ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
RNL বলপেন লি.-এর ব্যবস্থাপক জনাব রাফসান তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখেন না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি কর্মীদের পরামর্শ গ্রহণ করেন না। এতে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক কাজ সম্পাদিত হলেও কর্মীরা সন্তুষ্ট নয়। অপরদিকে, BSB কোম্পানির কর্ণধার বিচিত্রা সেন কর্মীদের কাজে কোন পরামর্শ দেন না, কর্মীরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন।
- ক)(1)
বাজেট কী?
- খ)(2)
কখন নেতিবাচক নেতৃত্ব প্রয়োজন হয়?
- গ)(3)
জনাব রাফসান ক্ষমতার বিচারে কোন ধরনের নেতৃত্ব অনুসরণ করেছেন? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
'সৃজনশীলতার বিকাশে BSB কোম্পানির জনাব বিচিত্রা সেন অনুসৃত নেতৃত্বের ধরনটি বিশেষ ভূমিকা রাখলেও দলীয় সংহতি রক্ষায় এটি তেমন কার্যকরী পদ্ধতি নয় - তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিকল্পনার সংখ্যাত্মক বা গাণিতিক প্রকাশকে বাজেট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যখন কর্মীরা দায়িত্বজ্ঞানহীন, অলস, অদক্ষ, ফাঁকিবাজ বা পরিবর্তন-প্রতিরোধী হয় এবং সাধারণ উৎসাহ বা ইতিবাচক অনুপ্রেরণায় সাড়া দেয় না, তখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেতিবাচক নেতৃত্ব প্রয়োজন হয়।
এ ধরনের নেতৃত্বে কর্মীদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, শাস্তির হুমকি, বেতন কর্তন বা চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে কাজ আদায় করা হয়। বিশৃঙ্খল ও অবাধ্য কর্মীদের কাছ থেকে জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ আদায় করতে এ নেতৃত্ব কার্যকর হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষমতার বিচারে জনাব রাফসান স্বৈরতান্ত্রিক বা প্রভুত্বমূলক (Autocratic) নেতৃত্ব অনুসরণ করেছেন।
যে নেতৃত্বে নেতা সমস্ত ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করে রাখেন, অধস্তনদের ওপর আস্থা রাখেন না, কোনো পরামর্শ না নিয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং নিজের আদেশ কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেন, তাকে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, RNL বলপেন লি.-এর ব্যবস্থাপক জনাব রাফসান কর্মীদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখেন না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কোনো পরামর্শ নেন না। তিনি একক কর্তৃত্বে কাজ পরিচালনা করেন। যদিও এতে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ দ্রুত সম্পাদিত হয়, কিন্তু কর্মীরা সন্তুষ্ট নয়। এসব বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে স্বৈরতান্ত্রিক বা প্রভুত্বমূলক নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি উক্ত মন্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত। মুক্ত বা লাগামহীন (Laissez-faire) নেতৃত্ব সৃজনশীলতার বিকাশে ভূমিকা রাখলেও দলীয় সংহতি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তেমন কার্যকর নয়।
যে নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের কাজে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা পরামর্শ দেন না, কর্মীরা নিজেদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেয় ও কার্য সম্পাদন করে, তাকে মুক্ত বা লাগামহীন নেতৃত্ব বলে। BSB কোম্পানির জনাব বিচিত্রা সেন এই নেতৃত্ব অনুসরণ করেন।
মুক্ত নেতৃত্বে কর্মীরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পায়। এর ফলে কর্মীদের নিজস্ব প্রতিভা, মেধা এবং সৃজনশীলতার পূর্ণ বিকাশ ঘটে। তারা স্বাধীনভাবে নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু এর নেতিবাচক দিক হলো—নেতার দিকনির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে কর্মীরা দিকভ্রান্ত হতে পারে, নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও পারস্পরিক মতবিরোধ তৈরি হতে পারে এবং দলগত ঐক্য বা সংহতি বিনষ্ট হতে পারে। কেউ কারও প্রতি দায়বদ্ধ না থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
অতএব, দলগত শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও সংহতি বজায় রাখতে মুক্ত নেতৃত্ব দুর্বল হলেও ব্যক্তিগত মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে এটি উপযোগী—সুতরাং প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও