হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
ঘটনা-১: পরিতোষ বাবু কোন কাজটি করবেন আর কোন কাজটি করবেন না, এ নিয়ে মাঝে মাঝে সংশয়ে পড়েন। পরিশেষে তিনি মনের কথা অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।ঘটনা-২: কল্যাণ দরিদ্র কৃষক। বাজারে কিছু টাকা হারিয়ে গেলে চেয়ারম্যান মহোদয় তা কুড়িয়ে পান। কল্যাণের মন খারাপ দেখে চেয়ারম্যান মহোদয় এর কারণ জানতে চাইলে কল্যাণ বলে, আমি কিছু টাকা হারিয়ে ফেলেছি। চেয়ারম্যান মহোদয় বললেন, “দেখ তো এই এক হাজার টাকার নোটটি তোমার কি না?” কল্যাণ বললো, 'আমার দুইশত টাকা হারিয়েছে।' কল্যাণের এমন সততায় খুশি হয়ে চেয়ারম্যান মহোদয় দুইশত টাকার সাথে এক হাজার টাকার নোটটিও উপহার দিলেন।
- ক)(1)
স্মৃতিশাস্ত্র কাকে বলে?
- খ)(2)
"আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ঘটনা-১ এ পাঠ্যপুস্তকের ধর্মের কোন লক্ষণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঘটনা-১ এ পাঠ্যপুস্তকের ধর্মের কোন লক্ষণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বেদের পরে কর্তব্য-অকর্তব্য এবং ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত মনুসংহিতা, পরাশরসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতা প্রভৃতি গ্রন্থাবলিকে স্মৃতিশাস্ত্র বলে।
- খ)
'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ' অর্থ হলো নিজের মোক্ষলাভ এবং জগতের হিত বা কল্যাণসাধনের জন্য। আমরা ধর্ম পালন করি এই দুটি উদ্দেশ্যে। মোক্ষলাভের আগে পর্যন্ত জীবকে বারবার জন্ম নিয়ে জন্ম, জরা ও মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। মোক্ষলাভ করলে জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে মিশে যায়। আবার ধর্মপথ অনুসরণ করলে সমাজেরও কল্যাণ হয়। তাই যে পথে নিজের মুক্তি ও সকলের কল্যাণ হয়, সেটিই ধর্মপথ।
- গ)
ঘটনা-১-এ পাঠ্যপুস্তকের ধর্মের লক্ষণ বিবেকের বাণী প্রকাশ পেয়েছে।
ধর্মের লক্ষণ: মনুসংহিতায় (২/১২) বলা হয়েছে, 'বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ। এতচ্চতুর্বিধং প্রাহুঃ সাক্ষাৎ ধর্মস্য লক্ষণম্॥' অর্থাৎ বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী এই চারটি ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। কোন কাজ ধর্ম আর কোনটি অধর্ম তা প্রথমে বেদ, তারপর স্মৃতিশাস্ত্র ও সদাচার থেকে জানতে হয়। এই তিনটি থেকে সমাধান না পাওয়া গেলে মানুষ নিজের বিবেকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিবেক বলতে বোঝায় নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ কর্তব্য-অকর্তব্যের জ্ঞান। যে কাজ ব্যক্তিকে বিপথগামী করে এবং সমাজের অমঙ্গল ডেকে আনে, বিবেক সেই কাজকে অধর্ম বলে বিবেচনা করে।
উদ্দীপকের সাথে সংযোগ: ঘটনা-১-এ পরিতোষ বাবু কোন কাজ করবেন আর কোনটি করবেন না, তা নিয়ে মাঝে মাঝে সংশয়ে পড়েন। শেষে তিনি 'মনের কথা অনুযায়ী' সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ বাইরের কোনো দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভর না করে নিজের অন্তরের ভালো-মন্দের বোধ থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এটি বিবেকের বাণীর প্রতিফলন।
সুতরাং, ঘটনা-১-এ ধর্মের লক্ষণ হিসেবে বিবেকের বাণী প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
প্রশ্নে ঘটনা-১ উল্লেখ থাকায় প্রথমে সেটির বিশ্লেষণ করা হলো। এরপর ঘটনা-২-এর সাথে তুলনা করে ধর্মের লক্ষণ বিশ্লেষণ করা হলো। দুটি ঘটনাতেই ধর্মের ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণের প্রকাশ ঘটেছে।
ধর্মের লক্ষণ ও ধর্মপথ: বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেক হলো ধর্মের চার প্রমাণ। এর পাশাপাশি ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয়নিগ্রহ, ধী, বিদ্যা, সত্য ও অক্রোধ এই দশটি নৈতিক গুণকেও ধর্মের লক্ষণ বলা হয়। এ গুণগুলোর প্রতিফলনমূলক ন্যায় ও সত্যের পথই ধর্মপথ।
১. ঘটনা-১-এ বিবেকের ভূমিকা: পরিতোষ বাবু সংশয়ে পড়লে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করেন যে কাজটি করলে ধর্ম হবে, না অধর্ম। যেখানে বেদ, স্মৃতি বা সদাচার থেকে সরাসরি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না, সেখানে বিবেকই চূড়ান্ত পথপ্রদর্শক। তাঁর সিদ্ধান্ত নৈতিক মূল্যবোধের মানদণ্ডে সঠিক হয়, কারণ বিবেক সবসময় অন্যায় কাজে বাধা দেয়।
২. ঘটনা-২-এ সত্য ও অস্তেয়: কল্যাণ দরিদ্র হয়েও চেয়ারম্যানের কাছে সত্য কথা বলেছে। এক হাজার টাকার নোটটি নিজের নয় বলে সে লোভ করেনি। 'যেমন জেনেছি তেমন বলা' হলো সত্য, আর অন্যের জিনিস না নেওয়া হলো অস্তেয়। সততার এই গুণ দুটি ধর্মের লক্ষণ। এর ফলে সে পুরস্কৃতও হয়েছে।
৩. দুই ঘটনার সম্পর্ক: পরিতোষ বাবুর সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং কল্যাণের সততা একই ধর্মপথের দুটি দিক। বিবেক ঠিক পথ দেখায়, আর সত্য ও অস্তেয়ের মতো গুণ মানুষকে সেই পথে চলতে সাহায্য করে।
৪. সমাজজীবনে প্রভাব: এ ধরনের মানুষ সমাজে বিশ্বাসযোগ্য হয় এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি হয়। ফলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়েরই মঙ্গল হয়।
সুতরাং, ঘটনা-১-এ বিবেকের বাণী এবং ঘটনা-২-এ সত্য ও অস্তেয়ের প্রকাশ ঘটেছে। এই লক্ষণগুলো অনুসরণ করলে ব্যক্তি ধর্মপথে চলে নিজের মোক্ষ ও সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও