ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. কামাল 'রূপসা ব্যাংকে' চাকরি করেন। ঈদ সেলামি হিসেবে তার মেয়ে ঐশীকে কিছু ৫ টাকা, ১০ টাকা ও ২০ টাকার নতুন নোট উপহার দিলেন। ঐশী জানতে চাইল এই নতুন টাকাগুলো 'রূপসা ব্যাংক' ছাপায় কিনা? মি. কামাল বললেন যে, কিছু টাকা সরকার ও কিছু টাকা 'গড়াই ব্যাংক' ছাপায় কিন্তু রূপসা ব্যাংক কোনো টাকা ছাপাতে পারে না।
- ক)(1)
অঙ্গীকারপত্র কী?
- খ)(2)
হস্তান্তরযোগ্য ঋণ দলিল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নোটগুলো কী ধরনের নোট ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
গড়াই ব্যাংকে'র পক্ষে বাংলাদেশের প্রচলিত ১ টাকা ও ২ টাকার নোট প্রচলন করা কী সম্ভব?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অঙ্গীকারপত্র হলো প্রস্তুতকারক কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি শর্তহীন লিখিত দলিল, যাতে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বা তার আদেশানুসারে বা দলিলের বাহককে চাহিবামাত্র বা নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ তারিখে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকার করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হস্তান্তরযোগ্য ঋণ দলিল হলো এমন একটি লিখিত ও আইনসিদ্ধ দলিল, যা কেবল অর্পণের মাধ্যমে বা পৃষ্ঠাঙ্কন ও অর্পণের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে সহজে হস্তান্তর করা যায় এবং হস্তান্তরগ্রহীতা এতে নির্ভেজাল ও উত্তম স্বত্ব লাভ করেন।
১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন অনুসারে চেক, বিনিময় বিল ও অঙ্গীকারপত্র হলো হস্তান্তরযোগ্য ঋণ দলিল। এ ধরনের দলিলের মাধ্যমে দেনা-পাওনা সহজেই নিষ্পত্তি করা যায় এবং গ্রহীতা পূর্ববর্তী হস্তান্তরকারীর স্বত্বের ত্রুটি থাকলেও আইনগতভাবে এর প্রকৃত মালিকানা পান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নোটগুলোর মধ্যে ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোট হলো ব্যাংক নোট এবং ৫ টাকার নোটটি সরকারি নোট (২০১৫ সালের সংশোধিত আইনানুযায়ী)।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত নোটকে ব্যাংক নোট বলে, যার ওপর 'চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে' কথাটি লেখা থাকে এবং এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে। অন্যদিকে, সরকার বা অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরাসরি প্রবর্তিত নোটকে সরকারি নোট বলে, যাতে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর থাকে।
উদ্দীপকে মি. কামাল তার মেয়েকে ৫ টাকা, ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোট উপহার দেন। বাংলাদেশের মুদ্রা ব্যবস্থা অনুযায়ী, ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে এবং এগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা 'গড়াই ব্যাংক' ছাপায়, ফলে এগুলো ব্যাংক নোট। অপরদিকে, বাংলাদেশে ১ টাকা, ২ টাকা এবং ৫ টাকার নোট হলো সরকারি নোট, যা সরকার ছাপায় ও এতে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, উদ্দীপকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'গড়াই ব্যাংক'-এর পক্ষে বাংলাদেশের প্রচলিত ১ টাকা ও ২ টাকার নোট প্রচলন করা সম্ভব নয়।
মুদ্রা আইন অনুযায়ী, দেশের প্রচলিত কাগুজে নোট মূলত দুই প্রকার: সরকারি নোট ও ব্যাংক নোট। কোনো দেশের সরকার বা অর্থ মন্ত্রণালয় সরাসরি যে নোট ইস্যু করে তা সরকারি নোট। বাংলাদেশে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার নোট বা ধাতব মুদ্রা হলো সরকারি মুদ্রা, যা সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় ইস্যু করে এবং এতে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধুমাত্র সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত এই সরকারি নোটগুলো বাজারে সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে, কিন্তু নিজস্ব কর্তৃত্বে এগুলো তৈরি বা প্রচলন করতে পারে না।
উদ্দীপকে 'গড়াই ব্যাংক' দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং 'রূপসা ব্যাংক' একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একক অধিকার রয়েছে ব্যাংক নোট (যেমন: ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০, ১০০০ টাকার নোট) প্রচলন করার। কিন্তু ১ টাকা ও ২ টাকার নোট হলো সরকারের নিজস্ব দায় ও সরকারি নোট। তাই এটি ইস্যু বা প্রচলনের আইনগত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কেবল সরকারের হাতে ন্যস্ত।
অতএব, আইনগত সীমাবদ্ধতা ও মুদ্রা ব্যবস্থার বিধিমালার কারণে গড়াই ব্যাংকের পক্ষে ১ টাকা ও ২ টাকার নোট নিজ ক্ষমতায় প্রচলন করা সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও