বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন বাঙালি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তিত্ব। নিজের ঐকান্তিক চেষ্টায় বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হন। কিন্তু নিজে কৃচ্ছ সাধন করে জনহিতকর কাজে লিপ্ত হন। তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য টোল, পাঠশালা, গ্রন্থাগার, হোস্টেল, নারীশিক্ষার জন্য বিদ্যানিকেতন, ছাত্রীনিবাস এবং দরিদ্রের জন্য আশ্রম, ধর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আজও সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

  1. ক)

    'সোনার তরী' কবিতায় কোন মাসের উল্লেখ রয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    'চারদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।।'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্যের ব্যক্তি জীবনের মধ্য দিয়ে 'সোনার তরী' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'মানুষ বাঁচে কর্মের মধ্যে।'- উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার আলোকে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সোনার তরী' কবিতায় শ্রাবণ মাসের উল্লেখ রয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'চারদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা'- চরণটির মাধ্যমে ছোট দ্বীপসদৃশ ধানক্ষেতের চারপাশে খরস্রোতা নদীর ক্ষিপ্র ও পরিবর্তনশীল ঘূর্ণাবর্তের রূপ তুলে ধরা হয়েছে।

    'সোনার তরী' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রূপকের আড়ালে এক গভীর সত্য প্রকাশ করেছেন। কৃষক নিঃসঙ্গভাবে নদীর কূলে অবস্থিত ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে আছে এবং তার চারপাশে নদীর প্রমত্ত স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। এই 'বাঁকা জল' মূলত মহাকালের নিষ্ঠুর ও অনিশ্চিত স্রোতধারাকে নির্দেশ করে, যা মানুষের পার্থিব অস্তিত্বকে চারদিক থেকে গ্রাস করতে উদ্যত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্যের ব্যক্তি জীবনের মধ্য দিয়ে 'সোনার তরী' কবিতার 'মানুষের মহৎ সৃষ্টির টিকে থাকা ও কর্মের স্থায়ী রূপ'-এর দিকটি ফুটে উঠেছে।

    'সোনার তরী' কবিতায় দেখা যায়, মহাকালের প্রতীক তরণী কৃষকের সোনার ধান তথা তার সারাজীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে গ্রহণ করে, কিন্তু নশ্বর ব্যক্তিকে স্থান দেয় না। অর্থাৎ, মানুষ মরণশীল হলেও তার মহৎ সৃষ্টি বা কর্ম অনন্তকাল টিকে থাকে।

    উদ্দীপকের মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য তাঁর কৃচ্ছ্রসাধন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রচুর ধনসম্পদ অর্জন করেন এবং তা জনকল্যাণে নিবেদন করেন। তিনি টোল, পাঠশালা, গ্রন্থাগার, হোস্টেল ও ধর্মশালা প্রতিষ্ঠা করে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর দৈহিক অস্তিত্ব চিরস্থায়ী না হলেও তাঁর জনহিতকর কর্মের মাধ্যমে তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন। ঠিক যেমন সোনার তরীতে কৃষকের ধান স্থান পায়, তেমনি মহেশচন্দ্রের মানবকল্যাণমুখী মহৎ কর্মও কালজয়ী হয়ে সমাজে রয়ে গেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মানুষ বাঁচে কর্মের মধ্যে'- উক্তিটি উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার সামগ্রিক দর্শনের আলোকে অত্যন্ত যথার্থ।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতার দার্শনিক সত্য হলো—মহাকাল মানুষের রক্ত-মাংসের নশ্বর দেহকে রক্ষা করে না; ব্যক্তিমানুষ কালের স্রোতে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু মানুষের আজীবন সাধনায় সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ ফসল বা কর্মকে মহাকালের তরী পরম আদরে গ্রহণ করে সংরক্ষণ করে। ফলে ব্যক্তি হারিয়ে গেলেও তার মহৎ কর্মের মাধ্যমেই সে বেঁচে থাকে।

    উদ্দীপকের মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে বিপুল সম্পদ অর্জন করেন এবং তা সমাজকল্যাণে ব্যয় করেন। তিনি শিক্ষা বিস্তার, নারীশিক্ষা প্রসার ও দরিদ্রদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মানবহিতকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পার্থিব নিয়মে তিনি হয়তো আজ নেই, কিন্তু তাঁর সুকর্ম ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠানগুলোর সুফল মানুষ আজও ভোগ করছে এবং তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।

    সুতরাং দেখা যায়, ব্যক্তিমানুষের পরমায়ু সীমিত হলেও তার মহৎ কীর্তি বা কর্ম অবিনশ্বর। উদ্দীপকের মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য যেমন তাঁর সমাজসেবামূলক কর্মের মাধ্যমে আজও স্মরণীয়, তেমনি 'সোনার তরী' কবিতার রূপকার্থেও মানুষের কর্মেরই অমরত্ব ঘোষিত হয়েছে। তাই বলা যায়, মানুষ তার বয়সে নয়, বরং কাজের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন