অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. M একজন গবেষক। তিনি লক্ষ করলেন, বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু মানুষ যেমন- কৃষক, দেনাদার, করদাতা, ফটকা কারবারীরা আনন্দিত হলো। অন্যদিকে কিছু মানুষ যেমন- পাওনাদার, শ্রমিক, সঞ্চয়কারীরা হতাশ হয়ে পড়লেন। কারণ তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেল। তিনি তখন অর্থের মূল্য ও দামস্তর নিয়ে একটি চিত্র অঙ্কন করলেন। চিত্রটি নিম্নরূপ—

- ক)(1)
চাহিদা আমানত কাকে বলে?
- খ)(2)
অর্থের প্রচলন গতি কি অর্থের মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে? কীভাবে?
- গ)(3)
মি. M তার চিত্রে দামস্তর ও অর্থের মূল্যের মধ্যে কীরূপ সম্পর্ক দেখিয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দামস্তর বৃদ্ধি পেলে কিছু মানুষ আনন্দ পায় আবার কিছু মানুষ হতাশ হয় কেন? উদ্দীপকের ভিত্তিতে এর কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমানতকারী ব্যাংকে যে আমানত জমা রাখার পর যেকোনো সময় বা চাওবামাত্র কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারে, তাকে চাহিদা আমানত বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, অর্থের প্রচলন গতি অর্থের মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে এক একক অর্থ গড়ে যতবার হাতবদল হয়, তাকে অর্থের প্রচলন গতি (Velocity of money) বলে। অন্যান্য অবস্থা স্থির থাকা অবস্থায় অর্থের প্রচলন গতি বাড়লে বাজারে অর্থের কার্যকর যোগান বৃদ্ধি পায়। অর্থের যোগান বাড়লে সার্বিক দামস্তর বৃদ্ধি পায়। আর দামস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা অর্থের মূল্য হ্রাস পায়। বিপরীতভাবে, অর্থের প্রচলন গতি কমলে দামস্তর হ্রাস পায় এবং অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পায়। সুতরাং অর্থের প্রচলন গতি দামস্তরের মাধ্যমে অর্থের মূল্যকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. M তাঁর চিত্রে দামস্তর ও অর্থের মূল্যের মধ্যে বিপরীতমুখী বা ঋণাত্মক সম্পর্ক দেখিয়েছেন।
চিত্রের ভূমি অক্ষে দামস্তর (P) এবং লম্ব অক্ষে অর্থের মূল্য () নির্দেশ করা হয়েছে। হলো অর্থের মূল্য রেখা, যেখানে দ্বারা দামস্তর ও অর্থের মূল্যের মধ্যকার ঋণাত্মক ঢাল নির্দেশিত হয়েছে।
চিত্রে দেখা যায়, প্রাথমিক অবস্থায় দামস্তর যখন , তখন অর্থের মূল্য থাকে (বিন্দু P)। দামস্তর বৃদ্ধি পেয়ে থেকে হলে অর্থের মূল্য হ্রাস পেয়ে থেকে -এ নেমে আসে (বিন্দু Q)। আবার বিপরীতভাবে দামস্তর থেকে কমে হলে অর্থের মূল্য থেকে বেড়ে হয়।
সুতরাং দামস্তর বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্য কমে এবং দামস্তর হ্রাস পেলে অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পায়। মি. M তাঁর অঙ্কিত নিম্নগামী রেখার মাধ্যমে দামস্তর ও অর্থের মূল্যের মধ্যকার এই বিপরীত সম্পর্কটি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দামস্তর বৃদ্ধি পেলে (মুদ্রাস্ফীতি ঘটলে) সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয়, দায়-দেনা এবং ব্যয়ের প্রকৃতির ভিন্নতার কারণে কেউ আনন্দিত হয় আবার কেউ হতাশ হয়। উদ্দীপকের আলোকে এর কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আনন্দিত হওয়ার কারণ (কৃষক, দেনাদার, করদাতা ও ফটকা কারবারী):
- কৃষক ও ব্যবসায়ী/ফটকা কারবারী: কৃষিপণ্য ও মজুত পণ্যের দাম বাড়ার কারণে কৃষক এবং ফটকা কারবারীরা তাদের উৎপাদিত বা মজুতকৃত পণ্য চড়া দামে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা অর্জন করে, ফলে তারা আনন্দিত হয়।
- দেনাদার: ঋণের চুক্তি অনুযায়ী দেনাদারকে পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দেনাদার প্রকৃতপক্ষে কম মূল্যের অর্থ পরিশোধ করে লাভবান হয়।
- করদাতা: দাম বাড়ায় করদাতার আয় ও সম্পত্তির আর্থিক মূল্য বাড়ে, কিন্তু করের হার বা পরিমাণ স্থিতিশীল থাকলে তুলনামূলকভাবে কর পরিশোধের প্রকৃত বোঝা কমে যায়।
২. হতাশ হওয়ার কারণ (পাওনাদার, শ্রমিক ও সঞ্চয়কারী):
- পাওনাদার: পাওনাদার পূর্বের চুক্তিমতো নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ফেরত পেলেও অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পূর্বে প্রদত্ত অর্থের তুলনায় কম মূল্যের অর্থ পায়, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- শ্রমিক বা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ: এদের আর্থিক আয় বা মজুরি স্থির থাকে অথবা দামস্তরের অনুপাতে বাড়ে না। ফলে তাদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে, যার ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
- সঞ্চয়কারী: মুদ্রাস্ফীতির কারণে জমানো অর্থের বা স্থায়ী আমানতের ওপর অর্জিত সুদের প্রকৃত মূল্য হ্রাস পায় এবং ভবিষ্যৎ ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।
সুতরাং দেখা যায়, দামস্তর বৃদ্ধির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়ে আয়ের পুনর্বণ্টন ঘটে, যার ফলে দেনাদার ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়ে আনন্দিত হয় এবং স্থির আয়ের মানুষ, পাওনাদার ও সঞ্চয়কারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হতাশ হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও