পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: 'ক' রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রপ্রধান জনাব মনিরুল ইসলামকে নিয়োগ দেন এবং শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান শেষে জনাব মনিরুল ইসলাম বলেন, "আমি সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করবো।"দৃশ্যকল্প-২: জনাব কবিরুল ইসলাম এমন একটি সংগঠনের সদস্য যার সদস্যরা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে একই মতামত ধারণ করে। যাদের কিছু নির্বাচনি কর্মসূচি থাকে।

  1. ক)

    নির্বাচন কী?

    (1)
  2. খ)

    আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এর সাথে পাঠ্যবইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনটি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত সংগঠনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নির্বাচন হলো এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে জনগণ ভোটের দ্বারা তাদের প্রতিনিধি বা সরকার নির্বাচন করে।

  2. খ)

    আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রথমে মুসলমানদের সংগঠন হিসেবে গঠিত হয়। কিন্তু পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে হিন্দু-মুসলমানসহ সব ধর্মের মানুষ ছিল। দলটি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হতে চেয়েছিল। তাই ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ রাখা হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ রাষ্ট্রপ্রধান একজন ব্যক্তিকে সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দিয়ে শপথ পাঠ করান, যিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নেন। এটি পাঠ্যবইয়ের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারকে নিয়োগ দেন এবং তাঁরা শপথ গ্রহণ করেন। এ কমিশন ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ ও নির্বাচন পরিচালনা করে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ কবিরুল ইসলাম যে সংগঠনের সদস্য, তার সদস্যরা নির্দিষ্ট বিষয়ে একই মত পোষণ করে এবং নির্বাচনি কর্মসূচি রয়েছে। এটি রাজনৈতিক দল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. জনমত গঠন: রাজনৈতিক দল নীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে এবং জনমত গড়ে তোলে।
    ২. সরকার গঠন: নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে দল সরকার গঠন করে। অন্য দলগুলো বিরোধী দল হিসেবে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে।
    ৩. রাজনৈতিক শিক্ষা ও নেতৃত্ব: দল নাগরিকদের রাজনৈতিক শিক্ষা দেয় এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করে।
    ৪. সরকার ও জনগণের সেতুবন্ধন: জনগণের সমস্যা ও দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরে।

    সুতরাং, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুসংহত করতে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন