হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৫

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অজয় বাবু ছোট কাল থেকে নম্র ও ভদ্র। গুরুজনদের সে সবসময় শ্রদ্ধা করে। আর্থিক অনটনে পড়ালেখা বেশি করতে পারেনি। প্রাপ্তবয়সে একটি টেক্সি চালিয়ে কোনো রকমে দু'বেলা দু'মুঠো খেয়ে জীবনধারণ করে। একদিন টেক্সি চালানো শেষ করে বাসায় ফেরার পথে টেক্সির ভেতরে একটি কাগজের প্যাকেট দেখতে পেয়ে তা বাসায় নিয়ে আসে। বাসায় গিয়ে দেখে প্যাকেটের মধ্যে অনেক টাকা। তখন সে প্যাকেটের গায়ে থাকা একটি মোবাইলে ফোন করে সব বললে, প্যাকেটের মালিক প্যাকেট নিতে এসে আবেগে আপ্লুত হয়ে অজয় বাবুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, এ প্যাকেট না পেলে তার আত্মহত্যা করা ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না। অবশেষে প্যাকেটের মালিক অজয় বাবুকে প্রচুর টাকা পুরস্কার দেন।

  1. ক)

    শিষ্টাচার কী?

    (1)
  2. খ)

    ধর্মপথ অনুসরণ-অনুশীলনের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    পাঠ্যবইয়ের কোন চরিত্রের সাথে প্যাকেটের মালিক চরিত্রের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায় তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অজয় বাবুর কৃতকর্মটি গরিব কাঠুরিয়ার সততার আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচরণকে শিষ্টাচার বলে।

  2. খ)

    ধর্ম অনুশীলনে পারিবারিক জীবনের ভূমিকা বলিষ্ঠ। পরিবারে আত্মসংযম, লোভদমন, অক্রোধ, সহমর্মিতা ও পরমতসহিষ্ণুতা শেখানো হলে সদস্যরা এসব গুণ অর্জন করে এবং সমাজে তা প্রয়োগ করে।

    পরিবারের সদস্যরা সততা, সত্যপ্রিয়তা ও মানবতার পথ অনুসরণ করলে সন্তানরাও ধর্মপথে চলতে শেখে। তাই পরিবারকে ধর্মচর্চা ও নৈতিক শিক্ষার প্রথম ক্ষেত্র বলা যায়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের প্যাকেটের মালিক চরিত্রের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের জলদেবী চরিত্রের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

    জলদেবীর ঘটনা: গরিব কাঠুরিয়ার কুঠার নদীতে পড়ে গেলে জলদেবী উঠে এসে সোনা ও রুপার কুঠার দেখান। কাঠুরিয়া সততার সঙ্গে জানান, ওগুলো তাঁর নয়, তাঁর কুঠার লোহার। কাঠুরিয়ার সততায় খুশি হয়ে জলদেবী তাঁকে লোহার কুঠারসহ সোনা-রুপার কুঠারও উপহার দেন। এতে কাঠুরিয়ার দারিদ্র্য দূর হয়।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্য: অজয় বাবু টাকাভর্তি প্যাকেট পেয়েও লোভ না করে মোবাইলে ফোন করে মালিককে জানান। মালিক এসে খুশি হয়ে অজয় বাবুকে প্রচুর টাকা পুরস্কার দেন। সততার পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে প্যাকেটের মালিক জলদেবীর মতোই আচরণ করেছেন।

    অতএব, সততাকে পুরস্কৃত করার দিক থেকে প্যাকেটের মালিক ও জলদেবী সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    অজয় বাবুর কাজটি পাঠ্যবইয়ের গরিব কাঠুরিয়ার সততা উপাখ্যানের আদর্শের সঙ্গে হুবহু মেলে। ‘সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা’, এ শিক্ষাই এখানে ফুটে উঠেছে।

    উপাখ্যানের সারকথা: গরিব কাঠুরিয়া নদীতে কুঠার হারিয়ে কাঁদলে জলদেবী সোনা ও রুপার কুঠার দেখান। কাঠুরিয়া লোভ না করে নিজের লোহার কুঠারটিই চান। সততায় তুষ্ট হয়ে জলদেবী তাঁকে তিনটি কুঠারই দেন। অন্যদিকে লোভী মোড়ল মিথ্যা বলে সোনার কুঠার দাবি করলে সবই হারায়।

    ১. লোভহীনতা: আর্থিক অনটনে থাকা অজয় বাবু ট্যাক্সিতে অনেক টাকার প্যাকেট পেয়েও তা নিজের করে নেননি। কাঠুরিয়াও অভাবের মধ্যে সোনার কুঠারে লোভ করেননি। দুজনের মধ্যেই ‘চুরি না করা’ ও সত্যনিষ্ঠার ধর্মীয় গুণ আছে।

    ২. সততার পুরস্কার: কাঠুরিয়ার সততার পুরস্কার ছিল সোনা-রুপার কুঠার, যাতে তাঁর দারিদ্র্য দূর হয়। অজয় বাবু মালিকের কাছ থেকে প্রচুর টাকা পুরস্কার পান। দুই ক্ষেত্রেই সততার ফল শুভ।

    ৩. মানবিক গুণ: অজয় বাবু প্যাকেটের মালিককে আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষা করেছেন, যা মানবতার পরিচয়। তিনি নম্র, ভদ্র ও গুরুজনদের শ্রদ্ধা করেন, যা শিষ্টাচারের উদাহরণ।

    ৪. ধার্মিকের পরিণতি: ধর্মগ্রন্থ অনুসারে ধার্মিক ইহলোকে শান্তি পান এবং ধর্মের জয় হয়। অজয় বাবু সেই সুফল পেয়েছেন।

    সুতরাং, অজয় বাবুর কৃতকর্ম কাঠুরিয়ার সততার মতোই প্রশংসনীয় ও আদর্শস্থানীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন