বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: বাদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি পার্ক দেখে বাদলের ব্রিটিশ ভারতের একটি সংগ্রামের কথা মনে পড়ে। এই পার্কেই অনেক সৈনিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।দৃশ্যকল্প-২: সিসাপুর ইউনিয়ন আয়তনে বড় হওয়ায় সবদিকের উন্নয়ন একইভাবে করা সম্ভব হয় না। তাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিসাপুর ইউনিয়নকে দুই অঞ্চলে ভাগ করেন। কিন্তু ইউনিয়নের কিছু জনগণ এই বিভক্তি মেনে না নেওয়ায় চেয়ারম্যান আবার সিসাপুর ইউনিয়নের দুই অংশকে একত্রিত করেন।

  1. ক)

    স্বত্ববিলোপ নীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    খিলাফত আন্দোলন কেন হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১এ বাদলের দেখা পার্কটি কোন ঐতিহাসিক সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "দৃশ্যকল্প-২ এর ঘটনায় বাংলার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়"-পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    লর্ড ডালহৌসি যে নীতির মাধ্যমে নিঃসন্তান দেশীয় রাজার দত্তক পুত্রকে উত্তরাধিকারী হতে না দিয়ে তাঁর রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করতেন, তাকে স্বত্ববিলোপ নীতি (Doctrine of Lapse) বলে।

  2. খ)

    তুরস্কের সুলতান ছিলেন মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা, যাঁকে ভারতের মুসলমানরাও মান্য করত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক ব্রিটেনবিরোধী জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। যুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর ১৯২০ সালে সেভার্সের চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ককে খণ্ডবিখণ্ড করার পরিকল্পনা করা হয়। এতে ভারতীয় মুসলমানরা হতাশ হয়ে খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য খিলাফত আন্দোলন গড়ে তোলে। মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ বাদলের দেখা পার্কটি ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, যা ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ বা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে।

    ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের গুলি ছোড়ার মধ্য দিয়ে এই বিদ্রোহের সূচনা হয়। ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতি, অর্থনৈতিক শোষণ, সামরিক বৈষম্য এবং এনফিল্ড রাইফেলের টোটায় গরু ও শূকরের চর্বির গুজব এর প্রধান কারণ ছিল। বিদ্রোহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, রংপুরসহ বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহ দমনের পর ঢাকার এই পার্কে অনেক সৈনিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় এবং লাশ ঝুলিয়ে রেখে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। উদ্দীপকের পার্কে সৈনিকদের ফাঁসির ঘটনা তাই ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এর সিসাপুর ইউনিয়নকে ভাগ করে আবার একত্র করার ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) ও বঙ্গভঙ্গ রদ (১৯১১)-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই ঘটনায় বাংলার মানুষের মধ্যে সত্যিই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।

    ১. বঙ্গভঙ্গের সমর্থন: আয়তনে বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সির শাসন কলকাতা থেকে পরিচালনা কঠিন ছিল। নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা এবং পিছিয়ে পড়া সাধারণ মানুষ শিক্ষা, প্রশাসন ও অর্থনীতির সুযোগ পাওয়ার আশায় বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
    ২. বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা: সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ উচ্চবর্ণের হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি একে 'ভাগ করো শাসন করো' নীতি মনে করে তীব্র বিরোধিতা করে। এই বিরোধিতা ক্রমে স্বদেশি আন্দোলনে রূপ নেয়। মুসলমান নেতাদের একটি ক্ষুদ্র অংশও এর বিরোধী ছিল।
    ৩. বঙ্গভঙ্গ রদের প্রতিক্রিয়া: আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন। উভয় সম্প্রদায়ের অভিজাতদের একাংশ একে নিজেদের জয় মনে করে, কিন্তু সাধারণ মানুষ মর্মাহত হয়।

    সুতরাং, বঙ্গভঙ্গ ও তার রদ উভয় ক্ষেত্রেই বাংলার মানুষের মধ্যে সমর্থন ও বিরোধিতার মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল, যা উদ্দীপকের ইউনিয়নবাসীর প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন