ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
আরিফ তার বিশজন বন্ধু নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে একটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। আরিফ নিজে এবং তাঁর বন্ধু জসীম ব্যবসায় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। তাঁরা এখন ব্যবসায়ের পরিধি বৃদ্ধি করতে চায়। কাজেই তারা বাজারে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে চায়। কিন্তু কিছু আইনগত সমস্যার কারণে সে তা করতে পারে না।
- ক)(1)
ন্যূনতম মূলধন কী?
- খ)(2)
কোম্পানিকে কেন উপযুক্ত বিনিয়োগ ক্ষেত্র বলা হয়?
- গ)(3)
আরিফ এবং তার বন্ধুরা কোন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছিল? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
শেয়ার বিক্রির বাধা দূরীকরণে করণীয় সম্পর্কে তোমার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির কাজ শুরু করার জন্য স্মারকিলিপিতে উল্লেখিত ন্যূনতম যে পরিমাণ চাঁদা বা মূলধন সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক, তাকে ন্যূনতম মূলধন (Minimum Subscription) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানি সংগঠনে শেয়ারহোল্ডারদের দায় সাধারণত ক্রয়কৃত শেয়ারের অভিহিত মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে এবং শেয়ার সহজে হস্তান্তরযোগ্য হওয়ায় বিনিয়োগে ঝুঁকি কম থাকে। এ ছাড়া নিয়মিত লভ্যাংশ প্রাপ্তির সুযোগ ও শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। ঝুঁকি কম এবং তারল্য সুবিধা বেশি থাকার কারণেই কোম্পানিকে বিনিয়োগের সবচেয়ে উপযুক্ত ক্ষেত্র বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরিফ এবং তার বন্ধুরা একটি 'প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি' প্রতিষ্ঠা করেছিল।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ, যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং যা বাজারে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে শেয়ার বা ঋণপত্র বিক্রির আহ্বান জানাতে পারে না, তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। এ ধরনের কোম্পানিতে পরিচালকের সর্বনিম্ন সংখ্যা ২ জন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আরিফ তার ২০ জন বন্ধু নিয়ে (মোট ২১ জন সদস্য) ব্যবসাটি পরিচালনা করছেন, যা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সদস্যসীমার (সর্বোচ্চ ৫০ জন) মধ্যে পড়ে। আরিফ ও জসীম—এই দুইজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির আইনি শর্ত পূরণ করে। তারা বাজারে সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করতে পারছে না আইনগত বিধিনিষেধের কারণে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সংজ্ঞানুযায়ী জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি নিষিদ্ধ। অতএব, এটি নিশ্চিতভাবেই একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেয়ার বিক্রির আইনগত বাধা দূরীকরণে আরিফ ও তার বন্ধুদের ব্যবসাটিকে 'প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি' থেকে 'পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে' রূপান্তর করতে হবে। আমি এই রূপান্তরের পরামর্শ দিচ্ছি।
কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুসারে, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কখনোই সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বা ঋণপত্র বিক্রির আহ্বান জানাতে বা বিবরণপত্র প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বাজারে বিবরণপত্র বিলি করে জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে অবাধে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। তাই শেয়ার বিক্রির সুবিধা পেতে হলে বিদ্যমান প্রাইভেট কোম্পানিটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করাই একমাত্র আইনগত পথ।
এই বাধা দূরীকরণে করণীয় পদক্ষেপসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণ: শেয়ারহোল্ডারদের জরুরি সাধারণ সভা ডেকে কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের জন্য বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
২. সংঘবিধি ও স্মারকলিপি সংশোধন: পাবলিক কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী সংঘবিধি ও সংঘস্মারকের সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ (যেমন শেয়ার হস্তান্তরের সীমাবদ্ধতা বিলোপ, মূলধন বৃদ্ধি ইত্যাদি) সংশোধন করতে হবে। কোম্পানির নামের শেষে 'প্রাইভেট লিমিটেড' শব্দের পরিবর্তে 'লিমিটেড' লিখতে হবে।
৩. সদস্য ও পরিচালক সংখ্যা বৃদ্ধি: পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে ৭ জন (যা উদ্দীপকে ২১ জন থাকায় ইতিমধ্যে পূর্ণ) এবং পরিচালক সংখ্যা কমপক্ষে ৩ জনে উন্নীত করতে হবে (উদ্দীপকে আরিফ ও জসীম বাদে আরও অন্তত একজনকে পরিচালক করতে হবে)।
৪. নিবন্ধকের অনুমোদন: নিবন্ধকের নিকট প্রয়োজনীয় সংশোধিত দলিলপত্র ও ফি জমা দিয়ে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে। নিবন্ধক সন্তুষ্ট হয়ে নতুন নিবন্ধনপত্র ইস্যু করবেন।
৫. বিবরণপত্র প্রকাশ ও শেয়ার বিক্রি: রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিএসইসি (BSEC)-এর অনুমোদন সাপেক্ষে কোম্পানিটি বিবরণপত্র প্রচার করে জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও