Jagannath University • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা ২০১৮-২০১৯

প্রশ্ন ও সমাধান

কমলাকান্তের মানস বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দাও।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

(৬) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের কেন্দ্রীয় চরিত্র কমলাকান্ত। সে একাধারে আফিমখোর, দার্শনিক ও সমাজসমালোচক। তার মানস বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো:

১. আফিমখোর ও স্বপ্নবিলাসী: কমলাকান্ত আফিমের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। নেশার ঘোরে সে বাস্তব জগতের গভীরে লুকানো সত্য দেখতে পায় এবং কল্পনার মাধ্যমে সেগুলো প্রকাশ করে।
২. দার্শনিক মনন: সে জগৎ ও জীবনকে গভীর দার্শনিক দৃষ্টিতে দেখে এবং সাধারণ ঘটনার মধ্যে জীবনের বড় সত্য খুঁজে পায়।
৩. ব্যঙ্গ ও কৌতুকপ্রবণতা: তার কথাবার্তায় হাস্যরস ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ রয়েছে, যার মাধ্যমে সে সমাজের ভন্ডামি ও অসংগতি প্রকাশ করে।
৪. সমাজসচেতনতা ও মানবদরদ: সে সমাজের অন্যায়, বৈষম্য ও দরিদ্রের দুঃখ গভীরভাবে অনুভব করে। 'বিড়াল' প্রবন্ধে ক্ষুধার্তের পক্ষে তার অবস্থান এর প্রমাণ।
৫. সংসারবিমুখ ও নিঃসঙ্গ: সে সাংসারিক জীবনের প্রতি উদাসীন, অনেকটাই একাকী ও আত্মমগ্ন।
৬. আত্মসমালোচনা ও সংবেদনশীলতা: নিজের ত্রুটি স্বীকার করতে সে কুণ্ঠিত নয় এবং সে সংবেদনশীল ও অনুভূতিপ্রবণ।

উপসংহার: কমলাকান্ত একজন নেশাখোর হয়েও গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, সমাজসচেতন ও মানবদরদি চরিত্র। তার মধ্য দিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র সমকালীন সমাজ ও জীবনের নানা প্রশ্ন তুলে ধরেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন