পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
- খ)(2)
দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানে তোমার পঠিত কোন আইনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) আইনে কেন্দ্রের শাসক প্রধানের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল (ও ভাইসরয়) ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে বোঝায় ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতি—এই ধারণাকে। ১৯৩৯-১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ তত্ত্বটি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এ তত্ত্বে বলা হয়, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দু ও মুসলমান সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র দুটি জাতি, ফলে তাদের জন্য পৃথক স্বাধীন আবাসভূমি বা রাষ্ট্র গঠন আবশ্যক। এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানে আমার পঠিত '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন'-কে নির্দেশ করে।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ছিল ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক অগ্রগতির একটি ঐতিহাসিক দলিল। উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে এ আইনটিকে সুস্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়:
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: এ আইনের মাধ্যমে প্রদেশে পূর্ববর্তী দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়।
২. নতুন প্রদেশ সৃষ্টি: এ আইনের অধীনে সিন্ধু ও উড়িষ্যা নামে দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয় এবং বার্মাকে (মিয়ানমার) ভারত থেকে পৃথক করা হয়।
৩. কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন: প্রদেশগুলো থেকে দ্বৈতশাসন তুলে নিয়ে তা কেন্দ্রে প্রবর্তন করা হয়, যেখানে বিষয়সমূহকে 'সংরক্ষিত' ও 'হস্তান্তরিত'—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল।
৪. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (রাষ্ট্রীয় পরিষদ ও ব্যবস্থাপক সভা) করা হয়। এ ছাড়া কয়েকটি প্রদেশেও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তিত হয়।সুতরাং, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ নিশ্চিত করে যে উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটিই নির্দেশিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে কেন্দ্রীয় শাসক প্রধান অর্থাৎ গভর্নর জেনারেলকে (ভাইসরয়) অসীম ও সর্বময় ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এ আইনে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র এবং কেন্দ্রে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে মূল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল গভর্নর জেনারেলের হাতে:
১. প্রশাসনিক ক্ষমতা: কেন্দ্রে বিষয়গুলোকে 'সংরক্ষিত' (যেমন—প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, ধর্মীয় বিষয়) ও 'হস্তান্তরিত'—এ দু'ভাগে ভাগ করা হয়। সংরক্ষিত বিষয়সমূহের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গভর্নর জেনারেলের নিজস্ব বিবেচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর ন্যস্ত ছিল। হস্তান্তরিত বিষয়ের জন্য গঠিত মন্ত্রিপরিষদ গভর্নর জেনারেলের অধীনে কাজ করত এবং তিনি যেকোনো সময় তাদের পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করতে পারতেন।
২. আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় আইনসভা কর্তৃক পাসকৃত যেকোনো বিলে সম্মতি প্রদান, সম্মতি স্থগিত রাখা কিংবা তা ব্রিটিশ সম্রাটের বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা গভর্নর জেনারেলের ছিল। এ ছাড়া তিনি জরুরি অবস্থায় স্ববিবেচনায় অধ্যাদেশ (Ordinance) জারি এবং নিজ ক্ষমতাবলে আইন তৈরি ('Governor-General's Acts') করতে পারতেন।
৩. আর্থিক ক্ষমতা: গভর্নর জেনারেলের সুপারিশ ছাড়া কোনো অর্থবিল কেন্দ্রীয় আইনসভায় উত্থাপন করা যেত না এবং বাজেটের সিংহভাগ ব্যয়ের ওপর আইনসভার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না।
৪. জরুরি ক্ষমতা: কেন্দ্র বা কোনো প্রদেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে গভর্নর জেনারেল সমস্ত ক্ষমতা নিজ হাতে গ্রহণের এখতিয়ার রাখতেন।পরিশেষে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে কেন্দ্রীয় সরকারে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বাস্তবে গভর্নর জেনারেল ছিলেন একচ্ছত্র ও স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার অধিকারী। ফলে আপাতদৃষ্টিতে স্বায়ত্তশাসন বা দায়িত্বশীলতার কথা বলা হলেও কেন্দ্রে গভর্নর জেনারেলই ছিলেন প্রকৃত ও সর্বেসর্বা শাসক প্রধান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও