বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
জনাব রহিম সাহেব প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পড়ানোর সময় বললেন, "প্রাচীন বাংলায় প্রায় চারশ বছর ধরে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা বিরাজ করেছিল। যেখানে কেন্দ্রীয় শাসনের দুর্বলতার সুযোগে স্থানীয় ক্ষুদ্র শাসকগোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। এ সময় বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা খুবই বিঘ্নিত হচ্ছিলো এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলো। অবশেষে বাংলার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে একজনকে শাসক হিসাবে নির্বাচন করলেন। যার হাত ধরেই বাংলায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী রাজবংশের সূচনা হয়।"
- ক)(1)
'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' কী?
- খ)(2)
প্রথম মহীপাল 'পাল' সাম্রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রহিম সাহেব প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের যে সময়কালকে ইঙ্গিত করেছেন তার পটভূমি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ বাক্যে ইঙ্গিতকৃত ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রাচীন বাংলার রাজনীতিতে যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছিল, তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সেন রাজারা নিজেদের ব্রাহ্মণ বংশজাত হয়েও ক্ষত্রিয়োচিত কাজে লিপ্ত থাকায় 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলে পরিচয় দিতেন, অর্থাৎ ব্রাহ্মণ থেকে ক্ষত্রিয় হওয়া জাতি।
- খ)
পাল বংশের দুর্বল সময়ে কৈবর্ত বিদ্রোহের ফলে বরেন্দ্র অঞ্চল পালদের হাতছাড়া হয়েছিল এবং রাজ্য সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। প্রথম মহীপাল (আনুমানিক ৯৮৮–১০৩৮ খ্রি.) ক্ষমতায় এসে হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন এবং পাল সাম্রাজ্যের শক্তি ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনেন। তাই তাঁকে পাল সাম্রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
- গ)
রহিম সাহেব প্রাচীন বাংলার মাৎস্যন্যায় যুগের কথা বলেছেন।
গৌড়াধিপতি শশাঙ্কের মৃত্যুর (আনুমানিক ৬৩৭ খ্রি.) পর বাংলায় কোনো শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসক ছিল না। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র শাসকেরা ক্ষমতার জন্য নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং বাইরের শক্তিগুলোও বাংলায় আক্রমণ চালায়। এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অরাজকতা ও জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। এই বিশৃঙ্খল অবস্থাকেই 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়, যা প্রায় এক শতাব্দী (আনুমানিক ৬৫০–৭৫০ খ্রি.) স্থায়ী ছিল।
- ঘ)
উদ্দীপকের শেষ বাক্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একত্রিত হয়ে শাসক নির্বাচনের যে ঘটনা ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা হলো গোপালের রাজা নির্বাচন। এর মধ্য দিয়ে প্রাচীন বাংলার রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে।
১. মাৎস্যন্যায়ের অবসান: গোপালের শাসনে অরাজকতা দূর হয়ে বাংলায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
২. গণতান্ত্রিক চেতনার দৃষ্টান্ত: প্রকৃতিপুঞ্জ বা প্রভাবশালী সমাজ-প্রতিনিধিরা নিজেরা শাসক নির্বাচন করেছিলেন, যা সে যুগে বিরল ঘটনা।
৩. পাল বংশের প্রতিষ্ঠা: এই ঘটনা থেকেই পাল বংশের সূচনা হয়, যারা প্রায় চারশ বছর বাংলা শাসন করে।
৪. স্থিতিশীলতার ফল: পাল শাসনে শিক্ষা, ধর্ম, শিল্প ও স্থাপত্যে উন্নতি ঘটে।সুতরাং, গোপালের নির্বাচন প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থিতিশীলতা ও নতুন যুগের সূচনা করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও