ভূগোল এবং পরিবেশ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৬

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

রহিম চাচা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। একদিন সে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্ক সংকেত শুনতে পায়। সে বাসা ছেড়ে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যায়।
অন্যদিকে সবুর মিয়া একজন গরিব কৃষক। সম্প্রতি প্রচণ্ড তাপ ও দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে তার জমির ফসল মরে যাচ্ছে।

  1. ক)

    দুর্যোগ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভূমিকম্প প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    যে দুর্যোগের কারণে রহিম চাচা আশ্রয় কেন্দ্রে যায় তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সবুর মিয়ার অঞ্চলে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে, তাকে দুর্যোগ (Disaster) বলে।

  2. খ)

    বাংলাদেশের উত্তরে আসামের খাসিয়া-জয়ন্তিয়া পাহাড়, হিমালয়ের পাদদেশ এবং বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা যথেষ্ট। পূর্বাংশে টারশিয়ারি যুগের ভঙ্গিল পাহাড় আছে, যা গঠনগত কারণে ভূমিকম্পপ্রবণ। এছাড়া ভূ-গাঠনিক গতিময়তা এবং উত্তর-পূর্বে নাগা-দিসাং-জাফলং অঞ্চলের সংশ্লিষ্টতা ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়িয়ে তুলেছে। তাই বাংলাদেশ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

  3. গ)

    রহিম চাচা উপকূলীয় এলাকায় সতর্ক সংকেত শুনে আশ্রয়কেন্দ্রে যায়, অর্থাৎ দুর্যোগটি ঘূর্ণিঝড় (ও জলোচ্ছ্বাস)।

    কারণ:
    ১. ফানেল আকৃতির সাগর: বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির কারণে ঘূর্ণিঝড় সহজে উপকূলে আঘাত হানে এবং এর শক্তি বেড়ে যায়।
    ২. নিম্নচাপ: সাগরের উষ্ণ পানিতে সৃষ্ট নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে নিম্নচাপ ও চারপাশে উচ্চচাপ থাকে, ফলে বায়ু কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী হয়।
    ৩. মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে এবং মৌসুম পরিবর্তনের সময় (আশ্বিন-কার্তিক ও চৈত্র-বৈশাখ মাসে) ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।

  4. ঘ)

    সবুর মিয়ার প্রচণ্ড তাপ ও দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে জমির ফসল মরে যাওয়া খরা নির্দেশ করে। খরা মোকাবিলায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

    ১. বনায়ন: বেশি করে বৃক্ষরোপণ করে বনজ সম্পদ বাড়ালে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং বৃষ্টিপাতে সহায়তা হয়।
    ২. পানি সংরক্ষণ ও সেচ: পুকুর, খাল, বিল খনন করে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখা এবং এ পানি দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা।
    ৩. ভূগর্ভস্থ পানির সীমিত ব্যবহার: ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় কমানো, যাতে পানির স্তর নিচে নেমে না যায়।
    ৪. কৃষি ব্যবস্থাপনা: খরা সহনশীল ও স্বল্প পানিতে ফলে এমন ফসলের জাত চাষ করা এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া।

    সুতরাং, বনায়ন, পানি সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত কৃষির মাধ্যমে খরার ক্ষতি কমিয়ে সবুর মিয়ার মতো কৃষকদের রক্ষা করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন