ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
ইসলাম প্রশ্ন
মিসেস ফারিহা বছরান্তে দশ ভরি স্বর্ণের গহনার বাজারমূল্য দশ লক্ষ টাকা থেকে নির্দিষ্ট ইবাদত পালন বাবদ ২.৫০% টাকা দুঃস্থ বিধবাদের মধ্যে পুনর্বাসনের জন্য বিতরণ করেন। অপরদিকে ফারিহার স্বামী মুরাদ অপর একটি পবিত্র ইবাদত পালনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে মক্কায় গমন করেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে ভাবের আদান-প্রদান ও মতবিনিময় করেন।
- ক)(1)
সাওম কাকে বলে
- খ)(2)
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলো আত্মার সম্পর্ক- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
মিসেস ফারিহা ইসলামের কোন ইবাদতটি পালন করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ফারিহার স্বামীর পালনকৃত ইবাদতটি চিহ্নিতপূর্বক এর থেকে কোন ধরনের শিক্ষা লাভ করতে পেরেছেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে।
- খ)
শিক্ষক শিক্ষার্থীকে জ্ঞান দানের পাশাপাশি চরিত্র ও আদর্শ গঠনেও সাহায্য করেন। এ কারণে তাঁকে আধ্যাত্মিক পিতা বলা হয়। শিক্ষার্থী শিক্ষককে শ্রদ্ধা করে এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীকে স্নেহ করেন। এই সম্পর্ক কেবল পাঠদানের মধ্যে সীমিত নয়, বরং শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার, তাই একে আত্মার সম্পর্ক বলা হয়।
- গ)
মিসেস ফারিহা জাকাত পালন করেছেন।
নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর মালিকানায় থাকলে তার ২.৫% জাকাত দেওয়া ফরজ। স্বর্ণের নিসাব সাড়ে সাত ভরি। ফারিহার ১০ ভরি স্বর্ণ নিসাবের চেয়ে বেশি। তাই তাঁর ওপর জাকাত ফরজ।
জাকাতের পরিমাণ =
অতএব, ফারিহা জাকাত বাবদ ২৫,০০০ টাকা দুঃস্থ বিধবাদের মধ্যে বিতরণ করেন। এ কারণে তিনি জাকাতের বিধান পালন করেছেন।
- ঘ)
ফারিহার স্বামী মুরাদ হজ পালন করেছেন।
হজ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা:
১. বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য: বিভিন্ন দেশ, বর্ণ ও ভাষার মুসলমান একই স্থানে মিলিত হয়। মুরাদের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে ভাব বিনিময় এর প্রমাণ।
২. সাম্য: সবাই একই ধরনের ইহরাম পরে, তাই ধনী-গরিবের ভেদাভেদ থাকে না।
৩. আনুগত্য ও ত্যাগ: আল্লাহর নির্দেশে অর্থ ও কষ্ট স্বীকার করার মাধ্যমে আত্মত্যাগ শেখা যায়।
৪. শৃঙ্খলা ও সংযম: ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থেকে তাকওয়া অর্জিত হয়।সুতরাং, হজ ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ঐক্য, সাম্য ও সংযমের শিক্ষা দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও