মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
‘Psychology' শব্দটি কোন দুটি শব্দ হতে উৎপত্তি হয়েছে?
- খ)(2)
শিক্ষা মনোবিজ্ঞান অধ্যয়ন প্রয়োজনীয় কেন ?
- গ)(3)
চিত্রে 'A' চিহ্নিত স্থানটির বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
চিত্রে B, C ও D এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Psychology' শব্দটি গ্রিক শব্দ 'Psyche' (যার অর্থ আত্মা বা মন) এবং 'Logos' (যার অর্থ জ্ঞান বা বিজ্ঞান) হতে উৎপত্তি হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিক্ষা মনোবিজ্ঞান হলো মনোবিজ্ঞানের একটি ফলিত শাখা, যা শিক্ষাদান ও শিখন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত মানবিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পার্থক্য, মেধা, আগ্রহ, প্রেসণা এবং মানসিক বিকাশ বুঝে উপযুক্ত পাঠদান পদ্ধতি ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নের জন্য শিক্ষা মনোবিজ্ঞান অধ্যয়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শিক্ষককে শিক্ষাদানের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে এবং শ্রেণি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা পালনে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে প্রদর্শিত ছকে মনোবিজ্ঞানের প্রধান দুটি বিষয়বস্তুর একটি হলো 'আচরণ' এবং অপরটি 'A'। অতএব, চিত্রে 'A' চিহ্নিত স্থানটি হলো 'মানসিক প্রক্রিয়া' (Mental Process)।
মানসিক প্রক্রিয়ার বর্ণনা:
মানসিক প্রক্রিয়া হলো ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ মানসিক কার্যকলাপ, যা সরাসরি বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না, কিন্তু ব্যক্তির আচরণ বা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে অনুমান ও পরিমাপ করা যায়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও উপাদানসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সংবেদন ও প্রত্যক্ষন: পরিবেশ থেকে উদ্দীপক গ্রহণ করে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে মস্তিষ্কে তথ্য পাঠানো এবং তা অর্থপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করাই হলো প্রত্যক্ষন।
২. চিন্তন ও যুক্তি: কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য মনের মধ্যে যে বিচার-বিশ্লেষণ ও চিন্তাভাবনা চলে, তা মানসিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
৩. স্মৃতি ও বিস্মৃতি: অতীতের অভিজ্ঞতা ধরে রাখা (স্মৃতি) এবং তা ভুলে যাওয়া (বিস্মৃতি) উভয়ই মানসিক প্রক্রিয়ার অংশ।
৪. আবেগ ও প্রেষণা: আনন্দ, দুঃখ, ভয়, রাগ ইত্যাদি আবেগ এবং কাজ করার অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তি বা প্রেষণা মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।সুতরাং, মানুষের সামগ্রিক আচরণকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার অন্তর্নিহিত মানসিক প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে আচরণের শ্রেণিবিভাগ হিসেবে B, C ও D নির্দেশ করা হয়েছে। মনোবিজ্ঞানে আচরণের প্রকৃতি অনুযায়ী একে বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করা হয়। প্রধানত আচরণকে তিনটি প্রধান জোড়ায় বা তিনটি ধারায় ভাগ করা যায়, যেমন— ১. সামগ্রিক ও খণ্ডিতাংশ আচরণ, ২. ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ এবং ৩. প্রকাশ্য ও সুপ্ত আচরণ। অথবা সাধারণ শ্রেণিবিভাগে: B = সামগ্রিক আচরণ, C = ঐচ্ছিক আচরণ, D = প্রকাশ্য আচরণ (বা তাদের বিপরীত জোড়া)।
নিচে আচরণের প্রধান শ্রেণিগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সামগ্রিক আচরণ বনাম খণ্ডিতাংশ আচরণ:
- সামগ্রিক আচরণ হলো ব্যক্তি যখন কোনো একক উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ সত্তা নিয়ে সাড়া দেয় (যেমন: গাড়ি চালানো, ফুটবল খেলা)।
- অন্যদিকে, খণ্ডিতাংশ আচরণ হলো শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গ বা অংশের অতি ক্ষুদ্র প্রতিক্রিয়া (যেমন: চোখের পলক ফেলা বা আঙুল নাড়ানো)।
২. ঐচ্ছিক আচরণ বনাম অনৈচ্ছিক আচরণ:
- ঐচ্ছিক আচরণ ব্যক্তির সচেতন ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল (যেমন: বই পড়া, কথা বলা)।
- অনৈচ্ছিক আচরণ ব্যক্তির ইচ্ছাধীন নয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে (যেমন: হাঁচি দেওয়া, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন)।
৩. প্রকাশ্য আচরণ বনাম সুপ্ত আচরণ:
- প্রকাশ্য আচরণ বাইরে থেকে সরাসরি দেখা বা পর্যবেক্ষণ করা যায় (যেমন: হাঁটা, দৌড়ানো, হাসা)।
- সুপ্ত আচরণ বাইরে থেকে সরাসরি দেখা যায় না, এটি ব্যক্তির ভেতরে ঘটে (যেমন: মনে মনে ভাবা, স্বপ্ন দেখা)।
উপসংহার:
উপরের তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে, আচরণের রূপ বা প্রকাশভঙ্গি ভিন্ন হলেও এরা একে অপরের পরিপূরক। B, C এবং D—এই বিভিন্ন ধরনের আচরণ ও তাদের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তির সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব ও কার্যকলাপের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও