পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

জনাব তমিজউদ্দীন একটি প্রতিষ্ঠানের একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। অন্যদিকে জনাব নাসির আহমেদ বিভিন্ন গ্রামীণ পরিবারিক বিবাদ, কৃষি, মাছ চাষ, পশু পালনসহ নানা রকম অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন। এই প্রতিষ্ঠানটিকেই প্রশাসনের তিন স্তরের মধ্যে নিচের দিকে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ইউনিট বলে বিবেচনা করা হয়।

  1. ক)

    কত সালে পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    নাগরিকতার বিকাশে স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব কী?

    (2)
  3. গ)

    জনাব তমিজউদ্দীন কোন প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নাসির আহমেদের কাজগুলো উক্ত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট-বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

  2. খ)

    স্থানীয় সরকার নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও অধিকার সচেতনতা জাগিয়ে তোলে।

    নির্বাচনে ভোটদান, প্রার্থী হওয়া এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে মানুষ নাগরিক দায়িত্ব পালনের অভ্যাস গড়ে তোলে। এতে তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম বিকশিত হয়। এভাবে স্থানীয় সরকার নাগরিকতার বিকাশে সহায়তা করে।

  3. গ)

    জনাব তমিজউদ্দীন সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধি, অর্থাৎ মেয়র।

    উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে গড়ে উঠেছে, এর প্রধান জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন এবং তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। এগুলো সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের বৈশিষ্ট্য। বড় বড় শহরে নগর শাসন ও নাগরিক সেবা দেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়। তাই তমিজউদ্দীন সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধি।

  4. ঘ)

    জনাব নাসির আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি। তার কাজগুলো হলো পারিবারিক বিবাদ নিষ্পত্তি, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালনের উন্নয়ন এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধি। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি।

    ১. অবকাঠামো উন্নয়ন: রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট ও বিদ্যুৎ-পানির ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া গ্রামের অগ্রগতি সম্ভব নয়।
    ২. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।
    ৩. প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা কাজ: জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কর আদায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করা পরিষদের দায়িত্ব।
    ৪. সামাজিক নিরাপত্তা: দুস্থদের ভাতা ও ত্রাণ বিতরণ এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হয়।

    সুতরাং, নাসির আহমেদের কাজগুলো ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়; এর জন্য অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কাজও সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন