হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৫

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সুভাশীষ বাবু মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তিনি মাকে খুবই ভালোবাসেন। পড়ালেখায় তার ছিল অসামান্য মেধা। একদিন এক সাধুর সাথে তার সাক্ষাৎ হলে সাধু তাকে ব্রহ্ম সাধনার কথা বলেন। সাধুর পরামর্শে তিনি মোক্ষলাভের উদ্দেশ্যে ব্রহ্ম সাধনার জন্য গৃহত্যাগ করতে গেলে মা তাকে বাধা দেন। অবশেষে তিনি মাকে বুঝিয়ে বলেন যে, যেখানে থাকুন না কেন মায়ের অন্তিম সময়ে অবশ্যই পাশে উপস্থিত থাকবেন। এ কথা বলে তিনি চলে যান।

  1. ক)

    শ্রীশঙ্করাচার্য কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই'- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    শ্রীশঙ্করাচার্যের সাথে সুভাশীষ বাবুর চরিত্রের বৈসাদৃশ্যগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    শ্রীশঙ্করাচার্যের মতো সুভাশীষ বাবুও ছিলেন মাতৃভক্ত- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শ্রীশঙ্করাচার্য দাক্ষিণাত্যের কেরল রাজ্যের কালাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

  2. খ)

    ‘জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’ কথাটি শঙ্করাচার্যের অদ্বৈতবাদের মূল সুর। এর অর্থ হলো জীবের মধ্যে আত্মারূপে ব্রহ্ম বা ঈশ্বর বিরাজ করেন। তাই জীব ও ব্রহ্ম মূলত এক ও অভিন্ন। সব জীবের মধ্যে একই ব্রহ্ম আছেন, তাই প্রত্যেক জীবকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা করা উচিত।

  3. গ)

    শ্রীশঙ্করাচার্য ও সুভাশীষ বাবুর চরিত্রের মধ্যে কিছু বৈসাদৃশ্য আছে। সুভাশীষ বাবু মা-বাবার একমাত্র সন্তান, মেধাবী ও মাতৃভক্ত। তিনি সাধুর পরামর্শে মোক্ষলাভের জন্য ব্রহ্মসাধনায় গৃহত্যাগ করেন এবং মাকে কথা দেন যে মায়ের অন্তিম সময়ে পাশে থাকবেন।

    শঙ্করাচার্যের জীবনে এসব মিলের সাথে বেশ কিছু পার্থক্যও আছে। প্রথমত, গৃহত্যাগের কারণে পার্থক্য। শঙ্কর জ্যোতিষীদের মুখে নিজের স্বল্প আয়ুর কথা শুনে নিজে ভেবে মোক্ষলাভকে চরম লক্ষ্য ঠিক করেন, আর সুভাশীষ বাবু অন্যের (সাধুর) পরামর্শে গৃহত্যাগ করেন।

    দ্বিতীয়ত, শঙ্কর সন্ন্যাসের জন্য গুরু খুঁজে গোবিন্দপাদের কাছে দীক্ষা নেন। উদ্দীপকে সুভাশীষের গুরু বা দীক্ষার উল্লেখ নেই।

    তৃতীয়ত, শঙ্করাচার্য বেদান্তভাষ্য ও ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্য, মোহমুদ্গর প্রভৃতি রচনা করেন, অদ্বৈতবাদ প্রচার করেন এবং চার প্রান্তে চারটি মঠ স্থাপন করেন। সুভাশীষের এ ধরনের কোনো অবদান উদ্দীপকে নেই। শঙ্করের পিতা শিশুকালে মারা যান, আর সুভাশীষের বাবা-মা দুজনই আছেন বলে বোঝা যায়।

    সুতরাং, উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতার দিক থেকে শঙ্করাচার্য ও সুভাশীষ বাবুর মধ্যে বৈসাদৃশ্য আছে।

  4. ঘ)

    “শ্রীশঙ্করাচার্যের মতো সুভাশীষ বাবুও মাতৃভক্ত”—উক্তিটি যথার্থ। শঙ্করাচার্য মাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। মায়ের অন্তিম সময়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গৃহত্যাগ করেছিলেন এবং বাস্তবে তা রক্ষা করেছেন। উদ্দীপকের সুভাশীষ বাবুর মধ্যেও একই মাতৃভক্তি দেখা যায়।

    ১. মায়ের প্রতি ভালোবাসা: শঙ্কর অবসরে কেবল মায়ের সেবা করতেন। সুভাশীষ বাবুও মাকে খুবই ভালোবাসেন। দুজনই একমাত্র সন্তান হিসেবে মায়ের ওপর নির্ভরতা ও দায়িত্ব অনুভব করেন।
    ২. মায়ের অনুমতি ও সম্মান: সন্ন্যাসের সিদ্ধান্তে মা রাজি না হলে শঙ্কর অনেক বুঝিয়ে মাকে রাজি করান। সুভাশীষ বাবুও মা বাধা দিলে তাঁকে বুঝিয়ে সম্মতি আদায় করেন। কেউই মাকে অবজ্ঞা করে চলে যাননি।
    ৩. অন্তিম সময়ের প্রতিশ্রুতি: শঙ্কর বলেছিলেন, যেখানেই থাকুন, মায়ের অন্তিম সময়ে পাশে থাকবেন। সুভাশীষ বাবুও একই কথা বলেছেন। এতে মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যনিষ্ঠার পরিচয় মেলে।
    ৪. কর্তব্য ও আদর্শ: মাতৃভক্তি হিন্দুধর্মে পিতামাতার প্রতি অবশ্য কর্তব্যের অংশ। ধর্মসাধনার মতো মহান ব্রতেও তাঁরা মায়ের প্রতি কর্তব্য ভোলেননি।

    সুতরাং, মায়ের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও অন্তিম সময়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির কারণে সুভাশীষ বাবু শ্রীশঙ্করাচার্যের মতোই মাতৃভক্ত—উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন