- উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে মন্তব্যটির যৌক্তিকতা দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় আয়ুকে ক্ষণস্থায়ী ও স্বল্প বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
- খ)
'সংসারে সংসারী সাজ' কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে, মানুষ সংসারে থেকে নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবে। সংসারের কাজ ও জীবনসংগ্রাম থেকে পালিয়ে না গিয়ে সাহসের সঙ্গে নিজের ভূমিকা পালন করাই কবির প্রত্যাশা।
- গ)
উদ্দীপকে সুইটি মেডিকেলে সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে, সবকিছু ছেড়ে দেয় এবং বলে, 'আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না'।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি হতাশাগ্রস্ত মানুষকে বলেছেন, কাতর স্বরে জীবনকে বৃথা বলা উচিত নয়; জীবন সংগ্রামের ক্ষেত্র। তাই হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তার দিক থেকে সুইটি কবিতায় বর্ণিত হতাশ মানুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যাদের কবি কর্মে উদ্দীপ্ত হতে আহ্বান জানিয়েছেন।
- ঘ)
উদ্দীপকে সুইটি বাবার উপদেশে হতাশা কাটিয়ে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বিসিএস কর্মকর্তা হয়ে সফলতা অর্জন করে। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায়ও কবি অধ্যবসায় ও ধৈর্যের সঙ্গে কর্মে নিয়োজিত থাকার কথা বলেছেন। মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
১. সুইটি প্রথমে ব্যর্থ হয়ে থেমে গিয়েছিল, কিন্তু পরে ধারাবাহিক চেষ্টায় সাফল্য পেয়েছে।
২. কবিতায় বলা হয়েছে, হতাশ না হয়ে সংগ্রামে এগিয়ে যেতে হবে এবং ধৈর্য ধরে কাজ করে যেতে হবে।
৩. মহৎ মানুষেরা সাধনা ও ধৈর্যের মাধ্যমেই সফলতার শিখরে পৌঁছেছেন।সুতরাং, সাধনা ও পরম ধৈর্য মানুষকে সফলতার উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারে— মন্তব্যটি যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও