জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

আমেরিকার জিন বিজ্ঞানিরা গবেষণার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া থেকে বিশেষ একটি জিন তুলাগাছে স্থানান্তর করেন, যা কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী। আবার তাঁরা গবেষণাগারে উক্ত গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করেছেন।

  1. ক)

    সাইব্রিড কী?

    (1)
  2. খ)

    GMO কীভাবে সৃষ্টি করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত গাছের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত প্রযুক্তিটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি ভিন্ন প্রজাতির প্রোটোপ্লাস্টের মিলনের ফলে সৃষ্ট সংকর কোষে যদি কেবল একটি জনকের নিউক্লিয়াস এবং উভয় জনকের সাইটোপ্লাজম উপস্থিত থাকে, তবে তাকে সাইব্রিড (Cybrid বা Cytoplasmic Hybrid) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    GMO (Genetically Modified Organism) বা জিনগতভাবে পরিবর্তিত জীব মূলত রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ (recombinant DNA) প্রযুক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়।\n\nপ্রথমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী নির্দিষ্ট জিনটিকে দাতা জীব থেকে শনাক্ত ও রেস্ট্রিকশন এনজাইমের সাহায্যে কেটে পৃথক করা হয়। এরপর একটি উপযুক্ত বাহক বা ভেক্টরের (যেমন—প্লাজমিড ডিএনএ) সাথে লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে জোড়া লাগিয়ে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ অণু প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে এ রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ-কে উপযুক্ত পোষক কোষে (যেমন—ব্যাকটেরিয়া বা উদ্ভিদের কোষে) রূপান্তর (transformation) প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করিয়ে পোষকের জিনোমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এভাবে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে GMO সৃষ্টি করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে গবেষণাগারে কৃত্রিম উপায়ে উদ্ভিদের দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধির যে প্রক্রিয়াটির উল্লেখ রয়েছে, তা হলো উদ্ভিদের 'টিস্যু কালচার' বা 'মাইক্রোপ্রোপাগেশন' প্রযুক্তি।\n\nটিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার প্রধান ধাপসমূহ নিম্নরূপ:\n১. এক্সপ্ল্যান্ট (Explant) নির্বাচন: সুস্থ, নিরোগ ও কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ থেকে বিভাজনক্ষম অংশ (যেমন—শীর্ষ মুকুল বা কচি পাতা) এক্সপ্ল্যান্ট হিসেবে নির্বাচন ও সংগ্রহ করা হয়।\n২. পুষ্টি মাধ্যম (Culture medium) তৈরি: উদ্ভিদের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ পুষ্টি উপাদান, সুক্রোজ, ভিটামিন এবং ফাইটোহরমোন (অক্সিন ও সাইটোকাইনিন) সমৃদ্ধ উপযুক্ত মাধ্যম প্রস্তুত করে আগার যোগ করে সেমি-সলিড করা হয়।\n৩. নির্বীজকরণ বা অটোক্লেভিং: প্রস্তুতকৃত পুষ্টি মাধ্যম ও পাত্রগুলোকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা (১২১° সে.) ও চাপে (১৫ পাউন্ড/বর্গইঞ্চি) অটোক্লেভ যন্ত্রের সাহায্যে প্রায় ১৫-২০ মিনিট রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়।\n৪. এক্সপ্ল্যান্ট স্থাপন ও ক্যালাস সৃষ্টি: জীবাণুমুক্ত এক্সপ্ল্যান্টটিকে কালচার মাধ্যমে স্থাপন করে নিয়ন্ত্রিত আলো ও তাপমাত্রায় রাখা হয়। সেখানে কোষগুলো বিভাজিত হয়ে অবয়বহীন কোষপিণ্ড বা 'ক্যালাস' (Callus) গঠন করে।\n৫. অণুচারা (Plantlet) উৎপাদন: ক্যালাস থেকে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট হরমোনের প্রভাবে মূল ও বিটপ সৃষ্টি হয় এবং পূর্ণাঙ্গ অণুচারা বা প্ল্যান্টলেটে পরিণত হয়।\n৬. চারা টবে স্থানান্তর ও মাঠপর্যায়ে অভিযোজন: অণুচারাগুলো ল্যাবরেটরি থেকে সতর্কতার সাথে টবের মাটিতে স্থানান্তর করে ক্রমান্বয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে মাঠে চাষাবাদের উপযোগী করে তোলা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি (যার মাধ্যমে Bacillus thuringiensis নামক ব্যাকটেরিয়ার ক্রাই-জিন তুলাগাছে প্রবেশ করিয়ে বিটি তুলা তৈরি করা হয়েছে)। আধুনিক কৃষিব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতে এই প্রযুক্তিটির গুরুত্ব অপরিসীম:\n\n১. কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী জাত সৃষ্টি: ব্যাক্টেরিয়া থেকে স্থানান্তরিত জিন তুলাগাছে ক্রাই-প্রোটিন (Cry protein/Endotoxin) তৈরি করে, যা বোলওয়ার্ম (Bollworm) বা শুঁয়োপোকা জাতীয় ক্ষতিকর পোকার অন্ত্রে ছিদ্র সৃষ্টি করে সেগুলোকে মেরে ফেলে। ফলে পোকা দ্বারা তুলার ক্ষতি রোধ হয়।\n২. রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস: প্রাকৃতিকভাবেই উদ্ভিদ প্রতিরোধী হওয়ায় ফসলে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রা বহুলাংশে কমে যায়।\n৩. পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা: রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ হ্রাস পাওয়ায় মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ কমে এবং উপকারী কীটপতঙ্গ (যেমন মৌমাছি) রক্ষা পায়।\n৪. উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সুফল: পোকার আক্রমণ কমে যাওয়ায় তুলার ফলন বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় এবং কীটনাশক কেনার খরচ সাশ্রয় হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হন।\n৫. ফসলের গুণগত মান রক্ষা: পোকার সরাসরি আক্রমণ না হওয়ায় আঁশের মান চমৎকার থাকে, যা বস্ত্রশিল্পে অধিক গ্রহণযোগ্য।\n\nঅতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রযুক্তিটি ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষির উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন