সাহিত্য পাঠ • বিদ্রোহী • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ। জমিদার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আধারে হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করে। নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে তাঁর পুত্র নদের চাঁদের প্রেম তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ছুরি তোলে দেয়।
- ক)(1)
'বিলাসী' গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- খ)(2)
'বিলাসী' গল্পে বর্ণিত মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির পরিবেশ কেমন ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে 'বিলাসী' গল্পের কোন চরিত্র তুলনীয় ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি যেন 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।"- মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিলাসী' গল্পটি প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় (বৈশাখ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিলাসী' গল্পে বর্ণিত মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়িটি ছিল একটি বৃহৎ আম-কাঁঠালের বাগানের মধ্যে অবস্থিত। সেই বাগানের ভেতর দিয়ে একটি সরু পথ এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছিল এবং তার একপাশে ছিল পোড়ো এক প্রাচীরঘেরা ভগ্নাবশেষ দালান। বহুদিনের অযত্নে-অবহেলায় বাড়িটি জঙ্গলাকীর্ণ ও ভুতুড়ে রূপ ধারণ করেছিল, যেখানে দিনদুপুরেও গা ছমছম করত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'নদের চাঁদ' চরিত্রের সাথে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের 'মৃত্যুঞ্জয়' চরিত্রটি তুলনীয়।
'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ছিল উচ্চ বংশজাত কায়স্থ সন্তান। কিন্তু সে সামাজিক জাতপাত, বংশমর্যাদা ও শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নীচুজাত সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে ভালোবেসে আপন করে নিয়েছিল। সমাজের তীব্র ঘৃণা, উপহাস ও আত্মীয়দের নিপীড়ন সত্ত্বেও সে বিলাসীকে ত্যাগ করেনি।
উদ্দীপকের জমিদারপুত্র নদের চাঁদও নীচুজাত বেদেকন্যা মহুয়াকে ভালোবেসে সকল বৈষম্যকে উপেক্ষা করেছে। মহুয়ার প্রতি ভালোবাসার কারণে সে নিজের ধনসম্পদ ও পিতা-মাতাকে ত্যাগ করে গৃহহীন হয়েছে। প্রেম ও প্রিয় মানুষের জন্য সমাজের জাত-বর্ণ ও ঐশ্বর্য ত্যাগ করার এই মানসিকতার কারণে উদ্দীপকের নদের চাঁদের সঙ্গে গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের গভীর সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি যেন 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পে মানবিক প্রেম সব ধরনের জাত-কুল ও সমাজের সংকীর্ণ রক্তচক্ষুকে অতিক্রম করে এক শাশ্বত রূপ লাভ করেছে। সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর অক্লান্ত সেবায় মৃত্যুঞ্জয় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসে এবং জাতপাতের বাধা পেরিয়ে তাকেই স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে। সমাজপতিদের নির্যাতন, লাঞ্ছনা কোনো কিছুই তাদের বন্ধনকে ছিন্ন করতে পারেনি; বরং মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর বিলাসী বিষপানে আত্মাহুতি দিয়ে ভালোবাসার অমর মহিমা প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে মহুয়া ও নদের চাঁদের প্রেমেও জাত-শ্রেণির দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। জমিদারপুত্র নদের চাঁদ নীচুজাত বেদেকন্যা মহুয়ার প্রেমে পড়ে সমাজ ও পরিবার ত্যাগ করে। অন্যদিকে হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ছুরি তুলে দেয়। লোকগাথা অনুসারে মহুয়া নিজের ভালোবাসার মানুষকে হত্যা না করে আত্মবিসর্জন দিয়েছিল।
সুতরাং দেখা যায়, সামাজিক বা শ্রেণিগত বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে প্রেমের জন্য আত্মত্যাগ এবং পরিণামে এক ট্র্যাজিক অমরতার রূপায়ণে উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের প্রেমকাহিনিরই প্রতিফলন। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও