জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

ঢাকায় অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেনে শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সুন্দরী গাছ দেখতে পেল। শিক্ষক তাদেরকে জানালেন, এটা এক ধরনের সংরক্ষণ পদ্ধতি। তিনি আরও বললেন, জীব সম্প্রদায় রক্ষা না করতে পারলে সারা বিশ্ব অচিরেই হুমকির মধ্যে পতিত হবে।

  1. ক)

    প্রজাতি কী?

    (1)
  2. খ)

    ইকোলজিক্যাল পিরামিড ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং নিজেদের মধ্যে মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম জীবগোষ্ঠীকে প্রজাতি (Species) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন ট্রফিক স্তরের মধ্যকার পারম্পরিক সম্পর্ককে (যেমন—জীবের সংখ্যা, বায়োমাস বা শক্তির পরিমাণ) যখন ক্রমানুসারে একটি ত্রিভুজাকৃতির চিত্রে উপস্থাপন করা হয়, তখন তাকে ইকোলজিক্যাল পিরামিড বলে। এর ভূমিতে থাকে উৎপাদক এবং শীর্ষদেশে অবস্থান করে সর্বোচ্চ স্তরের খাদক। এটি সাধারণত সংখ্যার পিরামিড, বায়োমাসের পিরামিড এবং শক্তির পিরামিড—এই তিন ধরনের হয়ে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে সুন্দরী গাছ সংরক্ষণের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্যের 'এক্স-সিটু সংরক্ষণ' (Ex-situ conservation) পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।

    এক্স-সিটু সংরক্ষণ হলো কোনো জীবকে তার প্রাকৃতিক বা নিজস্ব আবাসস্থলের বাইরে অন্য কোনো অনুকূল ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এনে রক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করার পদ্ধতি। প্রাকৃতিক পরিবেশে যখন কোনো জীব বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ে বা মানবসৃষ্ট কারণে হুমকির সম্মুখীন হয়, তখন সেটিকে রক্ষা করার জন্য এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়।

    বোটানিক্যাল গার্ডেন ছাড়াও চিড়িয়াখানা, সিড ব্যাংক (বীজ ব্যাংক), জিন ব্যাংক, টিস্যু কালচার ল্যাব এবং ক্রায়োপ্রিজারভেশন ইত্যাদি এক্স-সিটু সংরক্ষণের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে সুন্দরী গাছটির প্রাকৃতিক আবাস সুন্দরবনের উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও সেটিকে ঢাকার বোটানিক্যাল গার্ডেনের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রতিপালন ও সংরক্ষণ করে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানো এবং গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি হলো—"জীব সম্প্রদায় রক্ষা না করতে পারলে সারা বিশ্ব অচিরেই হুমকির মধ্যে পতিত হবে।"—উক্তিটি জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।

    পৃথিবীর প্রতিটি জীব বাস্তুতন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালের মাধ্যমে জীবজগতে খাদ্য ও শক্তির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে। যদি কোনো একটি জীব সম্প্রদায় বা প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। উদ্ভিদের অনুপস্থিতিতে পরিবেশে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের অনুপাত বিঘ্নিত হবে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ভয়াবহ সংকট ডেকে আনবে।

    এছাড়া মানবজাতির খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, ওষুধসহ বেঁচে থাকার অধিকাংশ উপাদান সরাসরি জীবজগতের ওপর নির্ভরশীল। রোগবালাই প্রতিরোধ, মাটির উর্বরতা রক্ষা, পরাগায়ন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক কর্মকাণ্ড জীব সম্প্রদায়ের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে এবং মানব অস্তিত্ব চরম সংকটে পড়বে।

    সুতরাং, পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য, সুষম পরিবেশ এবং মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে উদ্দীপকের বক্তব্য অনুযায়ী জীব সম্প্রদায় রক্ষা করা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন