হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
নিখিল বাবু নিয়মিত একটি যোগাসন অনুশীলন করেন। আসনটি অনুশীলনের সময় তার শরীর অনেকটা লাঙ্গলের মতো দেখায়। তার পা ও মাথা একই পাশে অবস্থান করে। তাছাড়া আসনটির অন্যান্য নিয়ম- কানুনগুলোও তিনি সঠিকভাবে অনুসরণ করেন। এর ফলে তার থাইরয়েড ও টনসিলের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মেরুদণ্ডের স্থিতিস্থাপকতাও বজায় রয়েছে।
- ক)(1)
পূরক কাকে বলে?
- খ)(2)
অহিংসা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
নিখিল বাবু কীভাবে আসনটি অনুশীলন করেন? পাঠের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
পাঠের আলোকে নিখিল বাবুর অনুশীলনকৃত আসনটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শ্বাস গ্রহণকে পূরক বলে।
- খ)
অহিংসা অষ্টাঙ্গযোগের প্রথম ধাপ যমের একটি অংশ। অহিংসা মানে কোনো প্রাণীকে মন, কথা ও কর্ম দ্বারা কষ্ট না দেওয়া। মনে মনেও কারও অনিষ্ট না ভাবা, কটু কথা না বলা এবং কাজে কারও প্রতি হিংসা না দেখানো—এসবই অহিংসা। এককথায় এটি ভালোবাসা, যা শুধু জীবের প্রতি নয়, নিখিল বিশ্বের প্রতিটি বস্তুর প্রতি।
- গ)
নিখিল বাবু যে আসনটি অনুশীলন করেন, তা হলাসন। লাঙ্গলের মতো দেহভঙ্গি এবং পা ও মাথা একই পাশে থাকার বর্ণনা হলাসনকেই নির্দেশ করে।
অনুশীলন পদ্ধতি: প্রথমে পা দুটো সোজা করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। উরু, হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া থাকবে এবং হাত দুটো সোজা করে শরীরের দুই পাশে রাখতে হবে। এরপর নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা দুটো জোড়া ও সোজা অবস্থায় আস্তে আস্তে উপরে তুলতে হবে এবং মাথার পেছনে যতদূর সম্ভব দূরে নিতে হবে, যেন পায়ের আঙুলগুলো মাটি স্পর্শ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর আস্তে আস্তে পা নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে গিয়ে ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে আসনটি তিনবার অনুশীলন করতে হয়।
সতর্কতা: যাদের আমাশয়, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং যাদের প্লীহা বা যকৃৎ অস্বাভাবিক বড়, তাদের এই আসন করা উচিত নয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে নিখিল বাবু আসনটির অন্যান্য নিয়ম-কানুনও সঠিকভাবে অনুসরণ করেন। অর্থাৎ তিনি উপরের পদ্ধতি মেনে শবাসনে বিশ্রামসহ তিনবার আসনটি অভ্যাস করেন। সুতরাং নিয়ম মেনে অনুশীলনের ফলেই তিনি উপকার পাচ্ছেন।
- ঘ)
নিখিল বাবুর অনুশীলনকৃত আসনটি হলাসন। 'হল' অর্থ লাঙ্গল; দেহভঙ্গি লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে এই নাম। নিয়মিত হলাসন অনুশীলনে শরীর ও মনে নানা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
১. মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব: হলাসন মেরুদণ্ডকে সুস্থ ও নমনীয় করে এবং এর স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ুকেন্দ্র ও মেরুদণ্ডের দুই পাশের পেশি সতেজ ও সক্রিয় হয়। উদ্দীপকে নিখিল বাবুর মেরুদণ্ডের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকার কারণ এটাই। পিঠের ব্যথা থাকলেও তা দূর হয়।
২. গ্রন্থির উপর প্রভাব: এই আসনে থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড ও টনসিল প্রভৃতি গ্রন্থি সবল ও সক্রিয় হয়। তাই নিখিল বাবুর থাইরয়েড ও টনসিলের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আছে।
৩. পরিপাকতন্ত্র ও অঙ্গের কর্মক্ষমতা: কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা প্রভৃতি পেটের যাবতীয় রোগ দূর হয়। প্লীহা, যকৃৎ ও মূত্রাশয়ের কর্মক্ষমতাও বাড়ে।
৪. দেহসৌষ্ঠব ও রোগ প্রতিরোধ: পেট, কোমর ও নিতম্বের মেদ কমে দেহ সুঠাম ও সুন্দর হয়। ডায়াবেটিস, বাত বা সায়াটিকা হয় না এবং কাঁধ শক্ত হয়ে গেলেও উপকার পাওয়া যায়।
তবে আমাশয়, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এই আসন করা উচিত নয়।
সুতরাং, হলাসন নিয়মিত অনুশীলনে মেরুদণ্ড, গ্রন্থি ও পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকে এবং দেহ-মন সুস্থ ও সুন্দর হয়; নিখিল বাবুর উপকারও এরই প্রমাণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও