মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
পরীক্ষণ মনোবিজ্ঞানের জনক কে?
- খ)(2)
সামগ্রিক আচরণ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রদত্ত 'C' কে ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রদত্ত 'B' এবং 'D' কে বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরীক্ষণ মনোবিজ্ঞানের জনক হলেন উইলহেম ভুন্ট (Wilhelm Wundt)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবের কোনো উদ্দীপকের প্রতিক্রিয়ায় সংঘটিত একাধিক পৃথক প্রতিক্রিয়া বা অঙ্গসঞ্চালনের সমন্বয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ রূপকে সামগ্রিক আচরণ (Molar Behavior) বলে।
যেমন—গাড়ি চালানো, সাঁতার কাটা বা ক্রিকেট খেলা ইত্যাদি হলো সামগ্রিক আচরণ। এগুলো কেবল একটি ক্ষুদ্র পেশির সংকোচন নয়, বরং অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিক্রিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্পূর্ণ ও অর্থপূর্ণ কাজ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদত্ত 'C' হলো 'বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি' (Scientific Attitude)। বিজ্ঞান হিসেবে মনোবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো এর গবেষকদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা।
বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানে গবেষককে আবেগ, ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পক্ষপাতিত্ব ও কুসংস্কার পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হয়। একেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বলা হয়।
মনোবিজ্ঞানে যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অধ্যয়ন করা হয়, তখন গবেষক তাঁর নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ বা পূর্বধারণা দ্বারা প্রভাবিত হন না। বরং ঘটনা যেভাবে ঘটে, সেভাবেই তা নিরপেক্ষভাবে লিপিবদ্ধ ও মূল্যায়ন করেন। উদ্দীপকে মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ('C') উল্লেখ করা হয়েছে, যা মনোবিজ্ঞানকে নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞানের মর্যাদা দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'বিজ্ঞান হিসেবে মনোবিজ্ঞান'-এর চারটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের ছক দেখানো হয়েছে। সেখানে A হলো বিষয়বস্তু এবং C হলো বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। বিজ্ঞান হিসেবে যেকোনো শাখার মতো মনোবিজ্ঞানেরও অপর দুটি অপরিহার্য শর্ত হলো B = 'বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি' (Scientific Method) এবং D = 'সার্বজনীন নীতি বা নিয়ম প্রতিষ্ঠা/প্রয়োগযোগ্যতা' (Application / Universal Principles)। নিম্নে B ও D বিশ্লেষণ করা হলো:
১. B (পদ্ধতি বা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি): যেকোনো শাস্ত্র বিজ্ঞান হতে হলে তার একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থাকতে হয়। মনোবিজ্ঞান আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া অনুসন্ধানের জন্য সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে। যেমন—পরীক্ষণ পদ্ধতি, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, জরিপ পদ্ধতি, ঘটনা অনুধ্যান ইত্যাদি। বিশেষ করে সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্বাধীন ও নির্ভরশীল চলক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে পরীক্ষণ পদ্ধতির ব্যবহার মনোবিজ্ঞানকে খাঁটি বিজ্ঞানের মর্যাদা দিয়েছে।
২. D (সাধারণ নিয়ম বা প্রয়োগযোগ্যতা): বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য কেবল তথ্য সংগ্রহ নয়, সংগৃহীত উপাত্ত থেকে সাধারণ তত্ত্ব বা নিয়ম প্রতিষ্ঠা করা এবং মানবকল্যাণে তা প্রয়োগ করা। মনোবিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আচরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন সাধারণ নীতি ও সূত্র উদ্ভাবন করেছে (যেমন—শিখন, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণের সূত্র)। পাশাপাশি শিক্ষা, শিল্প, চিকিৎসা, খেলাধুলা ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে এসব নীতির বাস্তব প্রয়োগ ঘটে।
সুতরাং, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (B) প্রয়োগ করে মনোবিজ্ঞান উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং সাধারণ নিয়ম ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা বা প্রয়োগের (D) মাধ্যমে মানব আচরণকে ব্যাখ্যা ও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই B এবং D মনোবিজ্ঞানকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও