বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের চিত্রটি লক্ষ্য কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:রায়ের বাজার শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ

  1. ক)

    প্রিন্সিপালের মতে পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা কী?

    (1)
  2. খ)

    রেইনকোটের ওপর চাবুকের বাড়ি নুরুল হুদার কাছে স্রেফ উৎপাত মনে হচ্ছিল কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি 'রেইনকোট' গল্পের কোন দিকটিকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “ত্রিশ লক্ষ শহিদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে 'বাংলাদেশ' আজ অনন্ত অক্ষত মূর্তিমান"-'রেইনকোট' গল্প এবং উদ্দীপকের চিত্রের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রিন্সিপালের মতে পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা হলো শহীদ মিনার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে দেওয়ার পর ভীরু নুরুল হুদার মধ্যে যে প্রবল দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত হয়েছিল, তার ফলে চাবুকের প্রহার তার কাছে স্রেফ উৎপাত মনে হচ্ছিল।

    পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নুরুল হুদাকে আলমারি নামানোর ছলে ডেকে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগের অভিযোগে ঝুলিয়ে নির্দয়ভাবে চাবুক মারে। কিন্তু মিন্টুর রেইনকোট গায়ে থাকায় নুরুল হুদার মন থেকে মৃত্যুভয় দূর হয়ে গিয়েছিল এবং তার ভেতর মুক্তিযোদ্ধাদের দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় সঞ্চারিত হয়েছিল। তিনি দেশের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় নিজের শারীরিক যন্ত্রণাকে তুচ্ছ মনে করে পরম সাহসের সাথে হানাদারদের আঘাতকে কেবল একটি মামুলি উৎপাত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রটি 'রেইনকোট' গল্পের বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের ওপর পাকিস্তানি হানাদারদের নিপীড়ন ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের পটভূমিকে নির্দেশ করেছে।

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য চক্রান্তে রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সাহিত্যিকদের নির্মমভাবে হত্যা করে। উদ্দীপকের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধটি সেই নির্মম আত্মত্যাগের স্মারক বহন করে।

    'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, পাকিস্তানি বাহিনী কীভাবে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর নজরদারি করত এবং সাধারণ কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদাকে সন্দেহের বশে মিলিটারি ক্যাম্পে ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ এবং পিয়ন ইসহাক মিয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তাবেদারি করে শিক্ষকদের ভয়ভীতির মধ্যে রাখত। নুরুল হুদার মতো সাধারণ কলেজ শিক্ষককে তুলে নিয়ে গিয়ে যে নির্যাতন চালানো হয়, তা ছিল সেই সময়ে শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর পরিকল্পিত নিগ্রহের অংশ। উদ্দীপকের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধটি 'রেইনকোট' গল্পের শিক্ষকদের ওপর চালানো এই নির্যাতন এবং সার্বিকভাবে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক সত্যকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “ত্রিশ লক্ষ শহিদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে 'বাংলাদেশ' আজ অনন্ত অক্ষত মূর্তিমান”— উক্তিটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চরম আত্মত্যাগ ও অর্জিত স্বাধীনতার মহিমাকে যথার্থভাবে প্রকাশ করে, যা 'রেইনকোট' গল্প ও উদ্দীপকের চিত্রের আলোকে প্রতিফলিত হয়েছে।

    উদ্দীপকের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের স্মারক। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বিজয়ের প্রাক্কালে এ দেশের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। এই স্মৃতিসৌধের ভগ্ন দেয়ালটি সেই বর্বরতার পাশাপাশি তাঁদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের মাথা তুলে দাঁড়ানোর প্রতীক।

    অন্যদিকে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পে একটি সাধারণ কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদার রূপান্তরের মাধ্যমে সমগ্র বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণ ও ভীতু নুরুল হুদা মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা প্রকাশ করেননি। চাবুকের প্রতিটি আঘাতে তাঁর ভেতর জাতীয়তাবোধ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল। নুরুল হুদার এই অনমনীয় মনোভাব ছিল মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের চরম আত্মত্যাগেরই ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী রূপ।

    অতএব, উদ্দীপকের স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে যেমন জাতির বুদ্ধিজীবীসহ লাখো শহীদের মহান বলিদান প্রতিফলিত হয়েছে, তেমনি 'রেইনকোট' গল্পে নিপীড়িত জনতার সাহস ও দেশের জন্য আত্মোৎসর্গের চেতনা পরিস্ফুট হয়েছে। লাখো প্রাণের রক্ত এবং মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়েই আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সার্বিক বাস্তবতায় যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন