কৃষিশিক্ষা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
কৃষি বিষয়ের শিক্ষক জামিল স্যার তার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চল ও মধুপুর অঞ্চলে শিক্ষা সফরে যান। তিনি হাতে কলমে শিক্ষার্থীদের বরেন্দ্র ও মধুপুর এলাকার মাটি নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান।
- ক)(1)
মাটি কাকে বলে?
- খ)(2)
বায়ুর প্রভাবে আবাদি জমির উর্বরতা কমে যায় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষার্থীদের মাটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের ফলাফল বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঞ্চলটি কি সব ধরনের ফসল চাষের উপযোগী? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শিলা ও খনিজ পদার্থের চূর্ণ, জৈব পদার্থ, পানি ও বায়ুর মিশ্রণে গঠিত ভূত্বকের উপরিস্তরের যে প্রাকৃতিক আবরণে উদ্ভিদ জন্মায় ও বেড়ে ওঠে, তাকে মাটি বলে।
- খ)
বায়ুপ্রবাহের কারণে শুষ্ক ও আলগা জমির উপরিভাগের হালকা ও উর্বর মাটির কণা উড়ে অন্যত্র চলে যায়। এ মাটিতে জৈব পদার্থ ও গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। ফলে উপরের স্তর ক্ষয় হলে জমির উর্বরতা কমে যায়। তাছাড়া জমি আরও শুষ্ক হয় এবং ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়।
- গ)
বরেন্দ্র ও মধুপুর অঞ্চল পুরোনো পলল বা অনুচ্চ উঁচু ভূমি অঞ্চল। সেখানে মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণে শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিচের ফলাফল পাবে।
১. মাটির রং লালচে বা ধূসর-বাদামি এবং মাটি তুলনামূলক শক্ত।
২. মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ কম, ফলে মাটি অপেক্ষাকৃত অনুর্বর।
৩. পানি ধারণক্ষমতা কম, ফলে মাটি সহজে শুকিয়ে যায়।
৪. মাটির প্রকৃতি কিছুটা অম্লীয় হয় এবং পুষ্টি উপাদান কম থাকে।এ কারণে সার, সেচ ও জৈব সার প্রয়োগ ছাড়া অধিক ফলন পাওয়া কঠিন।
- ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বরেন্দ্র ও মধুপুর অঞ্চল সব ধরনের ফসল চাষের উপযোগী নয়।
যুক্তি:
১. এ অঞ্চলের মাটি তুলনামূলক অনুর্বর, জৈব পদার্থ কম ও পানি ধারণক্ষমতা কম। তাই ধান ও পাটের মতো বেশি পানি ও উর্বর মাটিনির্ভর ফসল ভালো হয় না।
২. তবে এ অঞ্চলে আনারস, কলা, আম, কাঁঠাল, লিচুর মতো ফল এবং আদা, হলুদের মতো ফসল ভালো জন্মে।
৩. সঠিক ব্যবস্থাপনা, যেমন সেচ ব্যবস্থা, জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং মাটির সংরক্ষণ করলে অন্য ফসলও চাষ করা সম্ভব।সুতরাং, অঞ্চলটি সব ফসলের জন্য উপযোগী নয়। মাটির গুণাগুণ বিবেচনা করে উপযুক্ত ফসল নির্বাচন করা উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও