কৃষিশিক্ষা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত হয়ে মৎস্যচাষি হেলাল সাহেব মৎস্য সংরক্ষণ আইনের বিভিন্ন বিষয়ে অবগত হলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন— সব মাছ সবসময় ধরা যাবে না।মাছ ধরার জন্য কারেন্ট জাল ব্যবহার করা যাবে না প্রভৃতি। মৎস্য আইন অমান্য করলে জরিমানা হয়, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। তিনি পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত পুকুরটির পাড় ও তলদেশ মেরামত করে মাছ চাষের উপযোগী করেন। এ বছর তিনি পুকুরে কার্প জাতীয় মাছের সাথে তেলাপিয়ার মিশ্র চাষ করে সফলতা পান এবং অধিক মুনাফা অর্জন করেন ।
- ক)(1)
গরুকে দৈনিক কত কেজি শুকনো খড় দিতে হয়?
- খ)(2)
আলুর হাম পুলিং করা হয় কেন?
- গ)(3)
মৎস্যচাষি হেলাল সাহেবের পুকুরটির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
হেলাল সাহেবের উপলব্ধি মাছের আবাসস্থল রক্ষায় কতটুকু ভূমিকা রাখবে বলে তুমি মনে করো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
গরুকে দৈনিক সাধারণত ৩–৪ কেজি শুকনো খড় দিতে হয়।
- খ)
আলু তোলার আগে গাছের লতা-পাতা কেটে ফেলাকে হাম পুলিং বলে। এটি করা হয় যাতে লতাপাতা থেকে ভাইরাস ও অন্যান্য রোগ আলুর কন্দে ছড়াতে না পারে।
এর ফলে আলুর খোসা শক্ত হয়, সংরক্ষণে আলু ভালো থাকে এবং বীজ আলু সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকে। - গ)
হেলাল সাহেব পৈত্রিক পুকুর মেরামত করে মাছ চাষের উপযোগী করেছেন। মাছ চাষের উপযোগী পুকুরের বৈশিষ্ট্য—
১. পাড় ও তলদেশ: পাড় মজবুত, ফাটলমুক্ত এবং তলদেশ সমান থাকা চাই, যাতে পানি ঢুকে বা বেরিয়ে না যায়।
২. গভীরতা: পুকুরের গভীরতা মোটামুটি ১.৫–২.০ মিটার হওয়া ভালো, যাতে সারা বছর পানি থাকে।
৩. আলো-বাতাস: পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও বাতাস চলাচল থাকা দরকার, যেন প্রাকৃতিক খাদ্য ভালোভাবে জন্মায়।
৪. পানি ও মাটি: পানির সরবরাহ নিশ্চিত থাকতে হবে এবং মাটি পানি ধারণ-সক্ষম হতে হবে।
৫. নিরাপত্তা: পুকুর বন্যামুক্ত ও ক্ষতিকর প্রাণীমুক্ত থাকা প্রয়োজন। - ঘ)
হেলাল সাহেব উপলব্ধি করেছেন, সব মাছ সবসময় ধরা যাবে না এবং কারেন্ট জাল ব্যবহার করা যাবে না। এ উপলব্ধি মাছের আবাসস্থল ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
১. প্রজনন সুরক্ষা: নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে, ফলে মাছের সংখ্যা বাড়ে।
২. পোনা রক্ষা: কারেন্ট জালে ছোট মাছ ও পোনা ধরা পড়ে। এটি বন্ধ হলে জলাশয়ে মাছের ভবিষ্যৎ মজুদ রক্ষা পায়।
৩. জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা: আইন মেনে চললে পানি দূষণ ও জলজ বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
৪. সচেতনতা তৈরি: তাঁর দেখাদেখি অন্য জেলেরাও সচেতন হলে সম্মিলিতভাবে ফল পাওয়া যাবে।তবে একজনের উপলব্ধির প্রভাব সীমিত। সব মাছ চাষি ও জেলে আইন মানলে এবং সরকার আইন প্রয়োগ করলে আবাসস্থল পুরোপুরি রক্ষা পাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও