কৃষিশিক্ষা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
নূর হাসান তাঁর জমিতে উন্নত গম চাষ করার সিদ্ধান্ত নিলেন । এ জন্য তিনি বন্ধু রিফাতের নিকট থেকে বীজ সংগ্রহ করলেন । উক্ত বীজ তিনি রোদে নিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিলেন। শুকানোর পর তিনি প্রতি কেজি বীজ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজন পেলেন। অতঃপর বীজের অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট চিত্তে আবাদ করেন ।
- ক)(1)
রগিং কাকে বলে?
- খ)(2)
দোআঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
নূর হাসানের পরীক্ষিত বীজের আর্দ্রতার হার নির্ণয় করো ।
- ঘ)(4)
নূর হাসানের বীজ পরীক্ষার কার্যক্রম মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ফসল কাটার আগে বীজ ফসলের জমি থেকে ভিন্ন জাতের, রোগাক্রান্ত ও অবাঞ্ছিত গাছ তুলে ফেলাকে রগিং বলে।
- খ)
দোআঁশ মাটিতে বালি, পলি ও কাদার অনুপাত প্রায় সমান থাকে। এ মাটি বেশ ঝুরঝুরে হওয়ায় বায়ু চলাচল ভালো হয় এবং শিকড় সহজে বাড়তে পারে। আবার এটি প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টি উপাদান ধরে রাখতে পারে, অথচ বাড়তি পানি বের হয়ে যায়। তাই প্রায় সব ফসলের জন্য উপযোগী হওয়ায় দোআঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপক অনুযায়ী, শুকানোর আগে বীজের ওজন ১ কেজি = ১০০০ গ্রাম এবং শুকানোর পর ওজন ৯০০ গ্রাম।
পানির ওজন = (১০০০ − ৯০০) গ্রাম = ১০০ গ্রাম
অতএব, নূর হাসানের বীজের আর্দ্রতার হার ১০%। - ঘ)
নূর হাসান বীজ রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতা নির্ণয় করেছেন, এরপর অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করে বপন করেছেন। কার্যক্রমটি মূলত ভালো, তবে সম্পূর্ণ নয়।
১. আর্দ্রতা পরীক্ষা: তার বীজে আর্দ্রতা ১০%, যা নিরাপদ সংরক্ষণ ও বপনের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রা।
২. অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা: এতে বোঝা যায় বীজ থেকে কত শতাংশ চারা গজাবে; ফলে কম অঙ্কুরোদগম হারের বীজ বপনের ক্ষতি এড়ানো যায়।
৩. অসম্পূর্ণতা: তিনি বীজের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা (অন্য জাতের বীজ, আগাছার বীজ ও ময়লা আছে কি না) করেননি। এছাড়া বীজ বন্ধুর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, তাই এর জাত ও রোগমুক্ততা নিশ্চিত নয়।
সুতরাং, নূর হাসানের পরীক্ষা কার্যক্রম ভালো হলেও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা যুক্ত করলে বীজের মান সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও