বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

তিতলী দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে লেখাপড়ায় খুব ভালো। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সে অন্যান্য বইও পড়ে। সপ্তাহে একদিন হলেও পাবলিক লাইব্রেরিতে তার যাওয়া চাই- ই চাই। তার দরিদ্র মা এ নিয়ে খুব শঙ্কায় থাকেন। কারণ তার ধারণা স্কুলের বই বাদে অন্য বই পড়লে তিতলী পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না। ফলাফল ভালো করতে না পারলে ভবিষ্যতে ভালো একটা. চাকরিও সে পাবে না। ফলে ঘুচবে না তাদের দরিদ্রতা।

  1. ক)

    শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপর স্থান দিয়েছেন কেন? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তিতলীর মায়ের ধারণা 'বই পড়া' প্রবন্ধের কোন দিককে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "তিতলীর মতো শিক্ষার্থীরাই প্রগতিশীল জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।" 'বই পড়া' প্রবন্ধ অনুসারে বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিকের মতে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ হলো সাহিত্যচর্চা বা বই পড়ার মাধ্যমে স্বশিক্ষা অর্জন।

  2. খ)

    লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপর স্থান দিয়েছেন কারণ স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থী পাঠ্যসূচি ও শিক্ষকের নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য থাকে। কিন্তু লাইব্রেরিতে মানুষ নিজের আগ্রহ ও পছন্দ অনুযায়ী বই পড়ে নিজেকে গড়ে তোলে।

    লেখকের মতে শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না, নিজের চেষ্টায় অর্জন করতে হয়। লাইব্রেরি সেই স্বশিক্ষার সুযোগ দেয়, তাই এর স্থান উপরে।

  3. গ)

    তিতলীর মায়ের ধারণা, স্কুলের বই ছাড়া অন্য বই পড়লে পরীক্ষার ফল ভালো হবে না। এটি 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত বই পড়া সম্পর্কে সংকীর্ণ ও ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিকে ইঙ্গিত করে।

    আমাদের সমাজে অনেকে কেবল পরীক্ষায় পাস ও চাকরির লক্ষ্যে পাঠ্যবই পড়াকেই শিক্ষা মনে করে এবং সাহিত্যচর্চাকে অপ্রয়োজনীয় বা সময় নষ্ট ভাবে। প্রাবন্ধিক এর বিপরীতে বলেছেন, বই পড়া মনের বিকাশের জন্য অপরিহার্য। তিতলীর মা প্রবন্ধে সমালোচিত এই সংকীর্ণ ভাবনারই প্রতিনিধি।

  4. ঘ)

    উক্তিটি যথার্থ। 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সাহিত্যচর্চা ও স্বশিক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। তিতলীর মধ্যে সেই গুণ আছে।

    ১. স্বশিক্ষা: তিতলী পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বই পড়ে এবং নিয়মিত লাইব্রেরিতে যায়। প্রবন্ধ অনুযায়ী এভাবেই নিজের আগ্রহে মনের বিকাশ ঘটে।

    ২. মানসিক বিকাশ: বিভিন্ন বই পড়লে চিন্তার পরিধি বাড়ে, জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়। এতে সে নতুন নতুন ধারণার সাথে পরিচিত হয়।

    ৩. সময়ের সাথে তাল মেলানো: জ্ঞানের জগৎ প্রতিনিয়ত এগোচ্ছে। যে শিক্ষার্থী শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে, সে পিছিয়ে পড়ে। বই পড়া শিক্ষার্থী আত্মবিশ্বাসী ও আধুনিক হয়।

    সুতরাং, তিতলীর মতো শিক্ষার্থীরাই প্রগতিশীল জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন