হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
অমল তার বাবার মৃত্যুতে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় শবদাহ করেন। অন্যদিকে, হেমন্ত তার বন্ধু বসন্তকে মাথা - মুণ্ডন করা অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করলো, বন্ধু মাথা-মুন্ডন করেছো কেন? উত্তরে বসন্ত বললো, "মায়ের আত্মার শান্তির জন্য এ সংস্কারটি করতে হয়েছে। এ উপলক্ষে সাধ্যমতো দানও করতে হয়েছে।”
- ক)(1)
সমাবর্তন কাকে বলে?
- খ)(2)
জাতকর্ম করা হয় কেন?
- গ)(3)
অমলের পালনকৃত সংস্কারটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বসন্তের পালনকৃত সংস্কারটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পাঠ শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হয়, তাকে সমাবর্তন বলে।
- খ)
জন্মের পর পিতা যব, যষ্টিমধু ও ঘৃত দিয়ে সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করে মন্ত্রোচ্চারণ করেন। একে জাতকর্ম বলে। এটি হিন্দুদের দশবিধ সংস্কারের একটি। নবজাত শিশুর প্রথম মাঙ্গলিক সংস্কার হিসেবে এর মাধ্যমে শিশুর মঙ্গল ও সুস্থ জীবন কামনা করা হয়। তাই জন্মের পর এ সংস্কার করা হয়।
- গ)
অমলের পালনকৃত সংস্কারটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
'অন্ত্য' অর্থ শেষ এবং 'ইষ্টি' অর্থ যজ্ঞ। তাই অন্ত্যেষ্টি অর্থ 'শেষযজ্ঞ', অর্থাৎ অগ্নিতে মৃতদেহকে আহুতি দেওয়া। আত্মা দেহ থেকে বেরিয়ে গেলে দেহ জড় পদার্থে পরিণত হয় এবং ক্রমে পচে যায়। তাই শাস্ত্রে মৃতদেহের সৎকারের বিধান দেওয়া হয়েছে, যার নাম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
এর পদ্ধতি হলো: মৃতদেহকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড়, মালা ও চন্দনে সাজিয়ে শ্মশানে নেওয়া হয়। সপ্তছিদ্র আচ্ছাদন করে পিণ্ডদান করা হয়। চিতা সাজিয়ে মন্ত্রপাঠসহ সাধারণত জ্যেষ্ঠ পুত্র মুখাগ্নি করেন। দাহ শেষে সবাই স্নান করে পরিচ্ছন্ন হন।
উদ্দীপকে অমল বাবার মৃত্যুতে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সহযোগিতায় শবদাহ করেছেন। এটিই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। এর মাধ্যমে ধর্মীয় বিধি পালনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়েছে।
- ঘ)
বসন্তের পালনকৃত সংস্কারটি আদ্যশ্রাদ্ধ। মায়ের মৃত্যুর পর অশৌচ শেষে মস্তক মুণ্ডন, দান ও আত্মার শান্তি কামনায় এই অনুষ্ঠান করা হয়।
শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয়, তাই শ্রাদ্ধ। মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ করা হয়, তা আদ্যশ্রাদ্ধ। এতে মৃত ব্যক্তির নামে আসন, বস্ত্র, ছাতা, পাদুকা, অন্ন, জল ইত্যাদি মন্ত্রোচ্চারণসহ উৎসর্গ করে শেষে পিণ্ডদান করা হয়। আদ্যশ্রাদ্ধের গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ধর্মীয় গুরুত্ব: এটি শাস্ত্রীয় বিধান। শ্রদ্ধা ও দানের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। এই সময় গীতা ও মহাভারতের বিরাট পর্ব পাঠেরও বিধান আছে।
২. পারিবারিক গুরুত্ব: আত্মীয়স্বজন একত্র হয়ে পরিবারের শোকের সঙ্গে একাত্ম হন। এতে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়। বসন্তের মতো সন্তান এর মাধ্যমে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানায়।
৩. সামাজিক গুরুত্ব: পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা এসে সমব্যথী হন। এটি আত্মীয়স্বজনের মিলনমেলা, যাতে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাড়ে।
৪. দানের শিক্ষা: সাধ্যমতো দানের বিধান থাকায় সমাজের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও দানশীলতার শিক্ষা পাওয়া যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতার বীজ অঙ্কুরিত হয়।সুতরাং, আদ্যশ্রাদ্ধ ধর্মীয় কর্তব্য পালনের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ঐক্য, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও