উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
তাপস আলফা নেটস কারখানায় একজন শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন। এক বছর পর তার দক্ষতা ও নৈপুণ্যে খুশি হয়ে' মালিকপক্ষ তাকে ঐ প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি দেন। প্রতিষ্ঠানটি বাজারে চাহিদাসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করায় তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। ইদানীং প্রতিষ্ঠানটিতে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে মজুরি বাড়ানো নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
- ক)(1)
শ্রম বিভাগ কী?
- খ)(2)
"শ্রম ও শ্রমিক অবিচ্ছিন্ন"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের শ্রম গতিশীলতা পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে করণীয় কী? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন প্রক্রিয়ার সামগ্রিক কাজকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজে নিযুক্ত করাকে শ্রম বিভাগ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রম হলো শ্রমিকের একটি ব্যক্তিগত গুণ ও শারীরিক বা মানসিক প্রচেষ্টা, যা শ্রমিক থেকে আলাদা করা যায় না।
অন্যান্য উৎপাদন উপাদানের (যেমন—ভূমি বা মূলধন) ক্ষেত্রে মালিক তার মালিকানা বিক্রি বা হস্তান্তর করে নিজে অনুপস্থিত থাকতে পারে। কিন্তু শ্রমের ক্ষেত্রে শ্রমিক তার শ্রমকে বিক্রি করে, নিজেকে নয়; এবং যেখানেই শ্রমের প্রয়োজন, সেখানে শ্রমিককে সশরীরে উপস্থিত থেকে তা প্রদান করতে হয়। শ্রমিক ছাড়া শুধু শ্রম আলাদা করে পরিবহন বা গুদামজাত করা অসম্ভব। তাই বলা হয়, শ্রম ও শ্রমিক একে অপরের সাথে অবিচ্ছিন্ন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'উল্লম্ব বা খাড়া শ্রম গতিশীলতা' (Vertical Mobility of Labour) পরিলক্ষিত হয়।
কোনো শ্রমিক বা কর্মী যখন একই পেশা বা প্রতিষ্ঠানে নিম্নতর পদ থেকে উচ্চতর পদে পদোন্নতি পান, অর্থাৎ তার পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও আয়ের পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে উলম্ব বা খাড়া শ্রম গতিশীলতা বলা হয়।
উদ্দীপকে তাপস প্রথমে আলফা নেটস কারখানায় একজন সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন। পরবর্তীতে তাঁর কাজের দক্ষতা ও নৈপুণ্যের কারণে মালিকপক্ষ তাঁকে ওই কারখানারই 'সুপারভাইজার' পদে পদোন্নতি প্রদান করে। এখানে তাপসের পদমর্যাদা এবং দায়িত্ব নিচ থেকে উপরের স্তরে উন্নীত হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকে উলম্ব শ্রম গতিশীলতা প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মজুরি সংক্রান্ত অসন্তোষ দূর করতে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও যৌথ দরকষাকষি (Collective Bargaining) সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সন্তুষ্টি অপরিহার্য। শ্রম অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হয়, পণ্যের সরবরাহ হ্রাস পায় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামের ক্ষতি হয়। এই সমস্যা সমাধানের প্রধান উপায়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. যৌথ দরকষাকষি: কারখানার ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে মালিকপক্ষ সরাসরি আলোচনায় বসে জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি ন্যায্য ও সম্মানজনক মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে।
২. পারফরম্যান্স ভিত্তিক প্রণোদনা: সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনশীলতার সাথে যুক্ত প্রণোদনা (Bonus/Incentive) প্রদান করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমিকদের আয়ের প্রত্যাশাও পূরণ হবে।
৩. মধ্যস্থতা বা আপস: যদি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সমাধান না হয়, তবে সরকার বা নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মধ্যস্থতা (Mediation/Conciliation) করে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।সুতরাং, অবিলম্বে উভয় পক্ষের সমঝোতামূলক মনোভাব এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ন্যায়সংগত মজুরি বৃদ্ধি ও সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে সমস্যা সমাধানের প্রধান ও টেকসই উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও