সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
লেখার আবিষ্কার হয়েছে কোন যুগে?
- খ)(2)
"লৌহের আবিষ্কার সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন প্রত্নতাত্ত্বিকস্থানের নির্দেশ করা হয়েছে?ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত নিদর্শনগুলো বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসকে ধারণ করে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রোঞ্জ যুগে লেখার আবিষ্কার হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লৌহের আবিষ্কার মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল বলে একে সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি বলা হয়।
লোহার ব্যবহারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে উন্নত ও মজবুত লাঙলের ফলা, কুড়াল, কাস্তে ইত্যাদি তৈরি সম্ভব হয়, যা কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করে এবং বনজঙ্গল পরিষ্কার করে নতুন জনবসতি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়া লোহা দিয়ে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি হওয়ায় নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হয় এবং শ্রমবিভাজন বৃদ্ধি পায়। এভাবে সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান ও সভ্যতার কাঠামো শক্তিশালী করায় লৌহ আবিষ্কারকে সভ্যতার ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান 'পাহাড়পুর' (বা সোমপুর মহাবিহার)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল কর্তৃক অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকের শুরুতে নির্মিত হয়েছিল। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
উদ্দীপকের ছকে 'সোমপুর বিহার', 'গন্ধেশ্বরীর মন্দির' এবং 'সত্যপীর ভিটা'-এর উল্লেখ রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে পাহাড়পুরের মূল বিহার চত্বরে কেন্দ্রীয় মন্দিরের পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকায় গন্ধেশ্বরীর মন্দির এবং মূল কমপ্লেক্সের বাইরে সত্যপীর ভিটার সন্ধান পাওয়া যায়। সুতরাং, উল্লিখিত নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত নিদর্শনগুলো তৎকালীন বাংলার সমাজব্যবস্থা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক ইতিহাসকে প্রত্যক্ষভাবে ধারণ করে—উক্তিটি যথার্থ।
পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, গন্ধেশ্বরীর মন্দির এবং সত্যপীর ভিটা শুধু প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন নয়, বরং এগুলো প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার সামাজিক পরিবর্তনের প্রামাণ্য দলিল।
প্রথমত, সোমপুর বিহার পাল আমলে বৌদ্ধধর্মের প্রধান কেন্দ্র ও বিদ্যাচর্চার পীঠস্থান ছিল। এখানে চীন, তিব্বতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থী ও ভিক্ষুরা আসতেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রমাণ বহন করে।
দ্বিতীয়ত, পাহাড়পুর থেকে বৌদ্ধ দেবদেবীর মূর্তির পাশাপাশি অসংখ্য হিন্দু দেবদেবীর (যেমন: বিষ্ণু, শিব, গণেশ) পোড়ামাটির ফলক ও পাথরের ভাস্কর্য পাওয়া গেছে। এমনকি বিহার সংলগ্ন গন্ধেশ্বরীর মন্দির হিন্দু স্থাপত্যরীতির সাক্ষ্য দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, পাল যুগে সমাজব্যবস্থায় বৌদ্ধ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চমৎকার সহাবস্থান ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিদ্যমান ছিল।
তৃতীয়ত, 'সত্যপীর ভিটা' নামক স্থানটি মধ্যযুগে হিন্দু-মুসলিম লোকসংস্কৃতির মিলন এবং সুফি-পীর ঐতিহ্যের সামাজিক প্রভাব নির্দেশ করে। সত্যনারায়ণ এবং সত্যপীরের মিথস্ক্রিয়ায় গড়ে ওঠা সামাজিক ঐতিহ্য এখানে প্রতিফলিত হয়। এছাড়া পোড়ামাটির ফলকগুলোতে সেকালের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষিকাজ, শিকার, সংগীত, পোশাক-পরিচ্ছদ ও নৃত্যকলার জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে।
সুতরাং, এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, উদ্দীপকের নিদর্শনগুলো বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে সার্থকভাবে ধারণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও