বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

কিছু কিছু মানুষ তাদের চাওয়া-পাওয়ার প্রত্যক্ষ উৎস হিসেবে মাজারকে বেছে নেয়। হরেক রকম মানত করে। তেমনি এক অসহায় বৃদ্ধ সালাম মণ্ডল। তার রোগগ্রস্ত ছেলের জন্য মাজারে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি মানত করে। এতে ছেলের শারীরিক কোনো উন্নতি ঘটে না। ছেলে তার দিনকে দিন খারাপের দিকেই যায়। তার শেষ সম্বল টাকা-পয়সা যা ছিল তাও সে মাজারে ছুঁড়ে দিয়ে ছেলের জন্য রোগমুক্তির প্রার্থনা করে।

  1. ক)

    খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "খেলোয়াড় চলে গেছে, খেলবে কার সাথে।”—কথাটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সালাম মন্ডলের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে মাজারভক্তির একই চিত্র ফুটে ওঠেছে”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তনু বিবি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, প্রতিদ্বন্দ্বী বা উপযুক্ত প্রতিপক্ষ না থাকলে কোনো সংঘাত বা ক্ষমতার লড়াই অর্থহীন হয়ে পড়ে।

    'লালসালু' উপন্যাসে আউয়ালপুরের পীর মহব্বতনগর গ্রামে প্রভাব বিস্তার করতে এলে মজিদ শঙ্কিত হয়ে পড়ে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন গ্রামবাসী মজিদের চাতুর্যের কারণে পীরের প্রতি মোহগ্রস্ততা কাটিয়ে ওঠে এবং পীর সাহেবও এলাকা ত্যাগ করেন, তখন মজিদের একক আধিপত্য আবার প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষ চলে যাওয়ায় লড়াই করার মতো আর কেউ থাকল না বোঝাতেই কথাটি বলা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সালাম মণ্ডলের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের অন্ধ বুড়ো এবং রোগগ্রস্ত ছেলের পিতা দুদু মিয়ার সাদৃশ্য রয়েছে; বিশেষ করে উপন্যাসের অন্ধ বুড়োর পুত্রশোকার্ত রূপ এবং গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষের অন্ধ বিশ্বাসের সাথে তার মিল প্রত্যক্ষ করা যায়।

    উদ্দীপকের সালাম মণ্ডল এক অসহায় পিতা, যিনি রোগাক্রান্ত ছেলের চিকিৎসার বদলে অন্ধ বিশ্বাস থেকে মাজারে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি এবং শেষ সম্বল টাকা-পয়সা দান করে রোগমুক্তির প্রার্থনা করেন।

    'লালসালু' উপন্যাসেও দেখা যায়, গ্রামের ধর্মভীরু ও অজ্ঞ মানুষেরা রোগ-শোক ও সংকটে ডাক্তারের চেয়ে মজিদের মাজার এবং তার পানি পড়া বা তাবিজের ওপর বেশি নির্ভর করে। হাসুনির মা, দুদু মিয়া কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগাক্রান্ত সন্তানের অভিভাবকেরা মজিদের মাজারে মানত করে এবং শেষ সম্বলটুকু বিলিয়ে দেয়। উদ্দীপকের সালাম মণ্ডলের মতো তারাও কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসের শিকার হয়ে চিকিৎসার পথ পরিহার করে মাজারের অলৌকিক ক্ষমতার পেছনে ছোটে। তাই সালাম মণ্ডল চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অসহায় ভক্ত সাধারণের চরম প্রতিনিধিরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে মাজারভক্তির একই চিত্র ফুটে উঠেছে”—মন্তব্যটি যথার্থ।

    বাংলার গ্রামীণ সমাজে যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষ ধর্মীয় অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে মাজারকে সর্বরোগ ও সংকটের মুক্তির উপায় মনে করে এসেছে। উদ্দীপক ও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উভয় স্থানেই মানুষের এই অন্ধ মাজারভক্তির বাস্তব রূপ প্রতিফলিত হয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সালাম মণ্ডল তার মুমূর্ষু ছেলের আরোগ্যের আশায় হাসপাতালে না গিয়ে মাজারে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ নিজের সর্বস্ব টাকা-পয়সা দান করে। ছেলের অবস্থা দিনে দিনে অবনতি হলেও তার মাজারভক্তি ও অন্ধ বিশ্বাসে কোনো চিড় ধরে না।

    একইভাবে 'লালসালু' উপন্যাসেও দেখা যায়, মজিদ একটি প্রাচীন অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বলে প্রচার করে মহব্বতনগর গ্রামে নিজের ক্ষমতার ভিত গড়ে তোলে। গ্রামের সাধারণ, অজ্ঞ ও রোগগ্রস্ত মানুষ সন্তান লাভ, রোগমুক্তি এবং বিপদ থেকে রক্ষা পেতে মাজারে সিন্নি দেয়, মানত করে এবং পয়সা ফেলে। তারা বাস্তবসম্মত চিকিৎসার বদলে মাজার ও মজিদের দোয়ার ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাস উভয় স্থানেই বৈজ্ঞানিক বা বাস্তব চিকিৎসার পরিবর্তে কুসংস্কারজাত অন্ধ মাজারভক্তি এবং সেই বিশ্বাসের সুযোগে মানুষের সর্বস্ব হারানোর অভিন্ন বাস্তবতা সার্থকভাবে চিত্রিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন