অর্থনীতি • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি প্রশ্ন

মি. মশিউর যে দেশে বসবাস করেন সে দেশের সমস্ত সম্পদ বা উৎপাদনের উপকরণগুলোর ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত। উক্ত দেশের অর্থনীতির ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ নেই বললেই চলে। প্রত্যেক দ্রব্যের দাম ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে বাংলাদেশে ব্যস্তিগত মালিকানার পাশাপাশি সরকারি মালিকানাও স্বীকৃত।

  1. ক)

    অধ্যাপক মার্শাল কর্তৃক প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখো।

    (1)
  2. খ)

    অভাব পুরণে নির্বাচন করতে হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মি.মশিউরের দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মি. মশিউরের দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অধ্যাপক মার্শালের মতে, অর্থনীতি হলো মানবজীবনের দৈনন্দিন কাজকর্মের আলোচনা, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সেই অংশকে বিশ্লেষণ করে, যা বস্তুগত কল্যাণ অর্জন ও ভোগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

  2. খ)

    মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত বা দুষ্প্রাপ্য। সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয় বলে মানুষকে বেছে নিতে হয় কোন অভাব আগে মিটবে। যেমন সীমিত আয় দিয়ে কেউ যদি খাবার ও জামা দুটোই কিনতে না পারে, তবে তাকে একটিকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। তাই অভাব পূরণে নির্বাচন করতে হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে মি. মশিউরের দেশে সমস্ত সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত, সরকারি হস্তক্ষেপ প্রায় নেই এবং দ্রব্যের দাম ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষিতে নির্ধারিত হয়। এগুলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার (Capitalist Economy) বৈশিষ্ট্য।

    ব্যাখ্যা:
    ১. এ ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণের ওপর ব্যক্তির মালিকানা থাকে এবং সবাই স্বাধীনভাবে সম্পদ ব্যবহার করতে পারে।
    ২. উৎপাদনের মূল উদ্দেশ্য সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন।
    ৩. দাম নির্ধারণ হয় বাজারে চাহিদা ও জোগানের মাধ্যমে, তাই একে বাজার অর্থনীতিও বলা হয়।

    সুতরাং মি. মশিউরের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    মি. মশিউরের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এবং বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। দুটির মধ্যে মূল পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. মালিকানা: মশিউরের দেশে সব সম্পদের মালিকানা ব্যক্তির হাতে। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত মালিকানার পাশাপাশি সরকারি মালিকানাও স্বীকৃত।
    ২. সরকারি ভূমিকা: ধনতান্ত্রিক দেশে অর্থনীতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রায় নেই। বাংলাদেশে সরকার গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৩. দাম নির্ধারণ: মশিউরের দেশে দাম নির্ধারিত হয় শুধু বাজারের চাহিদা ও জোগানে। বাংলাদেশে প্রয়োজনে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
    ৪. উদ্দেশ্য: ধনতান্ত্রিক দেশে প্রধান লক্ষ্য মুনাফা; বাংলাদেশে মুনাফার পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণও লক্ষ্য।

    সুতরাং ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তির স্বাধীনতা বেশি, আর বাংলাদেশের মিশ্র ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সরকারি নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন