ভূগোল এবং পরিবেশ • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
'M' ইস্পাত শিল্প কারখানার একজন শ্রমিক। 'N' একজন বর্গাচাষী। আর 'Z' ঢাকা সদরঘাট সংলগ্ন একটি দোকানের পাইকারি বিক্রেতা।
- ক)(1)
সম্পদ কাকে বলে?
- খ)(2)
সৌরশক্তিকে সম্পদ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
'M' এর পেশাটি কোন পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'N' ও 'Z' এর কর্মকাণ্ড কি একই পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যা মানুষের অভাব পূরণে সক্ষম, উপযোগ সৃষ্টি করে এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারযোগ্য, তাকে সম্পদ বলে।
- খ)
সৌরশক্তি সূর্য থেকে প্রাপ্ত তাপ ও আলোক শক্তি। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এ শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে ঘর আলোকিত করা, সেচ দেওয়া, পানি গরম করা ও শস্য শুকানোর কাজে লাগানো যায়। অর্থাৎ এটি মানুষের অভাব পূরণ করে এবং এর উপযোগ আছে। এছাড়া এটি অফুরন্ত ও পরিবেশবান্ধব। এসব কারণে সৌরশক্তিকে সম্পদ বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের 'M' ইস্পাত শিল্প কারখানার শ্রমিক। তার পেশাটি দ্বিতীয় পর্যায়ের (Secondary) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্তর্গত।
দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ড কী: প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে প্রথম পর্যায়ে সংগৃহীত কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারোপযোগী ও অধিক মূল্যবান পণ্যে রূপান্তরের কাজকে দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বলে। একে শিল্পভিত্তিক বা উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ডও বলা হয়। কাঁচামালকে যন্ত্র, শ্রম ও শক্তির সাহায্যে নতুন রূপ দেওয়াই এর মূল বৈশিষ্ট্য। এ পর্যায়ের উদাহরণ হলো বস্ত্রশিল্প, চিনিশিল্প, ইস্পাতশিল্প, কাগজশিল্প ও সিমেন্টশিল্প।
উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: 'M' ইস্পাত কারখানায় কাজ করে। ইস্পাত তৈরির মূল কাঁচামাল হলো খনি থেকে উত্তোলিত লোহা আকরিক, যা প্রথম পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে সংগৃহীত হয়। কারখানায় এ আকরিক গলিয়ে ও শোধন করে ইস্পাতে রূপান্তর করা হয়, যা দিয়ে রড, পাত, যন্ত্রাংশ ও নির্মাণসামগ্রী তৈরি হয়। 'M' এ রূপান্তর প্রক্রিয়ার সাথেই শ্রমিক হিসেবে যুক্ত। সে প্রকৃতি থেকে সরাসরি সম্পদ আহরণ করে না, আবার তৈরি পণ্য কেনাবেচার সেবাও দেয় না; বরং কাঁচামালকে পণ্যে পরিণত করে।
সুতরাং, 'M' এর পেশাটি দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
- ঘ)
'N' ও 'Z' এর কর্মকাণ্ড একই পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়। 'N' এর কাজ প্রাথমিক বা প্রথম পর্যায়ের এবং 'Z' এর কাজ তৃতীয় পর্যায়ের।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর্যায়: মানুষের জীবিকার জন্য সম্পদ আহরণ, উৎপাদন ও বণ্টনের সকল কাজকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বলে। এগুলোকে প্রধানত তিন পর্যায়ে ভাগ করা হয়: প্রাথমিক, দ্বিতীয় (শিল্পভিত্তিক) ও তৃতীয় (সেবামূলক)।
১. 'N' এর কর্মকাণ্ড প্রাথমিক পর্যায়ের: 'N' বর্গাচাষী, অর্থাৎ সে অন্যের জমিতে চাষ করে ফসল ফলায়। যে কর্মকাণ্ডে প্রকৃতি থেকে সরাসরি সম্পদ আহরণ বা উৎপাদন করা হয় তা প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মকাণ্ড। কৃষি, মৎস্য আহরণ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও খনিজ উত্তোলন এ পর্যায়ে পড়ে। বর্গাচাষে জমি, বীজ ও মৌসুমি আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে ফসল উৎপন্ন হয় বলে এটি প্রাথমিক কর্মকাণ্ড। এখানে উৎপাদিত পণ্য প্রায়ই কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. 'Z' এর কর্মকাণ্ড তৃতীয় পর্যায়ের: 'Z' ঢাকা সদরঘাট সংলগ্ন দোকানের পাইকারি বিক্রেতা। সে নিজে কোনো পণ্য উৎপাদন করে না, বরং উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য কিনে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, যোগাযোগ, ব্যাংকিং ও শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো সেবামূলক কাজ তৃতীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ড। পাইকারি ব্যবসা বণ্টন ও বিপণনের সেবা দেয় বলে এটি তৃতীয় পর্যায়ে পড়ে।
৩. প্রকৃতিগত পার্থক্য: 'N' এর কাজে প্রকৃতির উপর প্রত্যক্ষ নির্ভরতা বেশি এবং সে সম্পদ সৃষ্টি করে। 'Z' এর কাজে প্রকৃতির সাথে সরাসরি সম্পর্ক নেই; সে পণ্য সরবরাহ ও সেবার মাধ্যমে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।
৪. পরস্পর নির্ভরতা: 'N' এর উৎপাদিত ফসল 'Z' এর মতো পাইকারি বিক্রেতার মাধ্যমে বাজারে পৌঁছায়। অর্থাৎ দুটি কর্মকাণ্ড একে অপরের পরিপূরক, কিন্তু পর্যায় আলাদা।সুতরাং, 'N' এর কাজ প্রাথমিক এবং 'Z' এর কাজ তৃতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ায় এ দুটি একই পর্যায়ের নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও