জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ড. জেসমিন জৈবপ্রযুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে এমন একটি আদিকোষী অণুজীবের কথা উল্লেখ করলেন যার বৃহৎ DNA ছাড়াও ক্ষুদ্র একটি বৃত্তাকার DNA অণু থাকে।
- ক)(1)
রেস্ট্রিকশন এনজাইম কী?
- খ)(2)
ক্যালাস কী - ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের উল্লিখিত অণুজীবটির চিহ্নিত চিত্র আঁক।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অণুটি জৈবপ্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব এনজাইম DNA অণুর নির্দিষ্ট ক্ষারক অনুক্রম বা সিকোয়েন্স চিনে নিয়ে সেখানে কর্তন করে, তাদেরকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম (বা আণবিক কাঁচি) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদ টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে কালচার মাধ্যমে এক্সপ্ল্যান্ট (কর্তিত টিস্যু) স্থাপন করার পর কোষগুলো বারবার মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে যে অবিভেদিত, অসংগঠিত কোষপিণ্ড তৈরি করে, তাকে ক্যালাস (Callus) বলে। ক্যালাসের কোষগুলো পরবর্তীতে উপযুক্ত হরমোনের প্রভাবে মূল ও কাণ্ড বিশিষ্ট অণুচারায় রূপান্তরিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া।
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়ার চিহ্নিত চিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় অংশসমূহ:
১. ক্যাপসুল বা স্লাইম স্তর (সবচেয়ে বাইরের আবরণ)।
২. কোষ প্রাচীর (পেপটিডোগ্লাইক্যান নির্মিত)।
৩. প্লাজমা মেমব্রেন এবং মেসোজোম।
৪. সাইটোপ্লাজম ও সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু (যেমন- ৭০S রাইবোজোম, ভলিউটিন)।
৫. নিউক্লিঅয়েড (ব্যাকটেরিয়ার প্রধান বৃত্তাকার DNA)।
৬. প্লাজমিড (অতিরিক্ত বৃত্তাকার DNA অণু)।
৭. ফ্ল্যাজেলা ও পিলি (পৃষ্ঠীয় প্রবর্ধন)।(পরীক্ষায় পরিষ্কার চিত্র অঙ্কন করে উল্লিখিত অংশগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র বৃত্তাকার DNA অণুটি হলো 'প্লাজমিড' (Plasmid)। রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তি তথা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্লোনিং বাহক বা ভেক্টর হিসেবে: প্লাজমিডের স্বপ্রজননশীলতা ও নির্দিষ্ট মার্কার জিন থাকার কারণে এটি কাঙ্ক্ষিত DNA খণ্ড বা জিনকে অন্য পোষক কোষে স্থানান্তরের প্রধান বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. কাঙ্ক্ষিত জিন সংযুক্তিকরণ: প্লাজমিডে নির্দিষ্ট রেস্ট্রিকশন সাইট থাকে, যা রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কেটে সহজেই লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে মানুষের ইনসুলিন বা ইন্টারফেরনের মতো নির্দিষ্ট জিন জোড়া দেওয়া যায়।
৩. ক্লোনিং ও জিন এক্সপ্রেশন: রিকম্বিন্যান্ট প্লাজমিড যখন উপযুক্ত পোষক ব্যাক্টেরিয়ায় (যেমন- E. coli) প্রবেশ করানো হয়, তখন ব্যাক্টেরিয়ার দ্রুত বংশবৃদ্ধির সাথে সাথে কাঙ্ক্ষিত জিনের অসংখ্য প্রতিরূপ তৈরি হয়।
৪. চিকিৎসায় ও ওষুধ উৎপাদনে: প্লাজমিড ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে মানব ইনসুলিন, বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন, হেপাটাইটিস-বি প্রতিষেধক, গ্রোথ হরমোন প্রভৃতি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
৫. উন্নত জাতের ফসল সৃষ্টি: Agrobacterium tumefaciens-এর Ti-প্লাজমিড ব্যবহার করে উদ্ভিদে কীট-পতঙ্গ প্রতিরোধী (যেমন- বিটি তুলা, বিটি বেগুন) এবং রোগ প্রতিরোধী ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।অতএব, প্লাজমিড ছাড়া আধুনিক রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তি পরিচালনা অসম্ভব, তাই জৈবপ্রযুক্তিতে প্লাজমিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও