বিজ্ঞান • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

বিজ্ঞান প্রশ্ন

ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো শনাক্ত করলেন। প্রথমতঃ জীবনের দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা থাকায় মাথায় টিউমার। দ্বিতীয়তঃ কাসেমের দেহের কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। তৃতীয়তঃ মোহনের বুকে বেশি ব্যথা থাকায় রক্তনালিকা বন্ধ হয়ে গেছে।

  1. ক)

    X-Ray কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    শব্দের প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগিয়ে শরীরের কঠিন অংশের সমস্যা চিহ্নিত করা যায় না কেন? ব‍্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জীবনের রোগ শনাক্তকরণের পরীক্ষাটির কার্যপ্রণালি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কাসেম ও মোহনের রোগ দুইটির মধ্যে কোনটি আলোর প্রতিসরণকে কাজে লাগিয়ে শনাক্ত করা যায়? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    উচ্চ শক্তির, ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের এক ধরনের অদৃশ্য তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, যা অস্বচ্ছ বস্তু ভেদ করতে পারে এবং যা দিয়ে দেহের ভেতরের অংশের ছবি তোলা যায়, তাকে X-Ray বলে। রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এটি আবিষ্কার করেন।

  2. খ)

    প্রতিধ্বনির সাহায্যে রোগ নির্ণয়ে অতিশব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। এই তরঙ্গ নরম টিস্যু ভেদ করে যেতে পারে এবং বিভিন্ন স্তরের সীমানা থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে।

    কিন্তু হাড়ের মতো কঠিন অংশে অতিশব্দ তরঙ্গ প্রায় সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় বা শোষিত হয়, ভেতরে ঢুকতে পারে না। ফলে কঠিন অংশের ভেতরের গঠন বা সমস্যা শনাক্ত করা যায় না।

  3. গ)

    জীবনের মাথায় টিউমার শনাক্ত করার জন্য সিটি স্ক্যান (CT scan) পরীক্ষা করা হয়।

    এর কার্যপ্রণালি :
    ১. রোগীকে একটি বৃত্তাকার যন্ত্রের ভেতরে শুইয়ে দেওয়া হয়।
    ২. যন্ত্রটির এক্স-রে উৎস রোগীর মাথার চারদিকে ঘুরে বিভিন্ন কোণ থেকে অল্প মাত্রার এক্স-রে প্রেরণ করে।
    ৩. বিপরীত দিকের সংবেদী যন্ত্র ভেদ করে আসা এক্স-রে মেপে তথ্য সংগ্রহ করে।
    ৪. কম্পিউটার সেই তথ্য থেকে মাথার ভেতরের বিভিন্ন স্তরের প্রস্থচ্ছেদ চিত্র তৈরি করে। এতে টিউমারের অবস্থান ও আকার বোঝা যায়।

  4. ঘ)

    কাসেমের রোগ ক্যান্সার (দেহকোষের অস্বাভাবিক বিভাজন) এবং মোহনের রোগ রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া। এ দুটির মধ্যে মোহনের রোগটি আলোর প্রতিসরণকে কাজে লাগিয়ে শনাক্ত করা যায়।

    ১. মোহনের রোগ : রক্তনালির ভেতরের অবস্থা দেখতে এন্ডোস্কোপ ব্যবহার করা হয়। এতে অপটিক্যাল ফাইবারের নল থাকে।
    ২. আলোর প্রতিসরণ ও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন : ফাইবারের একপ্রান্ত দিয়ে আলো প্রবেশ করলে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে বাঁকা পথেও আলো অপর প্রান্তে পৌঁছায়। এর সাহায্যে রক্তনালি বা অঙ্গের ভেতরের ছবি দেখে বাধা শনাক্ত করা যায়।
    ৩. কাসেমের রোগ : ক্যান্সার শনাক্ত করতে সাধারণত বায়োপসি, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি করা হয়। এগুলো আলোর প্রতিসরণের ওপর নির্ভরশীল নয়।

    সুতরাং, আলোর প্রতিসরণকে কাজে লাগিয়ে মোহনের রোগ শনাক্ত করা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন