ভূগোল এবং পরিবেশ • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
রূপমদের পরিবার যমুনা নদীর পাড়ে বসবাস করত। এ বছর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে তারা ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। রূপমদের পরিবারের মতো আরও অনেক পরিবার রয়েছে যারা এ ধরনের দুর্যোগের শিকার হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে পারে না।
- ক)(1)
বিপর্যয় কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অধিক ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রূপমদের পরিবার যে ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রূপমদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনতে কী ধরনের ব্যবস্থা দরকার? তোমার মতামতসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোনো আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা, যা জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষতি করে, তাকে বিপর্যয় (Hazard) বলে।
- খ)
বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ফানেল বা চোঙ আকৃতির। এ আকৃতির কারণে সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সংকীর্ণ অংশের দিকে এগিয়ে এলে এর শক্তি বেড়ে যায় এবং সহজে উপকূলে আঘাত হানে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানি ও নিম্নচাপ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ আছে। বর্ষা ও মৌসুম পরিবর্তনের সময়ও এখানে ঘূর্ণিঝড় হয়। তাই দক্ষিণাঞ্চলে অধিক ঘূর্ণিঝড় হয়।
- গ)
যমুনা নদীর পাড়ে ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি হারানো পরিবারটি নদীভাঙনের শিকার। নদীর পার্শ্বক্ষয়কেই নদীভাঙন বলে।
কারণ:
১. নদীর তীব্র গতিবেগ ও প্রবাহপথ: যমুনার মতো বড় নদীর স্রোত তীব্র, তাই তীরের পলিমাটি সহজে ক্ষয় হয়ে ভেঙে পড়ে।
২. নদীর গতিপথ পরিবর্তন: নদী পথ বদলালে এক তীরে ক্ষয় ও অন্য তীরে সঞ্চয় হয়।
৩. জলবায়ু পরিবর্তন: অতিবৃষ্টি ও বন্যায় পানির প্রবাহ বেড়ে ভাঙনের হার বাড়ে।
৪. অন্যান্য কারণ: নদীগর্ভের শিলার উপাদান ও ফাটল, বহন করা শিলার কঠিনতা এবং বৃক্ষ নিধনও নদীভাঙনের কারণ। - ঘ)
রূপমদের মতো নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলো ঘরবাড়ি, জমি ও জীবিকা সব হারিয়ে ছিন্নমূল হয়ে পড়ে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে নিচের ব্যবস্থাগুলো দরকার বলে আমি মনে করি।
১. জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন: খাবার, পানি, চিকিৎসা ও অস্থায়ী আশ্রয় দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে খাস জমিতে স্থায়ী পুনর্বাসন করা।
২. জীবিকার ব্যবস্থা: ক্ষুদ্রঋণ, কৃষি উপকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে তাদের আয়ের পথ তৈরি করা এবং সন্তানদের শিক্ষা চালু রাখা।
৩. ভাঙন রোধ: নদীর তীর রক্ষা বাঁধ, নদীশাসন ও ড্রেজিং করে এবং তীরে বৃক্ষরোপণ করে ভবিষ্যতের ভাঙন কমানো।
৪. সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতি: ভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষকে আগে থেকে সতর্ক করা ও নিরাপদ স্থানে বসতি গড়তে উৎসাহ দেওয়া।সুতরাং, পুনর্বাসন, জীবিকা ও ভাঙন প্রতিরোধ একসাথে করলেই রূপমদের মতো পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও