সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

সহপাঠ প্রশ্ন

‘ছৈলারচর’ বিষখালী নদীর মোহনায় জেগে ওঠা চর। পলিতে উর্বর চরের ভূমি। এলাকার বৈলাম মল্লিক চরের ভূমি দখলের লোভ সামলাতে পারল না। কিন্তু এলাকার সমাজসেবক জমিদারের বিরুদ্ধে লড়বে কে? বৈলাম গোপনে সখ্য করেন জমিদারের দূর- সম্পর্কের জ্ঞাতি ভাই পিলু সিকদারের সাথে। তার সহায়তায় বৈলাম মল্লিক এবং তার চাটুকার বাহিনী চর দখল করে । এখন বৈলামের নতুন চরের দায়িত্ব নেয়া ও নেতৃত্বের দাপট দেখানোর সময়। সে পিলু সিকদারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছাড়া ছৈলারচরের দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা দেখায় । এভাবে নদীর বুকে জেগে ওঠা নতুন চরটি জমিদারের নেতৃত্ব হারায়।

  1. ক)

    ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে শেষ সংলাপ কার ?

    (1)
  2. খ)

    “বৃটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা”– ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত বৈলাম মল্লিকের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ‘মিরজাফর' চরিত্রের তুলনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘‘উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের করুণ পরিণতির আংশিক ছায়াচিত্র।”-মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে শেষ সংলাপ মোহনলালের।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা ক্লাইভের কলকাতা থেকে পিছু হটার ঘটনাকে ব্রিটিশদের কাপুরুষোচিত আচরণ হিসেবে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন কলকাতা আক্রমণ করেন, তখন ব্রিটিশ সেনাপতি রজার ড্রেক ও তার সঙ্গীরা প্রাণভয়ে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ছেড়ে জাহাজে আশ্রয় নিয়ে পালিয়ে যান। শক্তি ও সাহসের প্রতীক সিংহের সাথে ব্রিটিশদের তুলনা করা হলেও দুর্গের বিপদে তাদের এই পলায়নপর আচরণ নবাবের দরবারে উপহাসের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ফরাসি প্রতিনিধি সাঁফ্রে এই কাপুরুষোচিত পলায়নকে তীব্র শ্লেষের সাথে ব্রিটিশ সিংহের 'লেজ গুটিয়ে নেওয়া' বলে মন্তব্য করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বৈলাম মল্লিকের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মিরজাফর চরিত্রের স্বার্থান্ধতা, বিশ্বাসঘাতকতা ও ক্ষমতালিপ্সার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে প্রধান সেনাপতি মিরজাফর নবাবের অখণ্ড আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করে গোপনে ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সিরাজকে উৎখাত করে বাংলার মসনদ দখল করা। সে নবাবের বিরুদ্ধে বহিরাগত ইংরেজদের সহযোগিতা নেয় এবং ক্লাইভের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েও নিজের নেতৃত্ব কায়েম করতে চায়।

    উদ্দীপকের বৈলাম মল্লিকও একইভাবে উর্বর চর দখলের লোভে অন্ধ হয়ে সমাজসেবক জমিদারের বিরুদ্ধে গোপনে তাঁরই জ্ঞাতি ভাই পিলু সিকদারের সাথে আঁতাত করে এবং চর দখল করে নেতৃত্ব জাহির করতে চায়। নিজের স্বার্থ ও ক্ষমতালিপ্সা চরিতার্থ করতে গিয়ে নিজ সমাজ বা পক্ষের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার মানসিকতার কারণে বৈলাম মল্লিক মিরজাফরের সাথেই তুলনীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘‘উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের করুণ পরিণতির আংশিক ছায়াচিত্র” — মন্তব্যটি যথার্থ।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে দেখা যায়, নবাবের দরবারের মিরজাফর, ঘসেটি বেগম ও রাজবল্লভদের মতো বিশ্বাসঘাতকেরা বিদেশি ইংরেজ বণিকদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্র করে পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ঘটায়। সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে শুধু একজন শাসকেরই করুণ বিদায় হয়নি, বরং বাংলার দীর্ঘকালীন স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয়ে পরাধীনতার সূচনা হয়। সমগ্র নাটকের মূল সুরটি ছিল এই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি ও বিশ্বাসঘাতকতার করুণ পরিণতি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, উর্বর চরের দখল নিতে বৈলাম মল্লিক জমিদারের জ্ঞাতি ভাই পিলুর সাথে গোপন ষড়যন্ত্র করে এবং চরের ওপর প্রতিষ্ঠিত জমিদারের নিয়ন্ত্রণ বিনষ্ট করে। তবে উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটটি কেবল একটি চরের জমি দখলের ক্ষুদ্র ও বৈষয়িক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখানে ষড়যন্ত্র ও কর্তৃত্ব হারানোর দিকটি প্রতিফলিত হলেও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিশাল ব্যাপ্তি, দেশপ্রেম, জাতীয় ট্র্যাজেডি এবং সিরাজের মতো মহান নেতার রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের করুণ মহিমা পুরো মাত্রায় অনুপস্থিত।

    সুতরাং, ক্ষমতার লোভ ও বিশ্বাসঘাতকতার ফলে বৈধ কর্তৃত্বের অবসানের দিকটি তুলে ধরায় উদ্দীপকের ঘটনাটি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের করুণ পরিণতির একটি ‘আংশিক’ রূপ বা প্রতিচ্ছবি মাত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন