বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
প্রাচীন যুগ কী?
- খ)(2)
প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ঐক্য কীভাবে গড়ে উঠেছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ছক ১নং কোন জনপদকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"ছক-২ প্রাচীন যে জনপদের প্রতিনিধিত্ব করছে, সেটি ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ইতিহাসে আদিম যুগের পর থেকে মধ্যযুগ শুরুর আগ পর্যন্ত সময়কালকে প্রাচীন যুগ বলা হয়। বাংলার ইতিহাসে এটি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি বিজয়ের আগ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- খ)
প্রাচীন বাংলা প্রথমে গৌড়, পুণ্ড্র, বঙ্গ, সমতট প্রভৃতি আলাদা জনপদে বিভক্ত ছিল। গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক প্রথম বাংলার বিভিন্ন জনপদকে একত্র করে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মাৎস্যন্যায় (অরাজকতা) দেখা দিলে জনগণ গোপালকে রাজা নির্বাচিত করে। গোপাল ও তাঁর উত্তরসূরি পাল রাজারা বাংলাকে আবার ঐক্যবদ্ধ করেন। এভাবে প্রাচীন বাংলায় রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ওঠে।
- গ)
ছক-১-এ কর্ণসুবর্ণ, মুর্শিদাবাদ ও মালদহের উল্লেখ আছে। এ অঞ্চলগুলো প্রাচীন বাংলার গৌড় জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গৌড় জনপদ বর্তমান মুর্শিদাবাদ ও মালদহ অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। এর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। রাজা শশাঙ্ক এ জনপদের শাসক ছিলেন এবং তাঁর সময়ে গৌড় রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে ‘গৌড়’ নাম পুরো বাংলাকে বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়েছে।
- ঘ)
ছক-২-এ বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুরের উল্লেখ আছে। এটি প্রাচীন বাংলার পুণ্ড্র জনপদের প্রতিনিধিত্ব করছে। উক্তিটি যথার্থ।
১. উর্বর ভূমি: এ অঞ্চল (বরেন্দ্রভূমি) কৃষিকাজের জন্য উপযোগী ছিল। ফলে অধিক ফসল উৎপন্ন হতো।
২. রাজধানী ও নগরকেন্দ্র: এর রাজধানী পুণ্ড্রনগর (মহাস্থানগড়) ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
৩. ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ: নদীপথ ও স্থলপথে এ জনপদ বাংলার অন্য অঞ্চল এবং বাইরের সাথে যুক্ত ছিল।
৪. প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন: এ অঞ্চলে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর সমৃদ্ধির সাক্ষ্য দেয়।সুতরাং, কৃষি, বাণিজ্য ও নগরায়ণের কারণে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও